দিল্লিতে কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে আজই কার্যত জোটের ঘোষণা করে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। আর বাংলায় জোট দানা বাঁধতেই কংগ্রেস-সিপিএমকে নতুন করে আক্রমণে নেমে পড়ল বিজেপি। বিরোধী বোঝাপড়া নিয়ে উদ্বেগে থাকা থাকা তৃণমূল অরুণ জেটলির জোট-নিশানাতেই আহ্লাদে আটখানা!
জেএনইউ, হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে স্মৃতি ইরানির গত কালের নাটকীয় আগ্রাসনের অস্বস্তি কাটাতে আজ হাল ধরেছিলেন অর্থমন্ত্রী জেটলি। রাজ্যসভায় বিতর্কে অংশ নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর নিশানায় ছিল কংগ্রেস এবং সিপিএম। আর এই সূত্র ধরেই তিনি টেনে আনেন বাংলায় কংগ্রেস এবং সিপিএমের হাত ধরার প্রসঙ্গ। জেএনইউ-তে ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশি সক্রিয়তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সীতারাম ইয়েচুরি, রাহুল গাঁধীর দল। দুই নেতাই ছাত্রদের সমর্থনে গিয়েছিলেন জেএনইউ-তে। কংগ্রেস-সিপিএমের সেই ঘনিষ্ঠতার নজির তুলে ধরে জেটলির কটাক্ষ, ‘‘শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে ভোট আসছে মানেই যে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাষ্ট্র-বিরোধী স্লোগান তোলা হলে পুলিশ যাবে না, তা তো হয় না! বাংলার এখন দুর্ভাগ্য, সেখানে এখন তিনটি কংগ্রেস দল। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও মার্ক্সবাদী কংগ্রেস!’’
জেটলির এই মন্তব্যের পরে তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘‘আমি কংগ্রেস ও সিপিএমের বিষয়ে বলতে পারব না। কিন্তু ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাংলার মানুষ অনেক লড়াইয়ের পরে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম দিয়েছেন।’’ জেটলি হাসিমুখেই তা শুনে আর কথা বাড়াননি। আর সেই ঘটনাকেই বড় করে তুলে ধরে তৃণমূল প্রচার শুরু করে দিয়েছে, জেটলি আসলে কংগ্রেস ও সিপিএমকে রীতিমতো ‘একঘরে’ করে দিয়েছেন আজ। পরে ডেরেক বিবৃতি দিয়েছেন, ‘‘জেটলি মেনে নিয়েছেন, বাংলায় ‘একটিই তৃণমূল কংগ্রেস’ রয়েছে!’’
রাজ্যে ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই কেন্দ্র-বিরোধী আক্রমণকে লঘু করে কংগ্রেস-সিপিএমকেই যে তৃণমূল বেশি বিঁধতে চাইছে— সেই অভিযোগ করছেন বাম ও কংগ্রেস নেতারা। কংগ্রেস যে আসলে সিপিএমের ‘বি-টিম’, সেই প্রচারকেই এখন আরও তুঙ্গে নিয়ে যেতে চাইছে মমতার দল। জেটলি আজ যে ভাবে কংগ্রেস-সিপিএমকে নিশানা করেছেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন, সেখানে ওঠা স্লোগান কি সাংবিধানিক ব্যবস্থায় অনুমোদিত— এর পরে সিপিএমও মমতা-বিজেপি’র ঘনিষ্ঠতা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে দিয়েছে।
সিপিএমের রাজ্যসভার দলনেতা সীতারাম ইয়েচুরি টুইট করে বলেন, ‘‘১৯৯৯ সালে প্রথম তৃণমূলের সঙ্গে জোট করেছে বিজেপি। পরে ২০০৪ সালে। তৃণমূল নেত্রী বিজেপি-র মন্ত্রিসভায় দু’বার ছিলেন। তখন কি তৃণমূল ‘কংগ্রেস দল’ ছিল না?’’ ইয়েচুরির কথায়, ‘‘এখন তৃণমূল ও বিজেপি আর একটি রাউন্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছে!’’ বিজেপি ও তৃণমূলের সখ্যের প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে ডেরেক অবশ্য বলেন, ‘‘ইয়েচুরি টুইটে নতুন! উনি আগে বিষয়টি ভালো করে শিখে নিন। তার পরে এর জবাব দেব।’’ তবে সিপিএম নেতারা বলছেন, বাংলায় জোট নিয়ে জেটলি এমন ভাবে আক্রমণে চলে যাওয়ায় তৃণমূল-বিজেপি আঁতাঁতের প্রচার করতে তাঁদের সুবিধাই হল!
তবে কংগ্রেস-সিপিএম কিংবা বিজেপি-তৃণমূলের পারস্পরিক সম্পর্ক যা-ই হোক, আজ কংগ্রেসের সাংবাদিক বৈঠকের মঞ্চ থেকেই এক প্রকার জোটের ঘোষণা করে দেন অধীর। হাইকম্যান্ড এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি ঠিকই। কিন্তু সংসদে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রদেশ সভাপতি বলেন, ‘‘জোটের ব্যাপারটা আর আমাদের হাতে নেই। তৃণমূলকে পরাস্ত করতে নিচু তলায় দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে অনেক আগে থেকেই জোট হয়ে গিয়েছে। আমরা সেটিকেই মর্যাদা দিচ্ছি।’’ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এতে কি হাইকম্যান্ডের সম্মতি রয়েছে? অধীর বলেন, ‘‘হাইকম্যান্ড অন্ধ নয়! তারা জানে, পশ্চিমবঙ্গে দল কী চায়।’’