শালবনির ইস্পাত কবে, নির্দিষ্ট আশ্বাস নেই মন্ত্রীর

শালবনিতে জিন্দলদের ইস্পাত কারখানা নির্মাণের কাজ কবে শুরু হবে, নিশ্চিত করে তা বলা সম্ভব নয় বলেই বিধানসভায় মেনে নিলেন শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র। বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রের প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবার মন্ত্রীর লিখিত উত্তরে বলা হয়েছে, কাঁচামাল জোগানের জট কেটে গেলে মূল ইস্পাত কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে আশা করা যায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:২০
Share:

শালবনিতে জিন্দলদের ইস্পাত কারখানা নির্মাণের কাজ কবে শুরু হবে, নিশ্চিত করে তা বলা সম্ভব নয় বলেই বিধানসভায় মেনে নিলেন শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র। বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রের প্রশ্নের জবাবে মঙ্গলবার মন্ত্রীর লিখিত উত্তরে বলা হয়েছে, কাঁচামাল জোগানের জট কেটে গেলে মূল ইস্পাত কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে আশা করা যায়।

Advertisement

রাজ্যে শিল্পের শ্মশান-যাত্রা এবং কর্মসংস্থানের দৈন্য দশার প্রতিবাদে জানুয়ারিতে সিঙ্গুর থেকে শালবনি পর্যন্ত পদযাত্রার ডাক দিয়েছে বামেরা। তৃণমূল জমানায় রাজ্যে কোনও বড় শিল্পের কাজই যে এগোয়নি, বিধানসভা ভোটের আগে তা তুলে ধরাই বামেদের উদ্দেশ্য। তার আগে বিধানসভায় শিল্পমন্ত্রীর উত্তর বামেদের হাতে আরও রাজনৈতিক রসদ জোগাল। শালবনি নিয়ে সূর্যবাবু অবশ্য বিধানসভায় প্রশ্ন তুলতে চেয়েছিলেন প্রায় তিন বছর আগে! কিছুতেই সে প্রশ্ন তালিকায় জায়গা পাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত এমন দিনে প্রশ্নটি উঠল, যে দিন আবার সূর্যবাবু সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকের জন্য বিধানসভায় অনুপস্থিত! প্রশ্নকর্তা না থাকায় অতিরিক্ত প্রশ্ন করার কোনও সুযোগ ছিল না। ফলে, অমিতবাবুকে বাড়তি প্রশ্ন করে চেপে ধরতে পারেননি বিরোধী শিবিরের বিধায়কেরা।

তাঁর জবাবে শিল্পমন্ত্রী দাবি করেছেন, ২০১১ সালে তৃণমূলের সরকার ক্ষমতায় এসে শালবনির প্রকল্পের পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখেছিল ওই ইস্পাত কারখানার কাজে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি। এর পরে কারখানা সচল করার জন্য রাজ্য সরকার নানা চেষ্টা করেছে, কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠিও দিয়েছে। কিন্তু আকরিক লোহার জোগান নিয়ে মূল সমস্যা কাটেনি। ইস্পাত প্রকল্পের আশেপাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা সিমেন্ট কারখানা গড়ার জন্য কী কী উদ্যোগ হয়েছে, তার বিবরণও দিয়েছেন মন্ত্রী। সরকারি জবাবে এমন তথ্য থাকলেও শিল্প ও বাণিজ্য মহলের একাংশের বক্তব্য, ইস্পাত প্রকল্পের জন্য জমি কিনে নিতে বাধ্য হওয়ার পরে জিন্দল গোষ্ঠীর সঙ্গে বর্তমান রাজ্য সরকারের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। কিছুটা জমি জিন্দল রাজ্যকে ফিরিয়েও দিয়েছিল। একে রাজ্যে ‘আপস’ করতে বাধ্য হওয়া এবং বাজারের পরিস্থিতি বিচার করে জিন্দলরা আর বেশি এগোতে চায়নি। তাই মন্ত্রীর জবাবে ‘পূর্ণ সত্য’ নেই বলেই শিল্প মহলের অভিমত।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement