SIR in West Bengal

নির্দেশিকার পরেও গুরুতর অসুস্থদের কেন ডাকা হচ্ছে শুনানিতে? প্রশ্ন তুলে কমিশনকে চিঠি চিকিৎসক সংগঠনের

সোমবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বলা হয়েছে, বয়স্ক, অসুস্থ এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমদের বাড়ি গিয়েই শুনানি হবে। তবে অভিযোগ উঠেছে, সেই বিজ্ঞপ্তি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এক প্রকার কাগুজে নির্দেশিকা হয়েই রয়ে গিয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:১৫
Share:

অসুস্থ ভোটারকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শুনানিকেন্দ্রে। — ফাইল চিত্র।

গুরুতর অসুস্থ ভোটারদেরও কেন ডেকে পাঠানো হচ্ছে শুনানির জন্য? নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে এ বার সেই প্রশ্নই তুলল পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসক সংগঠন ‘সার্ভিস ডক্টর্‌স ফোরাম’। বয়স্ক এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমদেরও কেন ডেকে পাঠানো হচ্ছে, সেই নিয়েও প্রশ্ন তাদের। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের কাছে বুধবারই এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে তারা।

Advertisement

গত শনিবার থেকে রাজ্যে ভোটার-শুনানি শুরু হয়েছে। চলছে ভোটারদের নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। তার আগে থেকেই সিইও দফতর জানিয়ে দিয়েছিল, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটারদের শুনানিকেন্দ্রে যেতে হবে না। অসুস্থ এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমদের বিষয়টিও ক্ষেত্রবিশেষে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছিল কমিশন। তবে শুনানি পর্ব শুরু হতেই কার্যত এক ভিন্ন দৃশ্য দেখা যায় জেলায় জেলায়। অশীতিপর বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে শুরু করে গুরুতর অসুস্থ ভোটার— সকলকেই লাইন দিতে হয় শুনানিকেন্দ্রের বাইরে। এমনকি অ্যাম্বুল্যান্সে করে শুনানিতে যেতেও দেখা গিয়েছে।

পর পর এই ঘটনাগুলি নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধতেই তড়িঘড়ি গত সোমবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কমিশন। বিজ্ঞপ্তিতেও স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটার, অসুস্থ বা বিশেষ ভাবে সক্ষমদের শুনানিকেন্দ্রে যেতে হবে না। তাঁরা অনুরোধ করলে তাঁদের বাড়িতে গিয়েই শুনানি করা হবে। তবে কতটা অসুস্থ হলে তাঁকে অসুস্থ বলে বিবেচনা করা হবে— তা নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করা ছিল না কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে।

Advertisement

তবে মঙ্গলবারও দেখা যায় অসুস্থ রোগীদের শুনানিকেন্দ্রের বাইরে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। বীরভূমে দেখা যায়, মুখে অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থায় শুনানিকেন্দ্রে হাজির হয়েছেন এক বৃদ্ধ। বুকে পেসমেকার বসানো অবস্থায় শুনানির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয় দুর্গাপুরের এক বৃদ্ধাকে। মুর্শিদাবাদেও অ্যাম্বুলেন্সে করে বৃদ্ধাদের শুনানিকেন্দ্রে যেতে দেখা গিয়েছে। এমনকি ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত এক বৃদ্ধাকেও শুনানির জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে কোচবিহারে। অভিযোগ, কমিশন বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও তা এক প্রকার কাগুজে ঘোষণা হয়েই রয়ে গিয়েছে অনেক ক্ষেত্রে। কিছু ক্ষেত্রে বাড়ি গিয়ে শুনানির দৃশ্য দেখা গেলেও জেলায় জেলায় দেখা গেল বহু ক্ষেত্রে নির্দেশিকার বাস্তব প্রতিফলন নেই।

এ অবস্থায় বুধবার রাজ্যের সিইও মনোজকে ইমেল মারফত স্মারকলিপি পাঠাল ‘সার্ভিস ডক্টর্‌স ফোরাম’। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাসের বক্তব্য, “এক চূড়ান্ত অমানবিক প্রক্রিয়া চলছে। আমরা মনে করি এটা মেডিক্যাল এথিক্সকে ভঙ্গ করছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েও কিছু মেডিক্যাল এথিক্স অন্তত মানা হত। এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সেটুকুও মানা হচ্ছে না। তা হলে কি এটি বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও জরুরি একটা পরিস্থিতি চলছে!” চিকিৎসক সংগঠনের অভিযোগ, কমিশন বাড়ি গিয়ে শুনানির যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তার কোনও মান্যতাই নেই বাস্তব ক্ষেত্রে।

পাশাপাশি সরকারি চিকিৎসকদেরও কেন শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ‘সার্ভিস ডক্টর্‌স ফোরাম’। তাদের বক্তব্য, সরকারি চিকিৎসকের নিয়োগের সময়েই নথিপত্র যাচাই হয়ে যায়। তার পরেও কেন ডাকা হচ্ছে, সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ওই চিকিৎসক সংগঠন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement