(বাঁ দিকে) ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
পশ্চিম এশিয়াকে চারপাশে বাঁধতে চাইছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আর তাঁর এই প্রচেষ্টায় তিনি পাশে চান ভারতকে। বুধবার ইজ়রায়েলে পা রাখবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর এই সফরে পশ্চিম এশিয়া কেন্দ্রিক এই নতুন জোটকে এক নতুন মাত্রা দিতে চান নেতানিয়াহু। এই জোটের পোশাকি নাম ‘ষড়ভুজ’! নেতানিয়াহু চান, পশ্চিম এশিয়া এবং তার আশপাশে এমন ‘শক্তি’ গড়ে তুলতে, যা চরমপন্থী সংগঠনগুলিকে জবাব দিতে পারবে! অনেকের মতে, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক যে ‘ইসলামিক নেটোর’ কথা ভাবছে, তার পাল্টা জোট চান ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী। যদিও ভারতের তরফে এই জোট নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
বুধবার দু’দিনের সফরে ইজ়রায়েল যাচ্ছেন মোদী। তবে তাঁর সফর শুরুর আগেই ‘ষড়ভুজ জোটের’ কথা ঘোষণা করেন নেতানিয়াহু। এই জোটে ভারত ছাড়াও থাকবে গ্রিস এবং সাইপ্রাস। এ ছাড়াও, আরব, আফ্রিকা এবং এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশকে এই জোটের অংশ করতে ইচ্ছুক নেতানিয়াহু। তবে জোটের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সদস্য হিসাবে ভারতকেই চান তিনি। তাঁর মতে, মোদীর সফর পশ্চিম এশিয়ার চরমপন্থী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার অংশ হবে।
জোটের কী কাজ? নতুন জোটের লক্ষ্য হল এমন এক অক্ষ তৈরি করা, যা চরপন্থী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে একমত হবে। বস্তুত, ভারত বার বারই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথা বলে। মোদী বিভিন্ন দেশের সফরে গিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দেন। সেই লড়াইয়ে বিভিন্ন দেশকে পাশে চান। সেই আবহে ‘ষড়ভুজ’ বানিয়ে বিশ্বের চরপন্থী সংগঠনগুলিকে বার্তা দিতে তৈরি নেতানিয়াহু। তাঁর মতে, এই জোটের সদস্য দেশগুলি নিজেদের মতামত ভাগ করে নেবে। সহযোগিতার মাধ্যমে ভাল ফলাফল মিলবে বলেও আশাবাদী তিনি। মূলত প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের লক্ষ্যে একজোট হওয়ার ভাবনা ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রীর।
মোদীর এই সফর দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে, তা একবাক্যে জানাচ্ছে নয়াদিল্লি এবং তেল আভিভ। এই সফরে কৌশলগত সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় সমন্বয় জোরদার করতে একাধিক দ্বিপাক্ষিক মউ স্বাক্ষর হতে পারে। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মোদীর সফর তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার লক্ষ্যে এগোবে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত-ইজ়রায়েলের ‘বিশেষ সম্পর্কের’ উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘মোদীর সফরের ফলে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি উচ্চ প্রযুক্তি, এআই সহযোগিতাও বাড়বে।’’
মোদীও এই সফর নিয়ে ‘উচ্ছ্বসিত’। তৃতীয় দফায় দায়িত্ব গ্রহণের পরে এটিই তাঁর প্রথম ইজ়রায়েল সফর। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, গাজ়া শান্তি পরিকল্পনা, ইজ়রায়েল এবং হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধ মোকাবিলার লক্ষ্যে বহুপাক্ষিক চুক্তির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে দুই রাষ্ট্রনেতার। তবে নেতানিয়াহুর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে মোদী কোনও বার্তা দেন কি না, সে দিকে নজর রয়েছে গোটা বিশ্বের। অনেকের মতে, ইজ়রায়েলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার চেয়ে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যের দিকে বেশি ঝুঁকবে ভারত!
মোদীর ইজ়রায়েল সফরকে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, গোটা বিশ্ব যখন ইজ়রায়েল এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সমালোচনা করছে, তখন মোদী ‘নৈতিক কাপুরুষতার’ পরিচয় দিচ্ছেন।