গত দেড় দশকে রাজ্যের অন্যতম ‘কালো দাগ’ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পিছনে এই নিয়োগ কেলেঙ্কারিকেই অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, দ্রুত নিয়োগের যে প্রত্যাশা নিয়ে তাঁরা তৃণমূল সরকারের কাছে গিয়েছিলেন, সেটা নতুন সরকার পূরণ করবে তো?
এসএসসি ২০১৬ সালের একাদশ-দ্বাদশের অপেক্ষমান চাকরিপ্রার্থী অভিষেক সেন বলেন, ‘‘১৩০০ দিন গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বসেছিলাম। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অপেক্ষমানের তালিকায় চলে গিয়েছি। এত দিনে মনে হল, আন্দোলন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি। নতুন সরকার আমাদের জন্য কী করেন, সেটাই দেখার।’’
২০১৪ প্রাথমিক টেট পাশ চাকরিপ্রার্থী অচিন্ত্য সামন্ত বলেন, ‘‘মাতঙ্গিনী মূর্তির পাদদেশে ১০০০ দিনের উপর আন্দোলন, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সামনে আন্দোলন। ক্যামাক স্ট্রিটে আন্দোলনের সময় চাকরিপ্রার্থী অরুণিমা পালকে কামড়ে দেন এক মহিলা পুলিশকর্মী। তাতে উল্টে অরুণিমা-সহ আমাদের ৩১ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়। ভোট দেওয়ার সময় সেই সব মনে রেখেছিলাম।’’
আন্দোলন করে কী মিলেছে, সেই প্রশ্ন করছেন উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থী সুশান্ত ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘গত ১৫ বছরে মাত্র দু’বার এসএসসি পরীক্ষা হয়েছে। প্রাথমিক নিয়োগেও দুর্নীতির অভিযোগ। ২০১৬ সালে উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হয়েছিল। সেই নিয়োগও শেষ হয়নি!”
এসএসসি-র চাকরিহারা শিক্ষক রূপা কর্মকারের প্রশ্ন, “এই সরকারের দুর্নীতির জন্য আমরা ‘যোগ্যরা’ চাকরিহারা হয়েছিলাম। কিন্তু তার পর তৃণমূল সরকারের উদ্যোগেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৩১ অগস্টের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন সরকার এই নিয়োগে কতটা উদ্যোগী হবে?’’
গত বছরের এপ্রিল থেকে বেতন পাচ্ছেন না চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীরা। নতুন সরকার এলে সেই সমস্যার সুরাহা হবে? চাকরিহারা শিক্ষাকর্মী অমিত মণ্ডল বলেন, ‘‘এক বছরের উপরে বেতন পাই না। আমরা তৃণমূলের পক্ষে নই। তবে রাজ্যের মানুষ আমাদের পাশে আছেন, এই ভোটের ফলই তার প্রমাণ।’’
সাম্প্রতিক এসএসসি পরীক্ষায় বসা এক নতুন চাকরিপ্রার্থী বলেন, ‘‘আমাদের চাকরিহারা শিক্ষকদের সঙ্গে পরীক্ষায় বসিয়ে দিল। ওদের বাড়তি ১০ নম্বর দিল। আমাদের প্রতিও অবিচার হয়েছে। নতুন আমলে প্রতি বছর এসএসসি হবে তো?’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)