মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি পড়ুয়া ভর্তির ব্যাপারে আদালতে ধাক্কা খাওয়ার পরেও থামতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার ঘুরপথে হার্ভার্ডে বিদেশিদের প্রবেশের উপর ‘নজরদারি’ চালাতে চাইছে মার্কিন প্রশাসন। ‘যে কোনও উদ্দেশ্যে’ হার্ভার্ড-ভ্রমণ থাকবে আমেরিকা প্রশাসনের আতশকাচের নীচে। ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও কড়াকড়ি করতে চলেছে তারা। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আমেরিকার বিদেশ দফতর এ ব্যাপারে সমস্ত মার্কিন দূতাবাস এবং কনস্যুলেটকে ‘অবিলম্বে’ এ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছে।
হার্ভার্ডে যেতে চাওয়ার জন্য যাঁরা আবেদন করেন, সেই তালিকায় থাকেন সাধারণত শিক্ষার্থী, অতিথি বক্তা, পর্যটক। তবে মার্কিন প্রশাসনের জারি করা নির্দেশিকায় জোর দেওয়া হয়েছে, কঠোর ‘যাচাইকরণ’ প্রক্রিয়ার উপর। কেউ কী উদ্দেশ্যে হার্ভার্ড যাচ্ছেন, তা বিস্তারিত জানাতে হবে দূতাবাস এবং কনস্যুলেটকে! তারাও বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তার পরেই অনুমতি দেওয়ার প্রশ্ন আসবে।
দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন ট্রাম্প। শুধু তা-ই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক পদক্ষেপও করেছে তাঁর প্রশাসন। অনুদান বন্ধ থেকে শুরু করে করমুক্ত মর্যাদা প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সর্বশেষ পদক্ষেপ বিদেশি পড়ুয়া ভর্তির ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া। যদিও আদালত জানিয়েছে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি ছাত্র ভর্তি এবং স্টুডেন্টস ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বিধিনিষেধ জারি করতে পারবে না মার্কিন প্রশাসন।
আদালতে ধাক্কা খাওয়ার পরেও হার্ভার্ড নিয়ে সুর নরম করছে না ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে কাজে লাগিয়ে হার্ভার্ডকে ‘চাপে’ রাখার চেষ্টা করছে তারা। নয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও আবেদনকারী যদি অনলাইনে হাজিরা দিতে রাজি না হন বা তাঁদের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলি ‘ব্যক্তিগত বা সীমিত’ করা থাকে, তবে অবশ্যই কনস্যুলেটের আধিকারিকদের ভাবা উচিত। উঠতে পারে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন। যদি সেই আধিকারিকারিক আবেদনকারীর যুক্তিতে সন্তুষ্ট না হন তবে, ভিসা বাতিলের অধিকার রয়েছে।
আমেরিকার নীতি-বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকা যে কোনও ব্যক্তিরই ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো জানান, যদি কেউ আমেরিকায় সমস্যা সৃষ্টি করতে চান, তবে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হামাস-ইজ়রায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমেরিকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্যালেস্টাইনের সমর্থনে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল। আমেরিকার প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ইহুদি-বিদ্বেষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ইহুদি-বিদ্বেষ বন্ধ করার জন্য বেশ কিছু শর্ত দিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। যার মধ্যে ছিল নিয়োগ ও শিক্ষাদানে পরিবর্তন-সহ বেশ কিছু শর্ত। ট্রাম্পের নজরে ছিল হার্ভার্ড। শর্ত মানতে রাজি না-হওয়ায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রথমে ‘আর্থিক অবরোধ’ শুরু করে মার্কিন প্রশাসন। পরে বিভিন্ন পদক্ষেপ করা হয়। সেই আবহে এ বার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্রমণের উপর নজরদারি বৃদ্ধি শুরু করল ট্রাম্প প্রশাসন।