US-Iran Conflict

‘সমাজমাধ্যমে পাগলের মতো আচরণ, যুদ্ধেও ব্যর্থ’! ইরানের বিরুদ্ধে হম্বিতম্বি করে নিজের দেশেই সমালোচিত ট্রাম্প

বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যেরা তো বটেই, ট্রাম্পের ইরান-নীতির সমালোচনায় মুখর হয়েছেন তাঁর নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির বেশ কয়েক জন সদস্যও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৫
Share:

ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

ইরানের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে নিজের দেশেই সমালোচিত হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করে কী লাভ হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মার্কিন আইনসভার সদস্যেরা। বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যেরা তো বটেই, ট্রাম্পের নীতির সমালোচনায় মুখর হয়েছেন তাঁর নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির বেশ কয়েক জন সদস্যও।

Advertisement

মার্কিন আইনসভার ডেমোক্র্যাট সদস্য তথা মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন আধিকারিক জেক অকিনসল রবিবার ‘ফক্স নিউজ়’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, “কৌশলগত দিক থেকে এই যুদ্ধ (আমেরিকার কাছে) একটা ব্যর্থতা।” এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ইরান হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ রেখে কৌশলগত দিক থেকে কিস্তিমাত করে দিয়েছে ইরান। আইনসভার আর এক ডেমোক্র্যাট সদস্য রো খন্নার কথায়, “আমাদের (আমেরিকার) এখনই এই যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত। এখনই একটা সংঘর্ষবিরতি প্রয়োজন।” ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে তাঁর সংযোজন, “উনি বলছেন যে, ইরানের সেনাবাহিনী নাকি দুর্বল হয়ে গিয়েছে। অথচ ইরানেই মার্কিন সেনাবাহিনী আক্রান্ত হচ্ছে।”

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মধ্যে হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ না-তুললে ইরানকে নরকে পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ওই হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পোস্টে একাধিক আপত্তিকর এবং অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেন ট্রাম্প, যা নিয়ে বিতর্ক বাধে। তার কিছু ক্ষণ পর আর একটি পোস্ট করে সময়ও নির্দিষ্ট করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি লেখেন, ‘‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা (মার্কিন সময়)।” এই পোস্ট নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন তাঁরই দলের নেত্রী তথা মার্কিন আইনসভার প্রাক্তন সদস্য মারজোরি টেলর গ্রিন। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “মার্কিন প্রশাসনের সদস্যেরা প্রেসিডেন্টকে পুজো করা বন্ধ করুন। আর ওঁর পাগলামো বন্ধ করতে কিছু পদক্ষেপ করুন।”

Advertisement

মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষ সেনেটের সদস্য চাক স্কুমার ট্রাম্পকে ‘উন্মাদ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেম, “সমাজমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আচরণ উন্মাদের মতো।” আমেরিকার কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সেনেটর ক্রিস মারফি বলেন, “উনি (ট্রাম্প) কয়‌েক হাজার মানুষকে মেরেছেন। যুদ্ধ করে আরও কয়েক হাজার মানুষকে মারতে চলেছেন।” ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করতে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট তাঁর দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে ক্যাবিনেটের সদস্যেরা তাঁকে অপসারণ করতে পারেন।

রবিবারই ট্রাম্পের হুমকিকে কার্যত অগ্রাহ্য করে ইরান বলেছিল, ট্রাম্প ‘অসহায়, ভীত, ভারসাম্যহীন এবং বোকা’। ট্রাম্পকে পাল্টা হুমকি দিয়ে ইরানের সেনাবাহিনীর অন্যতম মুখপাত্র ইব্রাহিম জ়োলফাঘারি বলেন, “যদি সংঘাত বাড়ে, তা হলে আপনার জন্য গোটা অঞ্চলটাই (পশ্চিম এশিয়া) নরকে পরিণত হবে। আপনি ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে হারানোর স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু সেটা স্বপ্নই থেকে যাবে।” এ বার অন্য কোনও দেশ নয়, যুদ্ধনীতি নিয়ে নিজের দেশেই সমালোচনার মুখে পড়লেন ট্রাম্প।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement