মোবাইলে ‘স্ট্র্যাটেজি গেম’, কাজেও নিপুণ চাল

কমিশনের অন্দরের বক্তব্য, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল, সকলের ‘ভরসা’র কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্মিতভাষী সুব্রতই।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ০৮:১৭

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ল্যাপটপ বা কাগজ-ফাইলের কাজ চলুক অথবা কোনও বৈঠক— হাতে থাকা মোবাইল ফোনে ‘স্ট্র্যাটেজি-গেম’ চলেছে সমান্তরালে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর ‘সঠিক’ চাল দেওয়াও চলেছে সব কাজের ফাঁকে। রাজ্যের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর কাজের ধরনে এটা একটা অভিনব বিষয়। কমিশনের অন্দরের বক্তব্য, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল, সকলের ‘ভরসা’র কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্মিতভাষী সুব্রতই। কমিশনের অলিন্দে তাই কানাঘুষো— ‘স্ট্র্যাটেজি গেম’ মোবাইলে চললেও, ভোটের বাস্তব-রুক্ষ ময়দানে তারই প্রতিফলন রেখে দিলেন বিশেষ পর্যবেক্ষক!

এসআইআর পর্বে রাজ্যের বিশেষ রোল-পর্যবেক্ষক হিসেবে ১৯৯০ ব্যাচের অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসারকে নিয়োগ করেছিল দিল্লির নির্বাচন সদন। এত দিনের রীতি বদলে তাঁকেই রাজ্যের বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে (আগে অন্য রাজ্যের কোনও অফিসারকে বসানো হত) নিয়োগ করে কমিশন। এর পরেই শুরু হয় ‘ব্যাচমেট’ মনোজ-সুব্রতের কাজ।

অভিজ্ঞ কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রশাসন, পুলিশ এবং ভোটকুশলী সংস্থার উপরে কার্যত অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল তৃণমূলের ভোট-ব্যবস্থাপনা। বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে তৃণমূল সরকারের হয়ে ভোট পরিচালনায় সক্রিয় ছিলেন পুলিশ-প্রশাসনের শীর্ষ থেকে নিচু স্তর পর্যন্ত আধিকারিকদের একটা বড় অংশ। ‘সরকার-ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত সেই পুলিশ এবং সাধারণ প্রশাসনের একটা বড় অংশকে শুরুতেই বদলি করে দেওয়া হয়। বাইরের রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয় তেমন অনেককে। ভোট-প্রক্রিয়া থেকে কুশলী সংস্থাকে দূরে রাখতেও তৈরি হয় পৃথক কৌশল। অবৈধ টাকা-মদ-মাদকের রেকর্ড জোগান আটকে দেওয়া হয়। ব্যাপক হারে গ্রেফতার হয় দুষ্কৃতী থেকে গোলমাল পাকাতে পারে এমন ব্যক্তিরা। ভোটের কাজ থেকে দূরে রাখা হয় তৃণমূল প্রভাবিত সংগঠন-ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদেরও। একাধিক পুলিশ এবং আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করে গোটা প্রশাসনের অন্দরে আলোড়ন ফেলে দেয় কমিশন। সবার উপরে ছিল নিবিড় অত্যাধুনিক নজরদারি। ফলে ভোটারদের প্রভাবিত করা বা বাধাদানের অভিযোগ গোটা নির্বাচনে উঠতে দেখা যায়নি।

এসআইআর পর্বে একের পর এক বিতর্ক পিছু তাড়া করেছিল কমিশনকে। সিইও কার্যালয় কমিশনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দায়িত্বপ্রাপ্ত। বিএলও অধিকার রক্ষা মঞ্চ থেকে তৃণমূলের বিক্ষোভের ঢেউ বার বার আছড়ে পড়েছিল প্রথমে বামার লরি এবং পরে শিপিং কর্পোরেশনে সিইও কার্যালয়ের উপর। ভোটারদের যোগ্যতা নির্ধারণের ভার আদালতের উপর চলে যাওয়ার পরেও তৃণমূলের নিশানার বাইরে যায়নি এই দফতর। কিন্তু সেই নিশানার বাইরের বৃত্তে মনোজ-সুব্রতের পদক্ষেপ দুর্বল করে দেয় তৃণমূলের কৌশলকে। তারই প্রতিফলন এ দিন ভোটের ফলাফলে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Commission Gyanesh Kumar Manoj Agarwal

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy