US-Iran Conflict

হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পার হল দুই মার্কিন রণতরী, থমকে যায় তেহরানের হুমকিতে! দেরিতে শুরু হল আমেরিকা-ইরান বৈঠক

আলোচনা শুরুর আগে থেকেই ইরানকে বেশ কয়েক বার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, হরমুজ় শীঘ্রই খোলা হবে। ইরান সাহায্য না করলেও সেই কাজ করা হবে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ২১:০২
Share:

হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পার হল দুই মার্কিন রণতরী। — ফাইল চিত্র।

নির্ধারিত সময়ের থেকে পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে ইসলামাবাদে শুরু হল আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তিবৈঠক। এই বৈঠকে কোনও রফাসূত্র বার হবে কি না, সে দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। কিন্তু তার মধ্যেই হরমুজ় প্রণালী নিয়ে টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসি়ডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা, ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি এবং হরমুজ়গামী রণতরীর দিক পরিবর্তন এবং প্রণালী পেরোনো— সব মিলিয়ে বৈঠকের মাঝেই ঘটছে নানা ঘটনা।

Advertisement

শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসেছে ইরান এবং আমেরিকা। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। শনিবার সকালের দিকে তিনি ইসলামাবাদে পৌঁছোন। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময়ের পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে সেই বৈঠক শুরু হয়। দেরি হওয়ার কারণ শর্ত নিয়ে দুই তরফে টানাপড়েন। যদিও দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে দুই পক্ষ আলোচনায় বসেছে।

আলোচনা শুরুর আগে থেকেই ইরানকে বেশ কয়েক বার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, হরমুজ় শীঘ্রই খোলা হবে। ইরান সাহায্য না করলেও সেই কাজ করা হবে। তাঁর আরও দাবি, এই কাজে ‘সাহায্য’ করবে অন্য দেশও। তাঁর কথায়, ‘‘কাজটা সহজ নয়। আমি বলব, খুব শীঘ্রই ওই পথ খুলব।’’ বৈঠক শুরুর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ়ে সামুদ্রিক মাইন পাতা নিয়ে ইরান শুধুই ‘হুমকিই’ দিচ্ছে। তিনি এ-ও দাবি করেন, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি-সহ অনেক দেশের সুবিধার্থে আমেরিকা হরমুজ় প্রণালী পরিষ্কার করার কাজ শুরু করছে। তার পরেই কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘তাদের নিজেদের (বিশ্বের অন্য দেশের) এই কাজ করার মতো সাহস বা ইচ্ছাশক্তি নেই।’’

Advertisement

সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে দাবি করেছিল, ইরানের সঙ্গে শান্তিবৈঠকের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মাঝেই পশ্চিম এশিয়ায় আরও সেনা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আমেরিকা। শুধু তা-ই নয়, মার্কিন রণতরীও পাঠানো হচ্ছে হরমুজ়ের দিকে। জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজ়াইরা বন্দর থেকে একটি যুদ্ধবিমান রওনা দিয়েছিল হরমুজ়ের দিকে। তবে তখনই প্রতিক্রিয়া দেয় ইরান। তারা পাকিস্তানকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, মার্কিন রণতরী যদি হরমুজ়ের দিকে এগোয়, তবে তা লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সেই হুমকি প্রকাশ্যে আসার পরই পথ পরিবর্তন করে ওই জাহাজগুলি। তবে পরে আমেরিকার তরফে দাবি করা হয়, শান্তিবৈঠকের মাঝেই দু’টি মার্কিন রণতরী পার হয়েছে হরমুজ় দিয়ে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ হরমুজ় পার করল। তবে এখনও এ ব্যাপারে ইরানের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

তবে শান্তিবৈঠকের মাঝেই ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে লেখেন, ‘অনেক প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে ইরান জিতছে, তবে প্রকৃতপক্ষে সবাই জানেন তারা হারছে। তাদের সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।’ ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কিচ্ছু নেই। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, তাদের বড় নেতারাও আমাদের মধ্যে নেই।’

তার পরেই ট্রাম্প দাবি করেন, ‘বিভিন্ন দেশের জাহাজ তেল বোঝাই করতে আমেরিকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধে ইতি টানা নিয়ে সমঝোতা হলেও হরমুজ় পারাপারের জন্য জাহাজগুলির থেকে শুল্ক আদায় করতে পারে তারা। ট্রাম্প যদিও অনড়, শুল্ক ইরানকে নিতে দেবেন না। তিনি বলেন, ‘‘ওরা তা করতে চাইলে আমরা করতে দেব না।’’ তিনি এ-ও জানিয়েছেন, ইরানের হাতে যাতে পরমাণু অস্ত্র না থাকে, সেটাই নিশ্চিত করতে চায় আমেরিকা। আর তাতেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে তারা। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকবে না। ৯৯ শতাংশ এটাই হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement