বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে পুলিশ অবজ়ার্ভার নিয়োগ নিয়ে বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি আইপিএস আধিকারিক জয়ন্ত কান্তকে এ রাজ্যে নির্বাচনের জন্য পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। তবে ওই নিয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল।
তৃণমূলের তরফে জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য তথা রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন নির্বাচন কমিশনকে একটি অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আইপিএস অফিসার জয়ন্ত কান্তের স্ত্রী স্মৃতি পাসওয়ান বিজেপির একজন সক্রিয় নেত্রী। তৃণমূলের দাবি, স্মৃতি শুধুমাত্র বিজেপির সদস্যই নন, বরং তিনি নিজেকে ‘বিজেপির একনিষ্ঠ সৈনিক’ হিসাবে তুলে ধরেন এবং বিহারের জামুই লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিহারের পটনায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বিজেপির সদস্যপদও গ্রহণ করেন।
তৃণমূলের অভিযোগে বলা হয়েছে যে, একজন পুলিশ পর্যবেক্ষকের কাজ হল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলির জন্য সমান পরিসর তৈরি করা। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ‘অবজ়ার্ভার হ্যান্ডবুক’ অনুযায়ী, পর্যবেক্ষকদের আচরণে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। এমতাবস্থায় যাঁর স্ত্রী সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, সেই অফিসারের পক্ষে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছে জোড়াফুল শিবির।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পারিবারিক ভাবে জয়ন্তের এই রাজনৈতিক যোগসূত্র ভোটার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মনে পক্ষপাতের আশঙ্কা তৈরি করছে। তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন কমিশনকে কেবল নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করলেই হবে না, বরং তাদের কাজ যে নিরপেক্ষ, তা জনসাধারণের কাছে প্রতিভাতও হতে হবে। অতীতেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে বহু অফিসারকে সরানোর নজির কমিশনের রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কমিশনের কাছে তৃণমূল চারটি দাবি জানিয়েছে। প্রথমত, পুলিশ অবজ়ার্ভার হিসেবে জয়ন্তের নিয়োগ বাতিল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাঁকে নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে। তৃতীয়ত, তাঁর পরিবর্তে একজন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অফিসারকে নিয়োগ করতে হবে। চতুর্থত, অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যে ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন। মালদহের চার কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত এবং তাঁর স্ত্রীর ছবি প্রকাশ করে তৃণমূল দাবি করেছে, কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকের স্ত্রী বিহারের বিজেপি নেত্রী। সেই সূত্রেই রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে তাঁর অপসারণের দাবি করেছিলেন। এ বার লিখিত ভাবেও সেই দাবি নির্বাচন কমিশনে জানানো হল। কমিশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে জয়ন্তকে সরাবে কি? প্রশ্নের উত্তর সময় বলবে।