কোথাও দেবী ভাসমান, কোথাও তিনি দশভূজা! জমজমাট বারোয়ারি কালীপুজোর থিম
কালীপুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে জেনে নিন কাদের আয়োজন কেমন।
আজ কালীপুজো। দুর্গাপুজোর মতোই এখন বারোয়ারি কালীপুজোগুলিতেও বেড়েছে থিমের দাপট। কলকাতা থেকে শুরু করে শহরতলি কিংবা জেলা, সর্বত্রই পুজোর আয়োজক ক্লাব ও কমিটিগুলি পরস্পরকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত। এমনই কয়েকটি পুজোর তথ্য রইল এখানে।
এ বার কালীপুজোর 'ভাসমান' মণ্ডপ দেখতে হলে যেতে হবে দমদম মেট্রো স্টেশনের নিকটবর্তী বিবেকানন্দ সুইমিং পুলে। কারণ, এখানে জলের উপরে সমগ্র মণ্ডপটি নির্মাণ করা হয়েছে। থিমের নাম দেওয়া হয়েছে 'জলজ'।
মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে এই মণ্ডপে। অনবদ্য এই থিম দর্শনার্থীদের যারা উপহার দিচ্ছে, তারা হল ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি কালীপূজা কর্তৃপক্ষ।
দমদম স্টেশনের কাছেই আরও একটি কালীপুজোর মণ্ডপ দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সৌজন্যে জপুর জয়শ্রীর শ্যামাপুজোর আয়োজন।
এখানে দেবীকে অনন্য ভাবে উপস্থাপিত করা হয়েছে। সাধারণত, কালী দণ্ডায়মান থাকেন শায়িত শিবের উপরে। কিন্তু, এখানে দেবীকে শিবলিঙ্গের উপরে নটরাজের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাবে।
আরও পড়ুন:
দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ এলাকায় রুষা শক্তি সেবা কেন্দ্রের এ বারের কালীপুজোর থিম - 'নিশির ডাক'! মণ্ডপে ঢুকলেই একটা গা ছমছমে পরিবেশ দেখা এবং অনুভব করা যাবে।
পাথরঘাটা শ্যামাপুজা উদযাপন পরিষদের পুজোর বয়স ৩০ বছর। এ বারের আয়োজনে দেবীকে কবির কল্পনা অনুসারে বর্ণনা করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর জন্য পরম কালীভক্ত কাজী নজরুল ইসলামের রচনা ও সৃষ্টির সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
অনবদ্য এই থিম বাস্তব রূপ পেয়েছে নিলয় নন্দী, অপটিমিস্ট দে প্রমুখের হাত ধরে। প্রতিমা গড়েছেন শিল্পী অপূর্ব শীল। আলোকসজ্জায় রয়েছে ১৯ লাইট হাউস। সার্বিক সহযোগিতা করেছে রামধনু ক্লাব।
উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র শিলিগুড়ি শহরেও কালীপুজোর জমজমাট আয়োজন করা হয়েছে। বারোয়ারি পুজোগুলির মধ্যে বিশেষ করে নজর কাড়ছে টিএস ক্লাবের আয়োজন।
আরও পড়ুন:
এ বছরের পুজোয় কালীকেই দুর্গা রূপে আরাধনা করা হচ্ছে। তাই দেবী এখানে দশভূজা। এ ছাড়াও মণ্ডপসজ্জায় সর্বত্রই দেবাদিদেব মহাদেবের নানা রূপে উপস্থিতি দেখা যাবে। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)