সংগ্রহশালা না হওয়ায় আক্ষেপ

ষষ্ঠ শতকে গড়ে ওঠা মোগলমারির বৌদ্ধবিহার নিয়ে পর্যটক ও গবেষকদের আকর্ষণ তুঙ্গে। কিন্তু মোগলমারিতে এসে হতাশ হচ্ছেন তাঁরা। কারণ, গত তিন বছরেও ওই প্রত্নক্ষেত্রের সংরক্ষণ বা সংগ্রহশালা গড়া যায়নি। যদিও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

Advertisement

অমিত কর মহাপাত্র

শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:৪৫
Share:

খননকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা।

ষষ্ঠ শতকে গড়ে ওঠা মোগলমারির বৌদ্ধবিহার নিয়ে পর্যটক ও গবেষকদের আকর্ষণ তুঙ্গে। কিন্তু মোগলমারিতে এসে হতাশ হচ্ছেন তাঁরা। কারণ, গত তিন বছরেও ওই প্রত্নক্ষেত্রের সংরক্ষণ বা সংগ্রহশালা গড়া যায়নি। যদিও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

Advertisement

এরই ফলে স্থানীয়ভাবে গড়েও ওঠেনি পর্যটকদের থাকা বা বিশ্রাম নেওয়ার কোনোও ব্যবস্থাও। এই নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যেও। সোমবার দশম দফার খনন কাজের উদ্বোধনে মোগলমারিতে এসে যদিও আশার কথা শুনিয়ে গেলেন রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব ও সংগ্রহশালা অধিকার বিভাগের অতিরিক্ত অধিকর্তা প্রভাকর পাল। তিনি বলেন, “ওই কাজে স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ এক সংস্থার পরামর্শ নেওয়া হচ্ছিল। ওই সংস্থার কাজের ঢিলেমি ও প্রশাসনিক কিছু জটিলতায় কাজ শুরু হতে দেরি হয়েছে। তবে কাজ শেষ হবে এক বছরের মধ্যে।’’

মোগলমারি নিয়ে পর্যটনের সম্ভাবনা খুব উজ্জ্বল। ওড়িশা যাওয়ার পথে এত সহজে এইরকম একটি প্রত্নস্থল দেখার হাতছানি এড়াতে পারবেন না কোনও পর্যটকই। প্রভাকরবাবু আরও জানান, পর্যটকদের থাকার জন্য এখানে পরিকাঠামো গড়ে তুলবে পর্যটন দফতর। ২০১৩ সালে মোগলমারি বৌদ্ধ বিহারকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দেওয়ার পর বিহারটির সংরক্ষণ ও আনুষঙ্গিক কিছু কাজের জন্য ত্রয়োদশ অর্থ কমিশন থেকে কেন্দ্র সরকার ২ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে। এই টাকা পাওয়া গিয়েছে গত মার্চ মাসেই। কিন্তু এতদিনেও তা খরচ করতে না পারায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ভর্ৎসিত হয়েছেন বিভাগীয় কর্তারা।

Advertisement

শুধু ওই টাকাই নয়, চতুর্দশ অর্থ কমিশন থেকে ১ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল সংগ্রহশালা গড়ার জন্য। খরচ হয়নি তাও। প্রভাকরবাবু জানান, বৌদ্ধবিহারটি থেকে দু’শো মিটার দূরে ওই সংগ্রহশালা গড়া হবে। তার জন্য প্রাথমিকভাবে ৭০ লক্ষ টাকার দরপত্র দেওয়ার কাজ চলছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে বাকি টাকা হাতে এসে যাবে। তিনি বলেন, “শুধু সংগ্রহশালা গড়া নয়, সেখানে বৌদ্ধদর্শন ও সংস্কৃতির চর্চাকেন্দ্রও গড়ে তোলা হবে। যাতে পর্যটকদের পাশাপাশি গবেষকরাও উপকৃত হন।” তাঁর মতে এই বৌদ্ধবিহারের সামগ্রিক গঠন এখনও উদ্ঘাটন হয়নি। এভাবেই খনন কাজ চালিয়ে ইতিহাসের সূত্র বার করে সভ্যতার ব্যপ্তি বুঝে আবারও খনন কাজ চালানো হবে অন্তত আগামী চার পাঁচ বছর ধরে। বৌদ্ধ বিহারটির চারদিকে পাঁচিল, বিশ্রাম ছাউনি, পার্ক গড়ে তাতে সৌন্দর্যায়ন, ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে বিহার পর্যন্ত চওড়া রাস্তা ইত্যাদি করা হচ্ছে। থাকছে কম্পিউটারচালিত ব্যবস্থা যেখানে প্রত্নস্থলের বিবরণ, পুরাবস্তুর ছবি, নানা তুলনামূলক তথ্য বিশদে পাবেন পর্যটকেরা।

এই উৎখনন কাজের পরিচালক প্রকাশ মাইতি বলেন, “মূল বৌদ্ধ বিহারটির আয়তন ছ’হাজার চারশো বর্গ মিটার। এ বার ২৫টি ট্রেঞ্চ খুঁড়ে প্রায় এক হাজার বর্গ মিটার অংশ খনন করা হবে। এত ব্যাপক এলাকায় খনন অতীতে একসঙ্গে হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি খনন কাজের সময়সীমা তিন মাস থেকে বাড়িয়ে চার মাস করার”

জমির মালিক মোগলমারি তরুণ সেবা সংঘ ও পাঠাগারের অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক অতনু প্রধানের দাবি, “মোগলমারি থেকে উদ্ধার হওয়া প্রত্নবস্তুগুলি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বা রাজ্য পুরা দফতর নিয়ে গিয়ে তাদের সংগ্রহশালায় রেখেছেন। স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকরা তা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না। তাই এ বার থেকে উদ্ধার হওয়া প্রত্নবস্তুগুলি মোগলমারিতেই রাখা হোক।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement