Cambodia Dispute

ফোন কল ফাঁস: তাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে সাসপেন্ড করে দিল আদালত! পাকাপাকি অপসারণেরও সম্ভাবনা

বিতর্কের সূত্রপাত একটি ফোন কল ফাঁসকে কেন্দ্র করে। কম্বোডিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে সীমান্তবিরোধ নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যায় তাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী শিনাবাত্রাকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৫ ১৩:০৫
Share:

তাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েটোঙ্গটার্ন শিনাবাত্রা। —ফাইল চিত্র।

তাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েটোঙ্গটার্ন শিনাবাত্রাকে সাসপেন্ড করল সে দেশের সাংবিধানিক কোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত নির্দেশ দেওয়ার সময় জানিয়েছে, শিনাবাত্রাকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পাকাপাকি ভাবে সরিয়ে দেওয়াও হতে পারে।

Advertisement

বিতর্কের সূত্রপাত একটি ফোন কল ফাঁসকে কেন্দ্র করে। কম্বোডিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে সীমান্তবিরোধ নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যায় শিনাবাত্রাকে। সেই ফোন কল ফাঁস হওয়ার পর থেকেই তাইল্যান্ডে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়। বিরোধীরা সরব হয় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। ফাঁস হওয়া ফোন কলে শোনা যায়, শিনাবাত্রা কম্বোডিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ‘আঙ্কল’ বলে সম্বোধন করছেন । ২০২৩ সালে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও সে দেশে হুনের প্রভাব বিস্তর। উল্লেখ্য, গত মাসে তাইল্যান্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে কম্বোডিয়ার এক জন সেনার মৃত্যু হয়। এই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে। সেই আবহে কম্বোডিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপোকথন তাইল্যান্ডে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

হুন ও শিনাবাত্রার ফোন কল ফাঁস হওয়ার পর থেকেই তাইল্যান্ডে বিক্ষোভ শুরু হয়। শুধু বিরোধীদেরই নয়, নিজের দলের আইনপ্রণেতাদেরও প্রশ্নের মুখে পড়েন শিনাবাত্রা। দিন দশেক আগেই তাইল্যান্ডে শিনাবাত্রার নেতৃত্বাধীন সরকারের হাত ছাড়ে সে দেশের অন্যতম প্রধান দল রক্ষণশীল ভুমজাইথাই পার্টি। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শিনাবাত্রার অপসারণের দাবিতে দেশ জুড়ে নানা জায়গায় প্রতিবাদ বিক্ষোভও শুরু হয়। তাঁর বিরুদ্ধে নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তাইল্যান্ডের সাংবিধানিক কোর্টের দ্বারস্থ হন সে দেশের এক দল সিনেটর। বিক্ষোভের মুখে পড়ে ক্ষমাও চান শিনাবাত্রা। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি।

Advertisement

বিক্ষোভ ক্রমশ বাড়তে থাকায় তাইল্যান্ডের জোট সরকার দলত্যাগের মুখে পড়ে। অনেকের মতে, একের পর এক আইনপ্রণেতার দলত্যাগের কারণে খুব শীঘ্রই শিনাবাত্রার সরকারকে অনাস্থা ভোটের সম্মুখীন হতে হবে। আদালতে মামলাকারীরা জানান, শিনাবাত্রা তাইল্যান্ডের সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তাঁর সততার অভাব রয়েছে। তাঁকে অপসারণের আর্জি জানানো হয়। তবে এখনই তাঁকে অপসারণের নির্দেশ দেয়নি আদালত। শিনাবাত্রাকে সাসপেন্ড করে আদালত জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে।

শিনাবাত্রা তাইল্যান্ডের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী থাকসিনের কন্যা। কোটিপতি থাকসিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। শিনাবাত্রার আগে তাইল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রীর পদে ছিলেন স্রেঠা থাভিসিন। তাঁকে পদচ্যুত করেছিল সে দেশের সাংবিধানিক কোর্ট।। থাভিসিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অপরাধ মামলায় দোষী সাব্যস্তকে মন্ত্রী করেছিলেন আইন ভেঙে। তিনি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত বছর অগস্টে শিনাবাত্রাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ করেন সে দেশের রাজা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement