Iran-US Conflict

‘গলা শুকিয়ে মারব’! হরমুজ় নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরই আমেরিকা-ঘনিষ্ঠ উপসাগরীয় দেশগুলিকে হুমকি দিল ইরান

ইরান যদি উপসাগরীয় অঞ্চলে পানীয় জল শোধনকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালায়, তা হলে বিশাল বড় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। পানীয় জলের হাহাকার পড়ে যেতে পারে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ১২:৫৯
Share:

(বাঁ দিকে ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। (ডান দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। ফাইল চিত্র।

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যদি তাদের শক্তিকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালানো বন্ধ না করে, তা হলে আগামী দিনে আরও ভয়ঙ্কর পরিণতির মুখে পড়তে হবে তাদের। শুধু তা-ই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকা-ঘনিষ্ঠ দেশগুলিকেও ‘বড় মূল্য’ চোকাতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুরমুজ় প্রাণালী নিয়ে হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা তোপ দাগল তেহরান। প্রসঙ্গত, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ় প্রণালী না খুলে দেয়, তা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। আর তার পরই পাল্টা হুমকি দিল ইরান।

Advertisement

তবে শুধু আমেরিকাকেই নয়, পশ্চিম এশিয়ায় তার ঘনিষ্ঠ দেশগুলিতেও হামলা আরও জোরালো করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে আমেরিকা পরিচালিত বহু তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, তৈল শোধনাগার এবং পানীয় জল পরিশোধন সংস্থাও রয়েছে। এ বার সেগুলিকেও নিশানা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। হজরত খাতম আল আনবিয়া-র সদর দফতরের মুখপাত্র বলেন, ‘‘আমেরিকা যদি ইরানের শক্তি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালায়, আমরাও চুপ করে বসে থাকব না। পশ্চিম এশিয়ায় ওদের যত তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, শক্তিকেন্দ্র, পানীয় জল শোধনকেন্দ্র আছে সেগুলিকে নিশ্চিহ্ন করা হবে।’’

তবে ইরান যদি উপসাগরীয় অঞ্চলে পানীয় জল শোধনকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালায়, তা হলে বিশাল বড় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। পানীয় জলের হাহাকার পড়ে যেতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলি পানীয় জলের জন্য মূলত এই জল শোধনকেন্দ্রগুলির উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভরশীল। যদি কোনও ভাবে এই কেন্দ্রগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা হলে জল সরবরাহ ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত হবে। তাই উপসাগরীয় অঞ্চলে এ বার আমেরিকা এবং তার ঘনিষ্ঠ দেশগুলিকে কি ‘গলা শুকিয়ে মারার’ পরিকল্পনা করছে ইরান? এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যদি সৌদি আরবের জুবেইল জলশোধন কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়, তা হলে রিয়াধের ৮৫ লক্ষ বাসিন্দাকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রবল জলসঙ্কটের মধ্যে পড়তে হবে। বিশ্বের মধ্যে অপর্যাপ্ত পানীয় জল পাওয়া যায় উপসাগরীয় অঞ্চলে। সমুদ্রের লবণাক্ত জলকে শোধন করে পানের উপযোগী করে তোলার জন্য এই অঞ্চলে প্রচুর জলশোধন কেন্দ্র রয়েছে। আল জাজ়িরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অঞ্চলে চারশোটিরও বেশি জলশোধন কেন্দ্র রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ ‘ডিস্যালিনেটেড’ জল উৎপাদন হয় এই অঞ্চলে।

Advertisement

গাল্ফ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য বলছে, ৯০ শতাংশ ‘ডিস্যালাইনেটড’ জলের উপর নির্ভর করে কুয়েত। ওমান ৮৬ শতাংশ, সৌদি আরব ৭০ শতাংশ, কাতার ও বাহরিন ৯০ শতাংশের বেশি নির্ভরশীল। উপসাগরীয় অঞ্চলের এই জলশোধন কেন্দ্রগুলি বেশির ভাগই উপকূলঘেঁষা। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের একদম নাগালের মধ্যেই। এই জলশোধন কেন্দ্রগুলি আবার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির সঙ্গে যুক্ত। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে নিশানা করলে জলশোধন কেন্দ্রগুলিও ব্যাপক ভাবে প্রভাবিত হবে। সে কারণেই কি এ বার জলশোধন কেন্দ্রগুলিকে নিশানা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান? প্রশ্ন জোরালো হতে শুরু করেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement