মনোনয়ন জমা দিলেন (বাঁ দিকে) রাজীব কুমার, মেনকা গুরুস্বামী, কোয়েল মল্লিক এবং বাবুল সুপ্রিয়। রাহুল সিংহ (ডান দিকে)। বৃহস্পতিবার বিধানসভায়। —নিজস্ব চিত্র।
রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মনোনয়ন জমা দিলেন পাঁচ জন প্রার্থী। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের পক্ষে চার জন এবং বিজেপির পক্ষে এক জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তৃণমূলের পক্ষে মনোনয়ন জমা দেন প্রাক্তন আইপিএস রাজীব কুমার, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক, আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী, এবং রাজ্যের মন্ত্রী তথা গায়ক বাবুল সুপ্রিয়। অন্য দিকে, ভ্রান্তি-বিলম্ব কাটিয়ে বিজেপির তরফে একমাত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন রাহুল সিংহও।
বৃহস্পতিবার প্রথমার্ধে বিধানসভায় আসেন রাজীব, কোয়েল ও মেনকা, কিছুটা পরে আসেন বাবুল। বিধানসভায় মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষের ঘরে ওই চার প্রার্থীর মনোনয়নের যাবতীয় কাজকর্ম হয়। পরে বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ তাঁরা বিধানসভার সচিব তথা রাজ্যসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সৌমেন্দ্রনাথ দাসের কাছে যান। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক প্রমুখ। সব প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
অন্য দিকে, বিজেপি প্রার্থী রাহুল মনোনয়ন জমা দেন বেশ কিছুটা দেরিতে। যদিও তিনি তৃণমূল প্রার্থীদের আগেই বিধানসভায় এসে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে নিজের মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দেন। বিরোধী দলনেতা ছাড়াও রাহুলের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এ ছাড়াও বিজেপির বেশ কিছু বিধায়কও রাহুলের মনোনয়ন পর্বে উপস্থিত ছিলেন। তবে বারবার নথিপত্র ঠিক মতো জোগাড় না হওয়ায় মনোনয়ন জমা দিতে বিলম্ব হয়। এক সময় অধৈর্য হয়ে পড়েন রাহুল। কিন্তু বিজেপি পরিষদীয় দল এবং রাজ্য সংগঠনের উদ্যোগে মনোনয়ন সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা হলে শেষে দুপুর ২.৩০-এর কিছু আগে মনোনয়ন জমা দেন রাহুল। প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সাল থেকে রাহুল লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটে ন’বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও কখনও জয়লাভ করতে পারেননি।
শুক্রবার এই পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি হবে। আগামী সোমবার, ৯ মার্চ প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন। যেহেতু পাঁচটি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচন ছিল আর পাঁচ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, তাই এ বার আর ভোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেই মনোনয়ন জমা দেওয়া পাঁচ প্রার্থীকে জয়ের শংসাপত্র দিয়ে দেওয়া হবে। আগামী এপ্রিল মাস থেকে এই পাঁচ জন সাংসদের মেয়াদ শুরু হবে। ২০৩২ সালের এপ্রিল মাসে এই পাঁচ জন সংসদ সদস্যের মেয়াদ শেষ হবে।