হরমুজ়ে আটকে থাকা জাহাজগুলির নাবিকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সামরিক সংঘাত চলছে পশ্চিম এশিয়ায়। এই সংঘাতের জেরে হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে দিয়েছে ইরান। আর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খোলাকে কেন্দ্র করে সংঘাত উত্তরোত্তর বাড়ছে। ইরানকে বার বারই আমেরিকা হুঁশিয়ারি দিচ্ছে এই জলপথ খুলে দিতে। কিন্তু ইরানও নাছোড়। ফলে এই সংঘাতের মাঝে পড়ে হরমুজ়ে প্রায় তিন হাজার তেল এবং গ্যাসবাহী বিভিন্ন দেশের জাহাজ আটকে।
উপসাগরীয় দেশগুলির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকে থাকা তিন হাজার জাহাজে ২০ হাজারেরও বেশি নাবিক এবং কর্মী রয়েছেন। প্রতি মুহূর্তে তাঁদের মৃত্যুভয় গ্রাস করছে। এক দিকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলার ভয়, অন্য দিকে, খাবার, জল এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী কমে আসতে থাকায় সেই ভয় দ্বিগুণ হওয়া। নাবিকেরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলির কাছে কাতর আর্জি জানিয়েছেন, ‘‘আমরা এখানে মরতে চাই না। আমাদের উদ্ধার করুন। খাবার, জলের ব্যবস্থা করুন।’’
ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (আইটিএফ)-এর নিজস্ব দল রয়েছে, যারা সমুদ্রে পণ্যবাহী জাহাজের নাবিকদের সহযোগিতা করে। আটকে থাকা জাহাজের এক নাবিক এক সপ্তাহ আগে আইটিএফ-কে ইমেল পাঠিয়ে সাহায্যের আর্জি জানান। তিনি গোটা ঘটনা এবং পরিস্থিতি উল্লেখ করে ইমেল করেন। আইটিএফ সূত্রে খবর, তাদের কাছে জানানো হয়েছে, যত সময় যাচ্ছে জাহাজগুলিতে মজুত খাবার এবং পানীয় জলে টান পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হতে থাকে তা হলে না খেয়ে মরতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন-এর তথ্য বলছে, হরমুজ়ে ২০ হাজারের বেশি নাবিক এবং কর্মী আটকে রয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে এই প্রণালীতে তেল এবং গ্যাসবাহী জাহাজে হামলায় আট জনের মৃত্যু হয়েছে।