Shafiqur Rahman

‘দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নেই’, এ বার বলল জামাত! শফিকুরেরা কেন আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন?

জামাতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি। প্রশাসনের মধ্যে কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছে বলে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ আসছে। এ ক্ষেত্রে নাম না করে নিশানায় বিএনপি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫৮
Share:

জামাত প্রধান শফিকুর রহমান। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাংলাদেশে এখনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি! এমনটাই মনে করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি (‘জামাত’ নামে যা পরিচিত)। দলের শীর্ষনেতা (আমির) শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে।

Advertisement

বৈঠক শেষে সোমবার রাতে দলের তরফে একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করেছে জামাত কার্যনির্বাহী পরিষদ। তাতে লেখা, ‘‘বৈঠকে আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি। প্রশাসনের মধ্যে কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছে বলে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ আসছে। এ অবস্থায় অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা শতভাগ নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতির বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।’’

‘মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি’ হিসাবে চিহ্নিত জামাতের সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছাত্র-যুবদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং সাতটি ইসলামপন্থী দল— ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সঙ্গে সমঝোতা করেছে তারা। কিন্তু তবুও যে শফিকুরের দল আত্মবিশ্বাসী নয়, তার প্রমাণ মিলেছে বিবৃতিতে। তাতে বলা হয়েছে— নির্বাচন কমিশন এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী যাতে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখে এবং বিশেষ কোনও দলের দিকে ঝুঁকে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে হবে।

Advertisement

এ ক্ষেত্রে সরাসরি কোনও নাম না করে জামাত নেতৃত্ব প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন বলে সে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলির অনুমান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে দীর্ঘ ১৭ বছর পরে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এবং খালেদা জ়িয়ার মৃত্যুর কারণে ভোটের আগে বিএনপির পক্ষে ‘হাওয়া’ বইতে শুরু করেছে। তার আঁচ পেয়েই আগেভাগে প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন জামাত নেতৃত্ব। শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, পরোক্ষে ইউনূস সরকারকেও হুঁশিয়ারি দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। দেড় হাজার শহিদ, ত্রিশ হাজারের অধিক আহত ও পঙ্গুত্ববরণের মধ্য দিয়ে অর্জিত আমাদের এই প্রিয় নতুন বাংলাদেশকে কোনও ধরনের চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র বা কোনও গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি (পণবন্দি) হতে দেওয়া যাবে না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement