ইজ়রায়েলে হামলা ইরানের। ছবি: রয়টার্স।
ইজ়রায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করল ইরান। বুধবার ভোর (ভারতীয় সময়) থেকেই মধ্য ইজ়রায়েলে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরানের সেনাবাহিনী। পাশাপাশি, ড্রোন হামলাও করা হচ্ছে। ইজ়রায়েলের বিভিন্ন জায়গা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএন সূত্রে খবর, ইরানের হামলায় এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ইরানের নিশানা মূলত তেল আভিভ।
ইরানি হামলার খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় ইজ়রায়েলের স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। ইজ়রায়েলের জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ প্রকাশিত ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, তেল আভিভের একটি বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আরও ধ্বংসস্তূপ। সিএনএন জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ও ড্রোন ছাড়াও ‘ক্লাস্টার বোমা’-ও ছুড়ছে।
ইজ়রায়েলি হামলায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানির মৃত্যুর পরই আক্রমণের তেজ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। শুধু ইজ়রায়েল নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিবেশী আরবীয় দেশগুলিতেও একই সঙ্গে হামলা চালাচ্ছে ইরানি বাহিনী। সেই সব দেশে থাকা ইজ়রায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টায় এই হামলা! তেহরানের হামলা শুরু হতেই সতর্কতা জারি করল ইজ়রায়েল। পাশাপাশি, পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। ইজ়রায়েলের সেনাবাহিনী বেইরুটের বাচৌরা এলাকা খালি করার কথা জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জ়াজিরার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বুধবার লেবাননে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইজ়রায়েল।
মঙ্গলবার দুপুরে (ভারতীয় সময়) ইজ়রায়েলের তরফে দাবি করা হয়, বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন লারিজানি! সংবাদমাধ্যম আল জাজ়িরা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কাটজ় দাবি করেছেন, লারিজানি নিহত হয়েছেন। সেই দাবির কয়েক ঘণ্টার পর ইরান লারিজানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তেহরান। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, শুধু লারিজানি নন, ইজ়রায়েলি হামলায় একই সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে তাঁর পুত্র এবং দেহরক্ষীরও। তাঁদের প্রতি শোকজ্ঞাপন করেছে কাউন্সিল। লারিজানির মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেন। তার পরই ইজ়রায়েলে ইরানি হামলার খবর প্রকাশ্যে এল।
ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা তাসমিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে দেশের সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল আমির হাতানি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধ হবে ‘চূড়ান্ত এবং দুঃখজনক’। একই সুরে সুর মিলিয়েছেন ইরানের খাতাম আল-আনবিয়ার কেন্দ্রীয় সদর দফতরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহিও। তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ‘‘আমাদের চমকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।’’ তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সেনাবাহিনীর ‘জবাব’ এমন হবে, যা ‘শত্রুরা’ কল্পনাও করতে পারবে না! তার পরই ইজ়রায়েলে ইরানি হামলার খবর প্রকাশ্যে এল।