Baranagar TMC Leader Arrested

টাকা না-পেয়ে মহিলাকে বন্দুকের বাট দিয়ে হেনস্থা! শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ, বরাহনগরে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বরাহনগরের হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা থেকে গোলমালের খবর পাওয়া যায়। বনহুগলির বাসিন্দা এক মহিলা শঙ্করদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ১২:২৪
Share:

বরাহনগরে তৃণমূল নেতা-সহ ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বরাহনগরে তৃণমূল নেতা শঙ্কর রাউত-সহ ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারধর, ভয় দেখানো এবং শ্লীলতাহানির মতো অভিযোগ রয়েছে। বনহুগলি এলাকায় এক মহিলার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা তাঁরা নিয়ে নেন বলে অভিযোগ। মহিলাকে বন্দুকের বাট দিয়ে হেনস্থাও করা হয়। শুক্রবার রাতে গোলমালের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায় এবং ছ’জনকে আটক করে নিয়ে আসা হয় বরাহনগর থানায়। পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বরাহনগরের হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা থেকে গোলমালের খবর পাওয়া যায়। বনহুগলির বাসিন্দা এক মহিলা শঙ্করদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, তাঁর কাছ থেকে শঙ্কর এবং তাঁর সহযোগীরা ৫০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। তিনি তা দিতে না-চাওয়ায় তাঁকে হেনস্থা করা হয়। অভিযোগ বন্দুকের বাট দিয়ে মারধর করা হয়েছে মহিলাকে। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয়েরা না এসে পড়লে তাঁকে মেরে ফেলা হত বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর আলমারি থেকে অভিযুক্তেরা ১০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন। সেই প্রক্রিয়ার সময় তাঁর শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে। একটি সোনার চেন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও জানিয়েছেন ওই মহিলা।

শঙ্কর ছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর সঙ্গী অর্পণ দত্ত, দেবজ্যোতি বণিক, সুবল দে, দেবাশিস দাস এবং সুব্রত সরকারকে। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রত্যেকেই তৃণমূল ঘনিষ্ঠ। এলাকায় শঙ্কর তৃণমূল নেতা হিসাবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ পুরনো। এর আগে বারাসতের এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছিল এই শঙ্করের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে ‘পুলিশ’ লেখা একটি গাড়িতে চেপে হাসপাতাল চত্বরে গিয়েছিলেন শঙ্করেরা। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা কেউ কেউ তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের সময় যে সমস্ত গাড়ি প্রশাসন ব্যবহার করেছিল, তারই একটিতে পুলিশের স্টিকার লাগানো ছিল। শঙ্করেরা সেটি ব্যবহার করছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

শঙ্কর-সহ ছ’জনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। শনিবারই ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তাঁদের হাজির করানো হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement