আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। — ফাইল চিত্র।
তাদের উপরে যে কোনও ধরনের হামলা হলে আদৌ সেটাকে হালকা ভাবে নেওয়া হবে না। উল্টে প্রত্যাঘাত এমন ভাবে হবে, যা যুদ্ধেরই শামিল— আমেরিকাকে সরাসরি এ ভাবেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল ইরান। সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার উপকূলীয় এলাকায় বিশাল নৌবহর পাঠানোর কথা জানিয়েছে পেন্টাগন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধবিমান বহনকারী সেই রণতরীর বহর নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছোবে বলে জানা গিয়েছে। আমেরিকান প্রতিরক্ষা দফতরের সেই হুঁশিয়ারির পরেই পাল্টা যুদ্ধের হুমকি দিয়ে রাখল তেহরান।
দাভোস থেকে ফেরার পথে গত বৃহস্পতিবার ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ উঠেই উপসাগরীয় এলাকায় বিপুল সামরিক বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছিলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই সঙ্গেই তিনি দাবি করেছিলেন, আপাতত ইরানের উপরে নজর রাখতেই পশ্চিম এশিয়ায় বিপুল বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘কোনও ঘটনা ঘটুক আমি চাই না। তবে তেহরানের উপরে আমরা খুব কাছ থেকে নজর রাখতে চাইছি।’’ যদিও তেহরান যে আমেরিকার এই পদক্ষেপ একেবারেই হালকা ভাবে নিচ্ছে না, তা তাদের প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের সামরিক বাহিনীর এক সিনিয়র অফিসার পশ্চিম এশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘যে বিপুল সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, তা বাস্তবে রূপায়ণের জন্য নয় বলেই আমরা আশা করছি। তবে যে কোনও খারাপ পরিস্থিতির জন্য আমাদের সেনাও প্রস্তুত আছে। সেই কারণেই ইরানে সব কিছুর উপরেই চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করে রাখা হয়েছে। যতটা সম্ভব কঠোর ভাবেই আমরা এর সমাধান করব।’’ এর পরেই ওই সামরিক কর্তা জানিয়েছেন, তাদের উপরে যে কোনও ধরনের আক্রমণকেই যুদ্ধ পরিস্থিতি হিসেবে দেখা হবে।
পেন্টাগন সূত্রে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ চিন সাগর থেকে আমেরিকার নৌসেনার ওই বহর ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছে। সেই বহরের মধ্যে রয়েছে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর মতো যুদ্ধবিমান বহনকারী যুদ্ধজাহাজও। আপাতত ওই বহর ভারত মহাসাগরে রয়েছে। পারস্য উপসাগর এবং বাহরিনে থাকা বাকি আমেরিকান নৌবহরের সঙ্গে সেগুলি খুব শীঘ্রই যোগ দেবে। এর জন্য আমেরিকান নৌসেনা বাহিনীর অন্তত ৫৭০০ জন অতিরিক্ত সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরানের যুদ্ধের হুঁশিয়ারির মধ্যেই ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডসের দুই উড়ান সংস্থা পশ্চিম এশিয়ায় কিছু উড়ান পরিষেবা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এয়ার ফ্রান্সের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আপাতত দুবাইগামী তাদের সব উড়ান পরিষেবা বন্ধ থাকছে। সাম্প্রতিক ভূকৌশলগত পরিস্থিতির উপরে তারা নজর রাখছে বলেও জানিয়েছে এয়ার ফ্রান্স। এর পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসের কেএলএম সংস্থা আবার জানিয়ে দিয়েছে, ইজ়রায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরবের মতো দেশগুলিতে উড়ান পরিষেবা স্থগিত রাখছে তারা।
ইরানেরই কিছু সংবাদ সংস্থা দাবি আজ করেছে, খুব সম্প্রতি প্রথম বারের জন্য দূরপাল্লার আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) সফল উৎক্ষেপণ করেছে তেহরান। প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুর উপরে আঘাত হানতে সক্ষম সেই ক্ষেপণাস্ত্র। অর্থাৎ এর পরে আমেরিকার পূর্ব উপকূলেও হামলা চালাতে সক্ষম হবে তেহরান। রাশিয়ার সম্মতিতে সাইবেরিয়ার সমুদ্রে তেহরান এই পরীক্ষা চালিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ইরানের সরকারি আধিকারিকেরা এই উৎক্ষেপণ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতেই রাজি হননি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে