উত্তর কলকাতার গর্ব, আড়াই শতাব্দীর ছাতুবাবু-লাটুবাবুর দুর্গোৎসব কেমন করে সেজে উঠছে এই বছর?
আড়াই শতাব্দীর ইতিহাস বয়ে চলেছে ছাতুবাবু-লাটুবাবুর বাড়ির দুর্গোৎসব
উত্তর কলকাতার বাগবাজার থেকে হাঁটা পথেই পৌঁছে যাওয়া যায় বিডন স্ট্রিটের লালচে প্রাসাদোপম বাড়িতে। ‘রামদুলাল নিবাস’। এখানেই প্রতি বছর আয়োজিত হয় কলকাতার অন্যতম প্রাচীন বনেদি দুর্গোৎসব, ছাতুবাবু-লাটুবাবুর বাড়ির পুজো।
সূচনা ১৭৭০ সালে, বণিক রামদুলাল দে-র হাতে। এক সময়ে দারিদ্র্যে জন্মানো যে অনাথ শিশু পরবর্তীতে আমেরিকার সঙ্গে সমুদ্রপথে ব্যবসা করে হয়ে উঠেছিলেন বাংলার অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী। এমনকী, তাঁর বাণিজ্যের সুবাদেই কলকাতায় খোলা হয়েছিল দেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতম মার্কিন কনস্যুলেট।
রামদুলালের মৃত্যু পরে তাঁর দুই পুত্র—আশুতোষ দে (ছাতুবাবু) ও প্রমথনাথ দে (লাটুবাবু) বাড়ির পুজোর ভার নেন। বনেদিয়ানার আড়ম্বর, সঙ্গীতচর্চা আর আতিথেয়তার জন্যই বিখ্যাত ছিলেন এই দুই ভাই।
তাঁদের উত্তরাধিকার রক্ষার জন্য ১৯১৯ সালে গঠিত হয় ‘অনাথনাথ দেব ট্রাস্ট’। সেই ট্রাস্টই আজও চালিয়ে যাচ্ছে আড়াই শতাব্দী পুরনো এই পুজো।
প্রথা মেনে এখানকার প্রতিমা একচালা। দেবী লক্ষ্মী ও সরস্বতী পূজিত হন জয়া-বিজয়া রূপে।
আরও পড়ুন:
বিসর্জনের আগে নীলকণ্ঠ পাখি উড়িয়ে দেওয়ার রীতি এক সময়ে ছিল এখানকার বিশেষ আকর্ষণ। এ ছাড়া নববর্ষে হয় চড়ক পুজো, যাকে ঘিরে জমে ওঠে বিডন স্ট্রিটের চড়ক মেলা।
প্রাসাদের স্থাপত্যই চোখ টানে সবার আগে। ভিক্টোরিয়ান ধাঁচের লাল ইটের অট্টালিকা, স্তম্ভে ঘেরা বিশাল ঠাকুরদালান, আর ৪০০ আসনের নাটমন্দিরে যেন ইতিহাস কথা বলে।
রামদুলাল দে-র ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে এই পুজোয় কোনও রকম পশুবলি দেওয়া হয় না।
২০২৫ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী থেকে ২ অক্টোবর দশমী পর্যন্ত সাড়ম্বরে আয়োজিত হবে এই বনেদি বাড়ির দুর্গোৎসব।
আরও পড়ুন:
উত্তর কলকাতার পুজোর তালিকায় এখনও অগ্রগণ্য এই প্রাচীন পুজো, যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর পুজোর আবহ একসঙ্গে বেঁধে রাখে মানুষকে। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ)।