কুসংস্কারের ‘অচলায়তন’ ভাঙার বার্তা তেলেঙ্গাবাগানে! দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে আর কোন চমক?
ইট, সিমেন্ট দিয়ে জোরকদমে চলছে মণ্ডপসজ্জার কাজ।
না চাইতেও অনেক সময়ই কত ধরনের কুসংস্কারের জালে জড়িয়ে যায় মানুষ, সেগুলি মাথায় পাকাপাকি একটা বাসা বেঁধে নেয়। এ বার তার বিরুদ্ধেই বার্তা দিতে প্রস্তুত তেলেঙ্গাবাগান।
উত্তর কলকাতার এই পুজো এ বার ৬০ বছরে পা দিল। তেলেঙ্গাবাগানের এ বারের পুজোর থিম ‘অচলায়তন’।
এই ‘অচলায়তন’ মানে পাঠ্য বইয়ে পড়া সেই গল্প নয়। বরং কুসংস্কারের ‘অচলায়তন’ ভাঙার বার্তা দেবে এই ক্লাব তাদের থিমের মাধ্যমে।
তেলেঙ্গাবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সম্পাদক মধু সাহা আনন্দবাজার ডট কমকে বলেন, “আমাদের থিমের নাম অচলায়তন।”
এই ভাবনার ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “মূলত কুসংস্কার নিয়ে আমাদের এই থিম। আমরা আজও দেখি, বিড়াল রাস্তা কাটলে দাঁড়িয়ে পড়েন অনেকে। মাঙ্গলিক যাঁরা হন সেই মেয়েদের শিবের সঙ্গে, কিংবা কলা গাছের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়, এ সমস্ত কুসংস্কার নিয়ে আমাদের মূল ভাবনা।”
আরও পড়ুন:
তিনি এ দিন আরও জানান তেলেঙ্গাবাগানের এ বারের থিম থেকে সমস্ত পরিকল্পনা, প্রতিমা সবই করেছেন পরিমল পাল।
‘অচলায়তন’ বানাতে তেলেঙ্গাবাগানে ব্যবহৃত হয়েছে প্লাইউড, কাঠ, বাঁশ, সিমেন্ট, ইট। মধু সাহা জানিয়েছেন তাঁরা তাঁদের মণ্ডপসজ্জার কাজে কোনও দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করেননি।
তবে এ বার তাঁদের বিশেষ চমক রয়েছে অন্য জায়গায়। একটি অচল বা স্থির চিত্র রাখা থাকবে মণ্ডপে। সেটিকে স্ক্যান করলেই সচল হয়ে যাবে।
এই ভাবনার বিষয়ে মধু সাহা বলেন, “এটা খুব সম্ভবত আমরা কলকাতায় প্রথম করলাম। এটা একটা অভিনবত্ব যা আমরা দেখাতে চলেছি এ বার।”
আরও পড়ুন:
তা হলে এই বছর উত্তরের ঠাকুর দেখতে গেলে এক বার ঢুঁ মারবেন নাকি তেলেঙ্গাবাগানে? ( এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ। )