৮৯ বছরে শিব মন্দিরের অনন্য আয়োজন, মনসামঙ্গলের লোককথার আবহে থিম ‘বিষহরি’-তে থাকছে কোন চমক?
বাঁশ, চট, মাটি আর লোককথার ছোঁয়ায় গড়ে উঠছে সাপেদের দুনিয়া, মনসা মঙ্গলের পংক্তিতেই বাঁধা থিম ‘বিষহরি’।
পুজো মানেই উৎসব, আনন্দ। আর এই আনন্দের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হল নতুন নতুন ভাবনা, যা মণ্ডপে মণ্ডপে নিয়ে আসে এক নতুন রূপ।
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ শিব মন্দির সর্বজনীনের দুর্গোৎসব। এ বার ৮৯ বছরে পা দিল এই পুজো। থিমে ফুটে উঠেছে গ্রাম বাংলার পুরনো কাহিনি।
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পার্থ ঘোষ জানিয়েছেন, এ বারে তাদের ভাবনার নাম 'বিষহরি', মানে যে দেবী বিষ হরণ করেন, সাপের ভয় দূর করেন। মনসামঙ্গল কাব্যের প্রেক্ষাপটে বিষ হরণকারী দেবীর উপাসনাকে জীবন্ত করে তুলছে শিব মন্দিরের মণ্ডপ।
মণ্ডপে প্রবেশ করলেই দর্শকরা দেখতে পাবেন মনসামঙ্গল কাব্যের বিভিন্ন পংক্তি যা গল্পের আকারে পুরো মণ্ডপ জুড়ে বুনন করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, মণ্ডপের মূল অংশে দেবী দুর্গা বিরাজমান থাকলেও, মণ্ডপের এক পাশে স্থাপন করা হয়েছে দেবী মনসার একটি সুন্দর প্রতিমা-ও।
আরও পড়ুন:
শিল্পী প্রশান্ত পাল এই পুরো ভাবনাটিকে তার নিপুণ হাতে গড়ে তুলেছেন।
মণ্ডপ সজ্জার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে প্রচুর পরিমাণে চট, হাড়ি, বাঁশের কঞ্চি, কাপড়, টালি এবং বেত।
প্রতিমা মূর্তির পেছনে টালি ও বেতের কাজ, সাথে গামছার কাজ যেন বাংলার লোকশিল্পের এক দারুণ উদাহরণ।
সব থেকে আকর্ষণীয় অংশ হল মণ্ডপের শেষের দিকে তৈরি করা হয়েছে সাপের গহ্বর, যেখান থেকে বেরিয়ে আসছে অজস্র সাপ।
আরও পড়ুন:
এই মণ্ডপের আলোক সজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন প্রমেন্দ্র প্রকাশ চাকি। পুরো মণ্ডপ জুড়ে আলো-ছায়ার খেলা বিষহরি দেবীর রূপকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে আসে। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ)।