Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘ক্ষমতায় এলে একদিন যেতে হয়’! ভোটে হারের পরদিন বিধানসভায় অফিস ছাড়ার সময় বললেন বিমান স্পিকার

২০১১ সালে পরিবর্তনের নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে প্রথম বার বিধায়ক হন বিমান। সে বারই তাঁকে স্পিকার পদে বসান তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও জিতে তাঁকে স্পিকারের পদে রেখে দেন মমতা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১৫:০৬
Biman Banerjee leave his office in Assembly after TMC lost the election

বিধানসভায় নিজের অফিস ছেড়ে দিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। ঠিক তার পরের দিনই বিধানসভায় নিজের অফিস ছেড়ে দিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে বিধানসভায় নিজের দফতরে আসেন তিনি। দ্রুতই দফতরের আধিকারিকদের তাঁর যাবতীয় মালপত্র গাড়িতে তুলে দিতে বলেন। স্পিকারের নির্দেশ পাওয়ামাত্রই কাজ শুরু করে দফতর। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই স্পিকারের জন্য বরাদ্দ দু’টি গাড়িতে স্পিকারের মালপত্র তোলার যাবতীয় কাজ শেষ হয়ে যায়। এই সময়ে বিধানসভার অন্দরে রটে যায়, স্পিকার বিমান আর কিছু সময় পরেই নিজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে বিধানসভা ছেড়ে বেরিয়ে যাবেন। বিধানসভায় কর্মরতরা সকলেই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন।

বিধানসভায় নিজের ঘর ছেড়ে শেষবারের মতো বেরোনো মাত্রই স্পিকারকে বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানান কর্মীরা। সঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তাঁর সঙ্গে কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান। অনেকেই তাঁকে বিধানসভার গাড়িবারান্দা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে আসেন। তাঁর এ হেন প্রস্থান প্রসঙ্গে বিমান বলেন, ‘‘ক্ষমতায় এলে এক দিন তো যেতেই হয়। আমি বিষয়টিকে এ ভাবেই দেখছি। আর সব কিছু সহজ ভাবে গ্রহণ করা উচিত বলে আমার মনে হয়।’’ তবে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি বিধায়ক হিসাবে তো বিধানসভায় আসবই, তখন সবার সঙ্গে দেখা হবে।’’

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে পরিবর্তনের নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে প্রথম বার বিধায়ক হন বিমান। সে বারই তাঁকে স্পিকার পদে বসান তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতেও তাঁকে স্পিকারের পদে রেখে দেন মমতা। এ বারও তাঁকে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে তৃণমূল। তিনি ১৭,৮৬২ ভোটে জয়ী হয়েছেন। যেহেতু তৃণমূল পরাজিত হয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, তাই তিনি যে আর স্পিকার পদে থাকবেন না, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই তৃণমূলের পরাজয়ের পরদিনই তিনি বিধানসভায় স্পিকারের জন্য বরাদ্দ ঘর ও অফিস ছেড়ে দিলেন।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Biman Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy