Annapurna Bhandar

সব লক্ষ্মী নন অন্নপূর্ণা, বাদ সাড়ে ৫ লক্ষ

পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো লক্ষ্মীর ভান্ডার বদলে যাচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনায়। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের নির্দেশে লক্ষ্মীর ভান্ডারের উপভোক্তা তালিকা যাচাইয়ের কাজও শুরু হয়েছে।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ০৮:০৭
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকা (সাবেক লক্ষ্মীর ভান্ডারের) থেকে মহিলা উপভোক্তাদের নাম বাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ‘চিহ্নিত’ হওয়া এই উপভোক্তার সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লক্ষ পার করে গিয়েছে। এর আগেই রাজ্য সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছিল, ভোটের পর্বে বাদ পড়া নামগুলি থাকবে না নতুন উপভোক্তা তালিকায়। সেই সূত্রে গত এসআইআরে বাদ যাওয়া নামের সংখ্যার (প্রায় ২৯ লক্ষের হিসাবে) তুলনায় এখনই তা প্রায় ১৯%। ফলে এখনই রাজ্যের সাশ্রয় মাসে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা। গোটা বছরে প্রায় ১৯৮২ কোটি টাকা। যদিও যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে। ফলে সংখ্যার হেরফের হতে পারে আরও।

পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো লক্ষ্মীর ভান্ডার বদলে যাচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনায়। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের নির্দেশে লক্ষ্মীর ভান্ডারের উপভোক্তা তালিকা যাচাইয়ের কাজও শুরু হয়েছে। গত এসআইআর পর্বে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছিল অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত এবং ডুপ্লিকেট (এএসডিডি) হিসাবে, তাঁদের নাম উপভোক্তা তালিকা থেকেও বাদ যাচ্ছে। তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির আওতায় বাদ পড়া উপভোক্তাদের যাঁরা ট্রাইবুনালে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিলেন এবং সেখানেও যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তালিকায় থাকবে না সেগুলিও। যাঁদের নাম এখনও ট্রাইবুনালে বিবেচনাধীন, তাঁদের নামও চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিবেচনাধীনেরা যোজনার সুবিধা পাবেন। তাই চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়ায় সব আবেদনকারীর নামও নথিবদ্ধ রাখতে বলা হয়েছে মঞ্জুর হওয়া, মঞ্জুর না হওয়া অথবা বিবেচনাধীন হিসাবেই।

এক কর্তার কথায়, ‘‘ট্রাইবুনালে বাদ গেলে উপভোক্তা তালিকা থেকেও নাম বাদ যাবেন। যোগ্য হিসাবে চিহ্নিত হলে তবেই তাঁরা তা পাবেন। তাই চিহ্নিতকরণ চলছে আপাতত। মোট সংখ্যার মধ্যে কিছু অংশ এমনগোত্রের রয়েছে।’’

এএসডিডি গোত্রের অধীনে এসআইআরের সময় বাদ যায় প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম। তার অর্ধেক মহিলা, এমনটা ধরে নিলে সংখ্যাটা আনুমানিক ২৯ লক্ষ হয়। অন্নপূর্ণা যোজনায় ২৫-৬০ বছর পর্যন্ত মহিলা উপভোক্তারা মাথাপিছু তিন হাজার টাকা করে মাসিক আর্থিক বরাদ্দ পেতে পারেন। এই গোত্রটি ধরলে এএসডিডি গোত্রভুক্ত মহিলাদের সংখ্যাটা আরও কিছুটা কমে। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা পুর-এলাকা-সহ ২৩টি জেলা মিলিয়ে চিহ্নিত উপভোক্তার মোট সংখ্যা ৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫২৮ জন। প্রথম পাঁচ জেলার মধ্যে রয়েছে মুর্শিদাবাদ (১,৩৮,৪৮১), উত্তর দিনাজপুর (৬৩,৫৫২), মালদহ (৫১,১৫৭), উত্তর ২৪ পরগনা (৪৩,০৭১) এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩৯,০৫৬)। লক্ষ্মীর ভান্ডারে ২.২১ কোটি উপভোক্তা থাকার দাবি করেছিল বিগত সরকার।

জেলা-আধিকারিকদের ব্যাখ্যায়, চলতি যাচাই-সমীক্ষা কঠিন ও জটিল। কারণ, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের তালিকায় নাম, আধার নম্বর, এলাকা ধরে উপভোক্তার পরিচয় থাকত। তবে নির্বাচন কমিশনের খাতায় তা নাম, পার্ট-সিরিয়াল নম্বর, ভোটার কার্ডের নম্বর ধরে থাকে। যে হেতু এএসডিডি গোত্র ধরে যাচাই চলছে, ফলে ভোটার তালিকায় থাকা সংশ্লিষ্টদের প্রতিটি পার্ট-সিরিয়াল নম্বর ধরে এলাকা চিহ্নিত করতে হচ্ছে প্রথমে। তার পরে উপভোক্তার নাম চিহ্নিত করে হচ্ছে যাচাই। একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। ফলে সতর্ক থাকতে হচ্ছে সে দিক থেকেও। তাতে যে নামগুলি এএসডিডি তালিকার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে, দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলি। তবে প্রশ্ন উঠছে, মৃত ব্যক্তিদের নামও কি থেকে গিয়েছিল লক্ষ্মীর ভান্ডারের উপভোক্তা তালিকায়! যদিও, জন্ম-মৃত্যুর নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টাল রয়েছে। কোনও ব্যক্তির মৃত্যু হলে সেই পোর্টালে নাম নথিবদ্ধ হয় এমনিতেই। ফলে বিপুল অঙ্কের অর্থ এত দিন ধরে জলে গিয়েছে কি না, তা প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য আধিকারিকদের একাংশের যুক্তি, একাধিক বার যাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠালেও তা ‘বাউন্স’ করেছিল, তাঁরা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন না।

লক্ষ্মীর ভান্ডারে আয়ের মানদণ্ড না থাকলেও, অন্নপূর্ণা যোজনার বলা হয়েছে, মহিলা উপভোক্তা আয়কর দিলে তিনি সেই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ফলে আরও বেশ কিছু উপভোক্তা বাদ পড়তে পারেন মূল তালিকা থেকে। তাতে বছরে রাজ্য সরকারের সাশ্রয়ের অঙ্ক আরও বাড়বে সন্দেহ নেই।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন