প্রাচীন অরুণাচলের স্বাদ পেতে আপনাকে এই উৎসব দেখতেই হবে!
বাস্কন উৎসব! গালো উপজাতিদের ঐতিহ্যশালী নাচ থেকে হালফ্যাশনের রক নাচ—সব পাবেন। সঙ্গে নাটক, নৃত্যনাট্য, গল্পপাঠ, লোকশিল্প, এমনকী স্থানীয় খেলাধুলোও দেখতে পাবেন এখানে!
অরুণাচল প্রদেশ বেড়াতে গিয়েছেন? হয়তো ‘হ্যাঁ’, হয়তো ‘না’ বলবেন! কিন্তু যদি বলি, অরুণাচলের লেপা রাদা-এ গিয়েছেন? সেখানকার ‘বাস্কন উৎসব’ দেখেছেন? তা হলে ক’জন ‘হ্যাঁ’ বলবেন, সন্দেহ!
তবে হ্যাঁ, একই সঙ্গে গভীর প্রকৃতিপ্রেমী, পাশাপাশি উপজাতিদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে আত্মিকবোধ অনুভব করেন, এমন ভ্রমণপিপাসু মানুষজন নিশ্চয়ই অরুণাচল প্রদেশের লেপা রাদা জেলায় পৌঁছে গিয়ে বাস্কন উৎসবেও সামিল হয়েছেন!
এই ফেস্টিভ্যাল সম্পূর্ণ রূপে সেখানকার উপজাতিদের খাঁটি স্থানীয় উৎসব। গালো উপজাতি নামে অরুণাচলের এক উপজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব উৎসব এটি। এই উৎসবকে সর্বাঙ্গসুন্দর করে তুলতে অরুণাচলের, আরও বিস্তারিত বললে, স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রচুর সাহায্য করে। এই সাহায্যের পিছনে যাদের মূল লক্ষ্য হল, প্রকৃতির অপার আশীর্বাদধন্য অথচ আর্থ-সামাজিক ভাবে তুলনায় অনুন্নত অরুণাচলে পর্যটন গড়ে উঠুক, পর্যটক বাড়ুক, পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি বেঁচে থাক অরুণাচলের উপজাতিদের আপন সংস্কৃতিও।
অনন্য এই বাস্কন উৎসব তিন দিন ধরে হয়। নভেম্বর মাসে। স্থানীয় ক্যালেন্ডার মেনে এই উৎসবের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়।
উৎসবের থিম- পুরাতনের সঙ্গে নতুনত্বের মিলন মেলা। যার জন্য বাস্কন-এ আপনি এখানকার গালো উপজাতিদের প্রাচীন ঐতিহ্যশালী নাচ থেকে হালফ্যাশনের রক নাচ—সব পাবেন। সঙ্গে নাটক, নৃত্যনাট্য, গল্পপাঠ, লোকশিল্প, এমনকী স্থানীয় খেলাধুলোও দেখতে পাবেন বাস্কন উৎসবে।
আরও পড়ুন:
বাস্কন অনুষ্ঠান সূচি এক্কেবারে সুনির্দিষ্ট। যেমন, প্রতি বছর উৎসব শুরু হয় 'গালো পনু'’ ডান্সের মাধ্যমে। এর অর্থ, স্বাগতম নৃত্য।
এর পরের ধাপ, ‘নাইদা পারিক’। এটাও এক ধরনের উপজাতীয় নাচ। এখানকার বিয়ের অনুষ্ঠানে এই নাচ দারুণ জনপ্রিয়।
তৃতীয় অনুষ্ঠান, ‘মেগা গালো দল’। বাস্কন উৎসবের ভেতর এই নাচের অনুষ্ঠানটিই সবচেয়ে ঝলমলে, দীর্ঘমেয়াদি, প্রচুর সময়সাপেক্ষ এবং দর্শনীয়।
উৎসব সূচির চার নম্বরে ‘মোপিন’। এটা স্থানীয় উপজাতিদের তাদের শস্য দেবতার উদ্দ্যেশ্যে ভক্তি-প্রদর্শনমূলক নাচ।
আরও পড়ুন:
সবশেষে আগমন ঘটে ‘সিংহ নাচ’-এর। এই নাচে অংশ নেয় এখানকার তাওয়াং-এর শিল্পীরা। মুখ সমেত গোটা শরীর ঢাকা থাকে সিংহ আর তাদের শাবকের মুখোশে! এই নাচের পারফরম্যান্সটা অনেকটাই চিনাদের বর্ষবরণের নাচের মতো।
এরপর থাকে নানাবিধ স্থানীয় খেলাধুলোর আসর। যেমন, এখানকার অতি প্রাচীন পদ্ধতিতে স্থানীয় পাহাড়ি নদীর স্রোতস্বিনীতেও মাছ ধরতে যাওয়া হয় সবাই মিলে! গালো উপজাতিদের কাছে এটাও একধরনের ক্রীড়া। সঙ্গে কুস্তি, তীর ছোঁড়া এবং দড়ি-টানাটানি খেলাও হয় বাস্কন উৎসবে।
গালো উপজাতিদের কাছে এটাও একধরনের ক্রীড়া। সঙ্গে কুস্তি, তীর ছোঁড়া এবং দড়ি-টানাটানি খেলাও হয় বাস্কন উৎসবে।
বাস্কন ফেস্টিভ্যাল কোথায় হয় আগেই বলা হয়েছে। যদিও সেই গন্তব্যস্থলে পৌঁছনো বেশ কষ্টসাধ্য। অরুণাচলের লেপা রাদা-এ পৌঁছতে অসমের ট্রেন ধরতে হবে। পৌঁছতে হবে অসমের প্রান্তিক স্টেশন শিলাপাথর-এ। সেখান থেকে সড়ক পথে ৫ ঘন্টার বাস অথবা গাড়ি জার্নিতে লেপা রাদা। তবে রাস্তা খুব খারাপ। তাই টানা না দিনে এক-দু'বার কোনও জায়গায় রাত কাটিয়ে করে বিশ্রাম নিয়ে যাওয়া ভাল।
বিমানে যেতে গেলে আসামের ডিব্রুগড় বিমানবন্দরে নামতে হবে। সেখান থেকে গাড়িতে ভোগীবিল ঘাট। সেখানে স্টিমারে ব্রহ্মপুত্র নদী পার হয়ে শিলাপাথর। তার পরের যাত্রা একই রকম। এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।