Advertisement
RERA ACT Importance

রেরা আইন কী? কেনই বা এটি গুরুত্বপূর্ণ?

২০১৬ সালের ১০ মার্চ সংসদে রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি বা রেরা আইন পাশ করে কেন্দ্রীয় সরকার। বাড়ি অথবা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের স্বার্থরক্ষার জন্য ২০১৭ সালের ১ মে থেকে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে চালু হয় এই আইন।

প্রতীকী চিত্র

প্রতীকী চিত্র

আনন্দ উৎসব ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৩ ১৩:২৯
Share: Save:

বাড়ি কিনতে গিয়ে ঠকেছেন, এমন মানুষের সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। কাঁড়ি কাঁড়ি কষ্টার্জিত টাকা খরচ করেও বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে বহু ক্রেতাকে। বেশ কয়েক বছর আগেও বাড়ির প্রোমোটার বা নির্মাতার কথাই ছিল শেষ কথা। ভুল বোঝালেও তা অন্ধ ভাবে মানতে হত ক্রেতাদের।

সমস্যা সমাধানে ২০১৬ সালের ১০ মার্চ সংসদে রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি বা রেরা আইন পাশ করে কেন্দ্রীয় সরকার। বাড়ি অথবা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের স্বার্থরক্ষার জন্য ২০১৭ সালের ১ মে থেকে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে চালু হয় এই আইন। মূলত রিয়েল এস্টেটের লেনদেনে নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতা বাড়াতেই চালু হয় এই রেরা আইন। এক নজরে দেখে নিন আইনের বৈশিষ্ট্যগুলি কী:

১. মূলত আবাসন প্রকল্পগুলির দেখাশোনা, কোনও সমস্যা থাকলে তা মেটানো ও ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষা করতে সব রাজ্যে রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি স্থাপন করা— এই বিষয়গুলি রেরা আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়।

২. সমস্ত আবাসন প্রকল্প রেরা আইনে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। নির্দিষ্ট নিয়ম বা নির্দেশিকা না মানলে প্রকল্পের অনুমোদন বাতিল করতে পারেন কর্তৃপক্ষ।

৩. যদি প্রোমোটার প্রকল্পের স্বত্ব কোনও তৃতীয় পক্ষের হাতে তুলে দিতে চান, সে ক্ষেত্রে রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটির লিখিত অনুমতির পাশাপাশি দুই-তৃতীয়াংশ ক্রেতার লিখিত সম্মতি আবশ্যিক।

৪. রেরা-র কোনও সিদ্ধান্তে কোনও ক্রেতা সন্তুষ্ট না হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।

৫. যদি নির্মাতার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ওঠে, তবে তদন্ত চলাকালীন প্রোমোটারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিতে পারে রেরা।

৬. রেরা আইনের আওতায় কোনও সংস্থা অপরাধ করলে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময়ে যে ব্যক্তি বা সংস্থা ব্যবসার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদেরও দোষী হিসেবে ধরা হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে।

৭. প্রোমোটার বা নির্মাতা যদি রেরা-র নির্দেশ না মানেন, তা হলে জরিমানা দিতে হয়। প্রকল্প খরচের ৫ শতাংশ টাকা জরিমানা হিসাবে কাটার নিয়ম রয়েছে এই আইনে।

৮. চুক্তি অগ্রাহ্য করলে অথবা আদালতের নির্দেশ না মানলে প্রোমোটারের তিন বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, মোট প্রকল্পের খরচের ১০ শতাংশ জরিমানাও দিতে হয়। এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে জেল ও জরিমানা দুটোই হতে পারে।

৯. ফ্ল্যাট বা বাড়ির দখল নেওয়ার সময়ে যদি মালিকানায় গরমিল থাকে, তবে ক্রেতাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। আর এ ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের কোনও ঊর্ধবসীমা নেই।

১০. ক্রেতা যদি প্রোমোটারকে টাকা দিতে দেরি করেন, তা হলে যে অঙ্কের সুদ গুনতে হতো, সময়ে ফ্ল্যাটের অধিকার না-দিতে পারলে, ক্রেতাদের সেই সুদ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হয় প্রোমোটারদের। আগে প্রোমোটারদের ক্ষেত্রে এই সুদের পরিমাণ কম ছিল। নতুন রেরা আইনে ক্রেতা এবং প্রোমোটারের সুদের হার সমান।

এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE