Coronavirus

নতুন কোভিড হাসপাতালের কাজ শেষের মুখে

ভবিষ্যতে সংক্রমণ বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে আন্দাজ করে লোকালয় থেকে দূরে বেশি শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নিয়েছিল জেলা প্রশাসন।

Advertisement

দয়াল সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২০ ০৫:৫৯
Share:

তোড়জোড়: প্রায় শেষ কাজ। নিজস্ব চিত্র

জেলায় করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে নতুন কোভিড হাসপাতালের। সেই লক্ষ্যেই দুবরাজপুরের বন্ধ থাকা যক্ষ্মা হাসপাতালকে ১৬২ শয্যার কোভিড হাসপাতালে রূপান্তরিত করার কাজ প্রায় শেষ। রোগী ভর্তি করতে এখনও দিন সাতেক সময় প্রয়োজন। তবে আপাতত ওই হাসপাতালে উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গযুক্ত কোভিড রোগীদেরই চিকিৎসা হবে।

Advertisement

বীরভূমের জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলেন, ‘‘মহকুমাশাসক (সিউড়ি সদর) রিপোর্ট দিলেই কোভিড হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্য দফতরের অনুমোদন নেওয়া-সহ আনুষঙ্গিক আরও কিছু কাজ মিটিয়ে প্রয়োজনে দিন সাতেক পর থেকেই ওই হাসপাতালে কোভিড পজ়িটিভ রোগীদের ভর্তি করা যাবে।’’

জেলা প্রশাসনের পক্ষে আশার কথা, দিন দুয়েক সংক্রমণের গতি কিছুটা হলেও ধীর হয়েছে। আক্রান্তদের সেরে ওঠার হারও উল্লেখযোগ্য। কিন্তু, এ সব ছাপিয়েও প্রতিদিন আক্রান্তের সন্ধান মিলছে জেলার নানা প্রান্ত থেকে। অনেকের ক্ষেত্রেই সংক্রমণের উৎস বোঝা যাচ্ছে না, শরীরে উপসর্গও থাকছে না।

Advertisement

মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা ২৫৭। বোলপুর এবং রামপুরহাট কোভিড হাসপাতালের সীমিত সংখ্যক বেড থাকায় উপসর্গযুক্ত রোগীদের বাইরে এত সংখ্যক উপসর্গহীন রোগীর চিকিৎসা কোথায় হবে, বা তাঁদের আলাদা করে রাখা যায়—সেটা জেলা প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ভবিষ্যতে সংক্রমণ বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে আন্দাজ করে লোকালয় থেকে দূরে বেশি শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নিয়েছিল জেলা প্রশাসন। বোলপুর ও রামপুরহাটে এ রকম দু’টি হাসপাতাল ‘রেডি’ করে উপসর্গহীনদের জন্য কোভিড হাসপাতাল গড়ার জন্য অনুমোদন পেয়েছে জেলা। তবে, সমস্যা ছিল সিউড়ি মহকুমাকে ঘিরেই। তার কারণ, সিউড়িতে কোভিড হাসপাতাল গড়ার উপযুক্ত জায়গা না পাওয়া। তখনই প্রশাসনের মাথায় আসে, দুবরাজপুরের হেতমপুর পঞ্চায়েতের অধীনে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা নিরাময় যক্ষ্মা হাসপাতালের কথা। পাঁচের দশকের শেষ ভাগে গড়ে উঠা ৩৩০ শয্যার ওই হাসপাতালে এখন কেবল আউটডোর পরিষেবা চালু আছে। ২০১২ সালের নভেম্বর থেকে ইন্ডোর পরিষেবা বন্ধ। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ভবনটি অক্ষত থাকলেও দরজা-জানলা, হাসপাতালের বেড চুরি হয়ে গিয়েছিল।

সেই যক্ষ্মা হাসপাতালের চারটি ওয়ার্ডকে গত ২ জুন থেকে যুদ্ধাকালীন তৎপরতায় কোভিড হাসপাতালে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছে জেলা প্রশাসন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, জেলায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত ২৫৭ জনের মধ্যে ১৪ জন বাদে সকলেই ছাড়া পেয়েছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, চিকিৎসা প্রয়োজন না হলেও উপসর্গহীনদের বেশ কয়েক দিন আলাদা রাখতেই হবে। কারণ ছেড়ে দিলে অন্যদের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এমন রোগীদের জন্যই নিরাময়ের মত কোভিড হাসপাতালের প্রয়োজন। জেলাশাসকের কথায়, ‘‘আমাদের তৈরি থাকতে হবে। কখন সংক্রমণ বেড়ে যায়, বলা যায় না। সেই জন্যই নিরাময়কে কোভিড হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়েছে। রোগীদের দু’বেলা দেখভালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা থাকবেন। থাকবে একটি অ্যাম্বুল্যান্স।’’

প্রশাসন সূত্রের খবর, বোলপুর লেভেল ফোর কোভিড হাসপাতালের সঙ্গেই যুক্ত থাকবে নিরাময় হাসপাতাল। এ ছাড়া, বোলপুর কোভিড হাসপাতালের শয্যা সংখ্যাও ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৮০ করা হচ্ছে। দোতলাটি ফাঁকা রয়েছে, শয্যা বাড়ানো হবে সেখানেই। বীরভূম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি বলছেন, ‘‘প্রচুর সংখ্যায় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, ভেন্টিলেটর-সহ অন্যান্য পরিকাঠামো না থাকায় চার দিকে সিরিয়াস কোভিড রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্র গড়া সম্ভবও নয়। সেই জন্যই বোলপুর কোভিড হাসপাতালেই শয্যার সংখ্যা বাড়ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement