গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ নির্মাণ। ছবি: দয়াল সেনগুপ্ত।
অবশেষে জড়তা কাটিয়ে তৎপর হল প্রশাসন। হেতমপুরে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজে বাধা হয়ে থাকা অবৈধ নির্মানগুলি ভাঙার অভিযান শুরু হল বৃহস্পতিবার।
মহকুমা শাসক (সিউড়ি সদর মহকুমা)অরুন্ধতী ভৌমিকের নেতৃত্বে এ দিনই অবৈধভাবে রাস্তা দখলকরে থাকা বেশ কয়েকটি বাড়ি দোকান ভাঙা পড়েছে। সেই তালিকায় শাসকদলের স্থানীয় হেতমপুর উপপ্রধানের বাড়িটিও রয়েছে। মহকুমা শাসক ছাড়াও অভিযানে ছিলেন পূর্ত সড়ক বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়র সুমিত বিশ্বাস, দুবরাজপুরের বিডিও সুশান্ত কুমার বালা এবং ডিএসপি (সদর) পার্থ ঘোষের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। মহকুমাশাসক জানিয়েছেন, ‘‘সময় দেওয়া হয়েছিল। কাজ হয়নি। রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য চিহ্নিত সরকারি জায়গায় যে সব বাড়ি বা দোকান রয়েছে সেগুলি সব ভেঙে ফেলা হবে।’’
তবে হেতমপুরবাসীর একটা বড় অংশ এবং প্রশাসন চাইলেও অবৈধ নির্মান ভেঙে ফেলার কাজটি মোটেও সহজে হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন তিনবার নোটিসেও সরেনি দখলদেরেরা। এমনকী মঙ্গলবার অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েও পিছিয়ে যায় প্রশাসন। তার পিছনে অবশ্য শাসকদলের স্থানীয় উপপ্রধান-সহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির আপত্তিকেই দায়ী করেছেন স্থানীয় মানুষ। শেষ পর্যন্ত প্রশাসন দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ায় খুশি এলাকাবাসী। তবে যাঁদের বাড়ি বা দোকান ভাঙা পড়ল এদিন তাঁরা মোটেই খুশি হতে পারেননি। চোখের সামনে এ ভাবে নিজেদের বাড়া বা দোকান ভাঙা পড়লে ক্ষোভ স্বাভাবিক। দু’ একজন মৃদু প্রতিবাদ করলেও তবে সেই ক্ষোভের তেমন বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়নি। প্রশাসনও নিজের কাজ থামায়নি।
প্রসঙ্গত দুবরাজপুর শহরের যানজট সমস্যা এড়াতে এবং হেতমপুরবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি মেনে গত ডিসেম্বরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি রাস্তার কাজে হাত দেয় পূর্ত দফতর (সড়ক)। বরাদ্দ খরচ প্রায় আড়াই কোটি টাকা। প্রথম রাস্তাটি দুবরাজপুরের কামারশাল মোড় থেকে হেতমপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে গিয়ে পানাগড়-দুবরাজপুর ১৪ নম্বর রাজ্য সড়কে গিয়ে মিশছে। দৈর্ঘ্য সাড়ে প্রায় তিন কিলোমিটার। নাম ফিডার রোড। হেতমপুর রাজবাড়ির একটু আগেই ওই রাস্তা থেকে আরও একটি ১.২ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা তৈরি হচ্ছে। যেটি দুবরাজপুরের সাতকেন্দুরীর কাছে উঠবে। ওই রাস্তা হল ‘লিঙ্ক রোড’ দু’টি রাস্তাই ১৮ ফুট চওড়া হওয়ার কথা। লিঙ্ক রোডটির কাজ নির্বিঘ্নে শেষ করা গেলেও গোলবাধে ফিডার রোডের কাজ করতে গিয়ে। ওই রাস্তার উপরে বেশ কিছু অবৈধ দখলদারের কব্জা থাকায় হেতমপুরের প্রতীচী পল্লি থেকে ডাঙালপাড়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার কাজে হাত দেওয়া যাচ্ছিল না।
ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর অবৈধ নির্মাণগুলিকে চিহ্নিত করার পর দেখা যায় প্রয়োজনীয় চওড়া করতে এলাকার বেশ কিছু বাড়ি ও দোকান ভাঙা পড়ত। আ র সেটা করতে গিয়েই সমস্যা হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাস্তা যখন হচ্ছে তখন সব জায়াগায় নির্দিষ্ট মাপ এবং নিয়ম মেনেই হোক। অন্যদিকে যাঁদের বাড়ি বা দেকান ভাঙা পড়ছে তাঁদের প্রবল আপত্তি ছিল। সেই তালিকায় ছিলেন উপপ্রধান নীলোৎপল মুখোপাধ্যায়ের বাড়িটিও। শাসকদলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে পূর্ত দফতর পাছে পিছিয়ে আসে, এই আশঙ্কায় একাধিকবার এলাকার বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপিও দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ‘‘অবৈধ নির্মাণ না ভাঙলে, কাজ করতে দেবেন না তাঁরা।’’
এর পর তিন তিনবার অবৈধ নির্মাণ সারিয়ে ফেলার নোটিশ হয়েছে। রাস্তার ধারে থাকা দু’চারজন এলাকাবাসী দাবি মেনে নিজেদের অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে শুরু করলেও উপপ্রধান সহ বেশ কয়েকটি বাড়ি বা দোকানের মালিক নোটিশে ভ্রুক্ষেপ করেননি। পূর্তবিভাগের আশঙ্কা ছিল বর্ষার আগে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে না ফেললে কাজ না করেই ঠিকাদার কাজ থেকে হাত গুটিয়ে নেবেন তখন চরম সমস্যা হবে।
সেই অসমাপ্ত কাজেই হাত দিল প্রশাসন। পূর্ত সড়ক বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়র সুমিত বিশ্বাস বলেন, ‘‘যাঁদের বাড়ি ভাঙা পড়ল তারা অবৈধ ভাবে বাড়ি বা দোকান করেছিলেন বলেই অপ্রিয় কাজটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হল। রাস্তাটা সকলের স্বার্থেই হচ্ছে। আর যাঁদের বাড়ি বা দোকান ভাঙা পড়ল রাগে গজগজ করতে করতে তাঁদের অনেকেই বললেন এবার সকলের শান্তি হল।’’