পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ ছড়িয়ে পড়ছে গোটা পশ্চিম এশিয়ায়। পশ্চিম এশিয়ার অন্তত ১০টি দেশে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। উড়ে আসছে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন। মঙ্গলবারও সৌদি আরবে, ইরাক, লেবাননে হামলা হয়েছে। ড্রোন আক্রমণ হচ্ছে মার্কিন দূতাবাসে।
গত শনিবার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে হামলা চালায় ইরানে। হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। হামলার প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠেই প্রত্যাঘাত শুরু করে ইরান। শুধু ইজ়রায়েলে নয়, পশ্চিম এশিয়ায় যে দেশগুলিতে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে— প্রায় সব দেশেই হামলা করেছে তেহরান। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান, বাহরিন, কুয়েত, ইরাক, সিরিয়া, জর্ডনে হামলা চালায় তেহরান। এর মধ্যে বহু হামলা প্রতিহতও করেছে আমেরিকার ‘বন্ধু’ দেশগুলি।
চার দিন ধরে চলতে থাকা এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানেও যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে ইরানের রাজধানী তেহরানে। সবচেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে তেহরান এবং তার সংলগ্ন এলাকাতেই। ইরানের দক্ষিণ প্রান্তে মিনাব শহরে একটি স্কুলেও হামলা হয়েছে। তাতে ১৫০-র বেশি ছাত্রী নিহত হয়। এ ছাড়া ইরানের আরও অন্তত ১৮টি জায়গায় হামলা চালিয়েছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বাহিনী। ইরানও সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার অন্তত ১৯টি জায়গায় প্রত্যাঘাত করেছে। এর মধ্যে যেমন ইজ়রায়েল রয়েছে, তেমনই রয়েছে আমেরিকার অন্য বন্ধু দেশগুলিও।
এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই লেবানন থেকে ইজ়রায়েলে হামলা শুরু করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাও। ইরান সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার জেরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে লেবাননেও। ইজ়রায়েল এখন হিজবুল্লা ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে লেবাননে হামলা শুরু করেছে।
শনিবারের হামলার প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে প্রত্যাঘাত শুরু করেছে ইরান। ধারাবাহিক হামলা চলছে পশ্চিম এশিয়ার একের পর এক দেশে। কুয়েত এখনও পর্যন্ত ১৭৮টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৮৪টি ড্রোন হামলা ঠেকিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও ১৬৯টি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার আগেই ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মাটিতে। কিছু পড়়েছে সমুদ্রে। বাহরিনও ৭৬টি ড্রোন এবং ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। কাতারও প্রতিহত করেছে ১০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র।