বিধানসভার প্রস্তুতি শুরু করে দিল রাজ্য বিজেপি

রাজ্য সভাপতির পদ থেকে রাহুল সিংহকে সরানো নিয়ে কোনও আলোচনা না হলেও শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। জানুয়ারি মাস থেকেই পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর প্রচার শুরু হবে। ডিসেম্বর থেকে অমিত শাহের সাতটি সভার নীল নকশাও চূড়ান্ত হল এ দিন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৫ ২২:০৭
Share:

রাজ্য সভাপতির পদ থেকে রাহুল সিংহকে সরানো নিয়ে কোনও আলোচনা না হলেও শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। জানুয়ারি মাস থেকেই পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর প্রচার শুরু হবে। ডিসেম্বর থেকে অমিত শাহের সাতটি সভার নীল নকশাও চূড়ান্ত হল এ দিন।

Advertisement

বিহারের ভোটের ফল বেরোবে রবিবার। এই ফলের উপরেও অনেকটা নির্ভর করছে পরের বছর পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ুর মত রাজ্যে কতটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অমিত শাহ এগোতে পারবেন। তার আগেই এ দিন পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের দিল্লির বাড়িতে রাজ্য নেতাদের নিয়ে বৈঠক হল। সেই বৈঠকে রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাহুল সিংহ-সহ অন্য পদাধিকারীরাও ছিলেন। আর সিদ্ধার্থনাথ সিংহ, বাবুল সুপ্রিয়, সুরিন্দর সিংহ অহলুওয়ালিয়া, শিবপ্রকাশদের মত নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

বিহারের ভোট চলাকালীনই অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, বিহারের নির্বাচন পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হবে। আর পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমে সরকার গড়বে বিজেপি। কিন্তু, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে খোদ বিজেপি-রই অনেক নেতার কাছে বিস্ময়, অমিত শাহ কোন আত্মবিশ্বাসের ভরে এই দাবি করে আসছেন। এক দিকে দলের সভাপতি রাহুল সিংহকেই সরানোর দাবি করছেন রাজ্য বিজেপি-র একটি অংশ। দলের অনেকেই মনে করছেন, রাজ্য নেতৃত্বে বড়সড় রদবদল না করলে ভালো ফলের প্রত্যাশা ছাড়তে হবে। আর অন্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টক্কর দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মুখও মেলে ধরতে হবে। আরএসএসের রাজ্য নেতারা রাহুল সিংহের পরিবর্তে একটি বিকল্প নাম আগেই স্থির করেছিলেন। কিন্তু, বিজেপি নেতৃত্ব আপাতত সেটি খারিজ করে দিয়েছেন।

Advertisement

দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘‘সভাপতি-সহ রাজ্য নেতৃত্বে রদবদল করা হবে কি না, সেটি বিহারের ফলের পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ দিনের বৈঠক ডাকা হয়েছিল বিহারের ভোটপর্ব সাঙ্গ হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু করে দেওয়ার জন্য।’’ কিন্তু, বিজেপিতে রাহুল-বিরোধী শিবিরের প্রত্যাশা ছিল, এই বৈঠকেই রাহুল সিংহকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে দেবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু, বৈঠকে উপস্থিত এক নেতার কথায়, ‘‘যদি রাহুল সিংহকেই সরানোর সিদ্ধান্ত শোনাতে হত, তা হলে তাঁকে এই বৈঠকে সামিল করা হত না।’’

তাহলে কী নিয়ে এখনই বৈঠক ডাকা হল?

বিজেপি সূত্রের মতে, এখন থেকেই সংগঠনকে আরও মজবুত করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বুথ কমিটি, ব্লক কমিটি গড়ে সেখানে সম্মেলন শুরু করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুকে বাছাই করতে হবে, যেগুলি বিধানসভা নির্বাচনে তোলা হবে। তার প্রেক্ষাপট তৈরি করার জন্য শীঘ্রই একটি প্রতিনিধি দল দেখা করবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে। সেখানে উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব প্রদান নিয়ে অভিযোগ জানানো হবে। জেলায় জেলায় এই ইস্যুগুলি নিয়ে আন্দোলন করতে হবে। আর এই ভিতটি তৈরি করে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের সভা চূড়ান্ত হবে। এ মাসের শেষেই রাজ্যে যাচ্ছেন অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গকে ইতিমধ্যেই সাতটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনে সভা করবেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। আর নরেন্দ্র মোদীর সভাও শুরু হয়ে যাবে জানুয়ারি মাস থেকে।

সাম্প্রতিক অতীতে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ধর্ম মেনে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক মধুর করতে মোদী-মমতার যে ঘনিষ্ঠতার বার্তা গিয়েছে, তাতে রাজ্যে বিজেপি-র লোকসান হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেক নেতা। কিন্তু দলের এক নেতার কথায়, ‘‘ভোটের সময় মহল ভিন্ন হয়। বিহারের ভোটের আগে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে নীতীশ কুমারেরও অনেক বার সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। লালু প্রসাদের অসুস্থতার সময়েও প্রধানমন্ত্রী ফোন করে খবর নিয়েছেন। কিন্তু ভোটের সময় কেউ এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেননি। ফলে ভোটের সময় তৃণমূলকেও রেয়াত করবেন না কেন্দ্রীয় নেতারা। রাজ্য বিজেপি শিবিরে একটি সাময়িক হতাশা এলেও এখনও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তৃণমূলের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে মানুষ সিপিএমে আস্থা রাখছে না। উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকা ছাড়া কংগ্রেসের উপস্থিতিও নেই। ফলে সে ক্ষেত্রে বিজেপিই একমাত্র বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement