রাজস্থানের এই গ্রামটি কেন অভিশপ্ত এবং জনশূন্য? প্রেতাত্মার কাহিনি লোকমুখে
'সোনার কেল্লা'র কাছে এই গ্রাম নাকি জনমানবহীন! কারণ? লোকের মুখে ঘোরে 'প্রেতাত্মার'' গল্প! কী অদ্ভুত!
মুকুলের 'সোনারকেল্লা' থেকে মেরেকেটে ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে এই গ্রাম! লোকে বলে 'ভূতুড়ে'! রাজস্থানের জয়সলমের জেলায় ৩০০ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এক জনশূন্য গ্রাম কুলধারা!
জয়সলমেরের দুর্গ অর্থাৎ সত্যজিৎ রায় রচিত ও পরিচালিত ফেলুদার রহস্য সিনেমা 'সোনার কেল্লা'র থেকে মাত্র কিলোমিটার বিশেক দুরত্বে যে এমন সত্যিকারের রহস্যময় গ্রাম আছে জানতেন কি?
শুধু রহস্যময় বললে বোধহয় কিছুই বলা হয় না। থর মরুভূমির বুকে এই একুশ শতকেও সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত ও জনশূন্য কুলধারা গ্রাম! আজও স্থানীয় রাজস্থানীদের বিস্মিত প্রশ্ন, অভিশপ্ত কুলধারায় কার অতৃপ্ত আত্মা ঘুরে বেড়ায়? এ কী অভিশাপ, না অন্য রহস্য!
পর্যটন প্রিয় বাঙালির আবার আজকে ভূত চতুর্দশীতে বিশেষ আগ্রহ জাগতে পারে কুলধারা নিয়ে, যেহেতু রাজস্থান সরকার এক দশকের উপর হয়ে গেল অদ্ভূতুড়ে গ্রাম কুলধারাকে একটি রহস্যাবৃত পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে তুলে ধরেছে ভ্রমণবিলাসীদের কাছে। রাজপুতানার অভিশপ্ত গ্রাম কুলধারার রহস্যটা ঠিক কী? শুনুন তা হলে!
১৩ শতকের কাছাকাছি প্রতিষ্ঠিত কুলধারা গ্রাম এক সময় পালিওয়াল ব্রাহ্মণদের দ্বারা অধ্যুষিত এক সমৃদ্ধ গ্রাম ছিল। কথিত, ১৯ শতকের গোড়ার দিকে, মোটামুটি ১৮১৫ সালে, জনশূন্য হয়ে যায় এই কুলধারা। অথচ থরের বুকে এক সময় বর্ধিষ্ণু গ্রাম ছিল কুলধারা। যে জায়গায় গত বহু বছর ধরে স্থানীয় মানুষদের দাবি অনুযায়ী, রাত হলেই অতৃপ্ত আত্মারা ঘুরে বেড়ায়!
আরও পড়ুন:
শোনা যায়, এই গ্রামেই ছিল এক ব্রাহ্মণের মেয়ে। সে তৎকালীন জয়সলমেরের রাজার দেওয়ান সেলিম সিংহকে মনে মনে ভালবাসত। সেলিমও ওই তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু পালিওয়াল ব্রাহ্মণরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার পরেই শুরু হয় গ্রামবাসীদের উপর দেওয়ানের পাশবিক অত্যাচার।
সেই পাশবিকতা থেকে বাঁচতে কুলধারা গ্রামের সব বাসিন্দারা রাতারাতি ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু সেই রাগে ব্রাহ্মণের অসহায় মেয়েটিকে খুনও করে উন্মত্ত গ্রামবাসীরা। ওই মেয়েটির অতৃপ্ত আত্মাই নাকি এখনও রাতে ঘুরে বেড়ায় পরিত্যক্ত ও জনশূন্য কুলধারায়। এমনই মনে করে কিছু মানুষ!
আরেকটি প্রচলিত কাহিনি আছে যে, জয়সলমেরের রাজার দুশ্চরিত্র প্রধানমন্ত্রী সেলিম সিংহের কুনজর পড়েছিল গ্রাম প্রধানের মেয়ের উপর। রাজা ছিলেন মন্ত্রীর হাতের পুতুল। ফলে গ্রাম প্রধান আরওই প্রমাদ গোনেন।
কালবিলম্ব না করে সেই প্রধান ব্রাহ্মণ কুলধারার অন্যান্য সমস্ত ব্রাহ্মণদের সঙ্গে নিয়ে রাতের অন্ধকারে গ্রাম ছেড়ে পালান। কিন্তু বেচারা গ্রাম প্রধান নিজের সেই মেয়েকেই বাঁচাতে পারেননি! পালানোর পথে মারা যান মেয়েটি। তাঁর অতৃপ্ত আত্মাই পরিত্যক্ত গ্রামে রাতে কেঁদে বেড়ায়।
আরও পড়ুন:
ক্ষিপ্ত সব ব্রাহ্মণ জয়সলমেরের রাজা ও প্রধানমন্ত্রীকে নাকি অভিশাপ দেন, তাঁদেরও ভবিষ্যতে কোনও বসতি থাকবে না এই গ্রামে। সেই অভিশাপই আজও বয়ে চলেছে অভিশপ্ত কুলধারা গ্রাম।
এত প্রচুর বছরে কুলধারার সমস্ত বাড়ির ছাদের চাল উড়ে গেলেও ইটের দেওয়াল ভেঙে পড়েনি এখনও। সব মিলিয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত অদ্ভূতুড়ে কুলধারা দেখতেও পর্যটকেরা ওই অভিশপ্ত গ্রামে বেড়াতে যান। আপনিও যাবেন নাকি? আচমকা পরিত্যক্ত গ্রামের রহস্যভেদ করতে?
কীভাবে যাবেন - হাওড়া থেকে ট্রেনে জয়পুর গিয়ে সেখান থেকে লোকাল ট্রেন বা ভাড়া গাড়িতে জয়সলমের। সেখান থেকে কুলধারা ১৮ কিলোমিটার। থাকার জায়গা - জয়সলমেরে অনেক হোটেল আছে। এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।