Kolkata Weather

পর পর দু’দিন, যুযুধান দুই নেতানেত্রীর বিমানকে ঘুরপাক খাওয়াল কালবৈশাখী! কাকে কতটা চাপে ফেলেছিল আবহাওয়া

বৃহস্পতিবার জনসভা সেরে দমদমে নামতে গিয়ে দুর্যোগের মুখে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমান। শুক্রবার কলকাতায় নামার সময় দুর্যোগের মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিমানও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৮:৩০
Share:

(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিত শাহ (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দু’দিন। দুই ঘটনা। দু’টি পৃথক হলেও নেপথ্যে ‘অনুঘটক’ ছিল একটাই। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। একটির ক্ষেত্রে, স্থানীয় ভাবে তৈরি হওয়া বজ্রগর্ভ মেঘ। অন্যটির ক্ষেত্রে একটি মেঘবলয় তৈরি হয়েছিল। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মতোই নেমে আসে দুর্যোগ। কলকাতায় নামতে গিয়ে এই দুর্যোগের মুখেই পড়েন যুযুধান দুই নেতানেত্রী। এক জন গিয়েছিলেন নির্বাচনী জনসভায়। সেখান থেকে বিমানে ফেরার পথে দুর্যোগের মুখে পড়েন। আর এক জন দিল্লি থেকে কলকাতায় আসেন দলীয় কর্মসূচিতে। তিনিও কলকাতায় নামতে গিয়ে দুর্যোগের মুখে পড়েন।

Advertisement

প্রথম জন, এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর দ্বিতীয় জন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ঘটনাচক্রে, পর পর দু’দিনের দুর্যোগে শহরে নামতে গিয়ে দু’জনকেই ‘বেগ’ পেতে হয়েছে।

ঘটনা ১: বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের পান্ডবেশ্বর এবং বীরভূমের দুবরাজপুরে নির্বাচনী জনসভা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতার। আলিপুর আবহাওয়া দফতর ওই দিন পূর্বাভাস দিয়েছিল রাজ্যে ঝড়বৃষ্টি আরও বাড়বে। ওই দিন পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩০-৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া এবং হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। কলকাতায় কোনও সতর্কতা ছিল না। তবে পৌনে ৪টে নাগাদ তাৎক্ষণিক যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, সেখানে বলা হয় উত্তর ২৪ পরগনায় ১-২ ঘণ্টার মধ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা হওয়া চলবে। দুবরাজপুরের সভা সেরে অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে দমদম বিমানবন্দরের উদ্দেশ রওনা হন বিকেল ৩টে ৩৯ মিনিটে। ৪টে নাগাদ নামার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ওই এলাকায় তুমুল ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। ফলে সেই দুর্যোগে তাঁর বিমানকে নামতে বেগ পেতে হয়। দমদমে নামতে না পেরে বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে অবতরণের চেষ্টা করে। কিন্তু দুর্যোগের কারণে নামতে পারেনি। আকাশে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চক্কর কাটে মমতার বিমান। তার পর ঝড় কমলে দমদমেই অবতরণ করে সেটি।

Advertisement

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা যে দিন দুর্যোগে পড়েছিলেন, সে দিন কলকাতায় ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল না ঠিকই, কিন্তু সল্টলেক, দমদম এলাকায় বিকেলের দিকে স্থানীয় ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হয়। সেই মেঘের উচ্চতা ১০ কিলোমিটার। তার সঙ্গে দমকা হাওয়া শুরু হয়। ঘণ্টায় সেই হাওয়ার বেগ ছিল ৫৭ কিলোমিটার। স্থানীয় ভাবে সৃষ্ট সেই বজ্রগর্ভ মেঘ এবং ঝড়ে সব কিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঠিক যেন স্থানীয় ভাবে সৃষ্ট ‘কালবৈশাখী’। অথচ দেখা গিয়েছে, কলকাতার অন্য প্রান্ত ওই সময়েই ছিল শুকনো খটখটে।

ঘটনা ২: শুক্রবার রাতে কলকাতায় আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে তাঁর বিমানের অবতরণের কথা ছিল কলকাতা বিমানবন্দরে। কিন্তু বিমান কলকাতার আকাশে আসে কিছুটা দেরিতে, রাত ১২টা ২৫ মিনিট নাগাদ। তবে কালবৈশাখীর জেরে বিমান ওই সময়ে নামতে পারেনি। প্রায় ৫৫ মিনিট আকাশে চক্কর কাটার পর রাত ১টা ২০ মিনিটে শাহের বিমান অবতরণ করে। শাহ যে দিন কলকাতায় অবতরণ করেন, শুক্রবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। শুক্র এবং শনিবার শহরে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়েরও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। পশ্চিমি ঝঞ্ঝার জন্য বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে একটি মেঘবলয়ের সৃষ্টি হয়েছিল। ঝাড়খণ্ড থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সেটি বিস্তৃত ছিল। সেই মেঘ ১৩-১৪ কিলোমিটার উপরের দিকে বিস্তৃত ছিল। রাত ১২টা ২৯ মিনিটে কালবৈশাখী শুরু হয় সল্টলেক, দমদম এলাকায়। ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার বেগে ঝড় হয়। সঙ্গে বৃষ্টিও চলে। এ ক্ষেত্রেও বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু তার ব্যাপ্তি ছিল অনেকটা। ফলে ঝড়ের তাণ্ডবও ছিল অনেক বেশি। লাল সতর্কতাও জারি করা হয়েছিল। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য বলছে, ঝড়ের গতির টক্করে শুক্রবার হারিয়ে দিয়েছে বৃহস্পতিবারকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement