৪৬-এর দাঙ্গার কারণে সফর শুরু, ‘পথের পাঁচালী’র সঙ্গে সমাজসেবী ফিরল আশি বছর আগে
১৯৪৬ সালের কথা। তখনও দেশে বহাল ব্রিটিশ শাসন। সঙ্গে দোসর শহরে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা।
১। ১৯৪৬ সালের কথা। তখনও দেশে বহাল ব্রিটিশ শাসন। সঙ্গে দোসর শহরে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা।
২। তারিখটা ছিল ওই বছরেরই ১৬ অগস্ট। ভয়ংকর রূপ নেয় সেই দাঙ্গা। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তায় নামে সাধারণ মানুষ।
৩। সম্প্রীতির বার্তা ছড়ানোর পাশাপাশি সেই সময়ে প্রচুর ত্রাণের কাজও চালানো হয়। এক এক করে যুক্ত হন বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীরাও। ঠিক হয়, দুর্গাপুজো হবে।
৪। লীলা রায়ের হাত ধরে এই কমিটির নামকরণ হয় ‘সমাজসেবী সংঘ’।
৫। দেখতে দেখতে ৮০ বছর পার করল এই পুজো কমিটি। এই বছর সেই ১৯৪৬ সালেই ফিরে গেল এই দুর্গোৎসব। সমাজসেবী সংঘের এই বছরের ভাবনা ‘পথের পাঁচালী ১৯৪৬’।
আরও পড়ুন:
৬। কমিটির সাধারণ সম্পাদক অরিজিৎ মৈত্র বলেন, “১৯৪৬ সাল থেকে আমাদের সেবামূলক কাজের শুরু। স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে সক্রিয় ভাবে জড়িয়ে থাকা মানুষেরাই উপদেশ দিয়েছিলেন পুজো করার। যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা পায় এবং একই ভাবে ত্রাণকার্যও চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।”
৭। তিনি যোগ করেন, “৮০ বছর আগের দুর্গাপুজোকেই তুলে ধরা হচ্ছে এ বার। সেই প্রেক্ষাপটে আমরা যে ভাবে আমাদের সেবামূলক কাজ চালিয়ে গিয়েছি, তারই ঝলক ফুটে উঠবে এখানে। ভাবনায় শিল্পী প্রদীপ দাস। প্রতিমা শিল্পী পিন্টু সিকদার।”
৮। বাঁশ, কাঠ, লোহা, প্লাইউড-সহ নানা জিনিসের মিশেলে গড়ে ওঠা মণ্ডপসজ্জার ভিতরে ঢুঁ দিলেই দেখা মিলবে টাইপ রাইটার, বড় লরি এমং প্রেস যন্ত্রের ছবিও।
৯। অরিজিৎ মৈত্রের কথায়, “ব্রিটিশ শাসনকালে প্রায় যে কোনও বার্তালাপের মাধ্যমই ছিল চিঠি। সেই কারণেই টাইপ রাইটার রাখা। অপর দিকে গণমাধ্যম খবরের কাগজকে উৎসর্গ করতে আমরা রেখেছি একটি প্রেস যন্ত্রের পরিকাঠামো।”
আরও পড়ুন:
১০। জানেন কি আজকের দিনে যেখানে সমাজসেবী সংঘ দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেখানে এক সময়ে ছিল তিন তিনটি মিলিটারি ক্যাম্প। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই মিলিটারিদের যাতায়াতের জন্য সেই জায়গা দিয়ে সারা দিন ধরে চলত একের পর এক বিশালাকার লরি।
১১। দক্ষিণ কলকাতায় এসে এক বার এই পুজো মণ্ডপে ঘুরে গেলে দেখা পেয়ে যাবেন এই সব কিছুরই। ( এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ। )