বাংলাদেশি যুবক শরৎমণি চক্রবর্তী। সোমবার রাতে নরসিংদীতে দুষ্কৃতীদের হামলায় খুন হন তিনি। ছবি: সংগৃহীত।
এ বার এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বাংলাদেশে। ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদী জেলার পলাশ থানা এলাকায়। নিহতের নাম শরৎমণি চক্রবর্তী। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, সোমবার রাতে একদল দুষ্কৃতী চড়াও হয় শরতের উপরে। ছুরি দিয়ে কোপানো হয় তাঁকে। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক ওই যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নরসিংদীর চরসিন্দুর বাজার এলাকায় একটি মুদি দোকান ছিল শরতের। স্থানীয় সময় অনুসারে, সোমবার রাত ৯টা নাগাদ তাঁর উপরে চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। তাদের হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র। তা নিয়েই চরসিন্দুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় শরতের উপরে অতর্কিতে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ছুরির কোপে গুরুতর জখম হন ওই যুবক। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু হয় শরতের।
কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামে এক যুবককে হত্যা করে একদল জনতা। পিটিয়ে হত্যা করে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শরীয়তপুরেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় খোকন দাস নামে আর এক যুবকের গায়ে। তাঁরও মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশের যশোরে এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে এবং গলা কেটে খুনের অভিযোগ উঠেছে। এক বিধবা মহিলাক গণধর্ষণেরও অভিযোগ উঠে এসেছে ঝিনাইদহে। শুধু তা-ই নয়, মহিলাকে গাছে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতনেরও অভিযোগ উঠেছে।
এ বার নরসিংদীতেও এক যুবককে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সোমবার রাতের ওই ঘটনা প্রসঙ্গে পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুম জানান, মৃতের দেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের অনুমান, পিছন দিক থেকে ধারলো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে শরতকে। পলাশ থানার ওসি বলেন, “হত্যার কারণ জানতে তদন্ত চলছে। আশা করছি দ্রুত তদন্ত শেষ হবে।”
বাংলাদেশের তরুণ নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে সে দেশের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর এবং তাণ্ডব চলে। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের উপরেও আক্রমণের কিছু ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারতও। দীপুহত্যায় বিচারের দাবিতে সরব হয় নয়াদিল্লি। সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত সরকার। যদিও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ময়মনসিংহের ঘটনাকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই ব্যাখ্যা করছিল।