(বাঁ দিক থেকে) মুকুল রায়, শুভ্রাংশু রায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। প্রথমে ঠিক ছিল, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সচিবালয়। কিন্তু আইনি পরামর্শের পর স্থির হয়েছে, এই সংক্রান্ত বিষয়ে আর কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘‘যেহেতু ওই মামলার পার্টি ছিলেন মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়, তাই এই সংক্রান্ত বিষয় তাঁদের পক্ষ থেকে উদ্যোগী হতে হবে। বিধানসভা আর এ ক্ষেত্রে কোনও পদক্ষেপ করবে না।’’ অর্থাৎ, পিতার বিধায়কপদ খারিজ মামলা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন স্পিকার বিমান। এ ক্ষেত্রে কোনও পদক্ষেপ করার আগে দলের মতামত নিতে চাইছেন মুকুল-পুত্র।
বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু বলেছেন, ‘‘এ বিষয়ে আমি দলের মতামত নিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ করতে চাই।’’ কলকাতা হাইকোর্ট ১৩ নভেম্বর ২০২৫-এ মুকুলের বিধায়কপদটি খারিজ করে দেয়। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি শব্বর রশিদি এই রায় দেন। এই রায়টি দলত্যাগ বিরোধী আইনানুযায়ী করা হয়েছে বলে দাবি বিজেপি পরিষদীয় দলের। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন মুকুল। ২ মে জয়ী হওয়ার পর ১১ জুন তিনি পুনরায় তৃণমূলে যোগ দেন। এর পরই তাঁর বিধায়কপদ খারিজের দাবি তোলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু স্পিকারের কাছে আবেদন জানান, দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুসারে মুকুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ফল না পেয়ে মুকুলের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে মামলা করেছিলেন শুভেন্দু। প্রথমে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়। কিন্তু শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, এই মামলার নিষ্পত্তি কলকাতা হাই কোর্টেই করতে হবে। এর পর শুভেন্দু কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মুকুল পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যান পদে কেন থাকবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পৃথক মামলা করেছিলেন বিজেপির কল্যাণীর বিধায়ক অম্বিকা রায়। দু’টি মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির বেঞ্চে। ১৩ নভেম্বর আদালত রায় ঘোষণা করে বলে দলত্যাগ বিরোধী আইনে খারিজ করা হচ্ছে মুকুলের বিধায়কপদ।
তৃণমূল পরিষদীয় দলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, যেহেতু বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র মাস দুয়েক বাকি রয়েছে, মুকুলের বিধায়কপদ খারিজ মামলা নিয়েও আগ্রহ নেই কোনও পক্ষের। তাই এ বিষয়ে তৃণমূল পরিষদীয় দল বা বিধানসভার সচিবালয় খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। এ ক্ষেত্রে মুকুল-পুত্র যদি দলের অবস্থান জানতে চায় তা হলে তাঁকে অবশ্যই দলীয় অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রসঙ্গত, প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল ২০২১ সালে প্রথম বার কোনও নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন। তবে তার পর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের পর বিধানসভার কোনও অধিবেশনে যোগদান করেননি তিনি। আর গত কয়েক বছর ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন হাসপাতালে, তা-ও আবার অচৈতন্য অবস্থায়। তাই বিধায়কপদ নিয়ে তাঁর আর কোনও উৎসাহ নেই বলেই জানাচ্ছেন তাঁর একদা অনুগামীরা।