Advertisement

নবান্ন অভিযান

ফলঘোষণার পর উত্তপ্ত ভাঙড়, মারধর, হুমকি, বাড়ি ভাঙচুর! এ বার ‘আক্রান্ত’ তৃণমূল, অভিযুক্ত বিজেপি এবং আইএসএফ

তৃণমূলের অভিযোগ, ভাঙড়ে বিজয়ী আইএসএফের নেতাকর্মীরা রাতভর তাণ্ডব করেছেন বিভিন্ন এলাকায়। ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে নিমকুড়িয়া গ্রামে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১২:৪২
Bhangar Post Poll Violence

ভাঙড়ে মহিলা এবং পুরুষদের উপর হামলার অভিযোগ। —নিজস্ব চিত্র।

ভোটের ফলঘোষণা হতেই উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়। এ বার ভাঙড়ে শাসক-ঘনিষ্ঠদের হাতে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুলল বিরোধী তৃণমূল। বাড়ি ভাঙচুর, মারধরের অভিযোগ উঠেছে নানা জায়গায়। এক প্রৌঢ়ের অবস্থা গুরুতর। তাঁকে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

তৃণমূলের অভিযোগ, ভাঙড়ে বিজয়ী আইএসএফের নেতা-কর্মীরা রাতভর তাণ্ডব করেছেন বিভিন্ন এলাকায়। ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে নিমকুড়িয়া গ্রামে। বেঁওতায় তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূল করার ‘অপরাধে’ বাড়িতে ঢুকে মহিলা-সহ একটি পরিবারের সমস্ত সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার সকালে তৃণমূলের পতাকা না খোলার অভিযোগে নিমকুড়িয়া গ্রামে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

ফিরোজ মোল্লা নামে এক তৃণমূল সমর্থকের অভিযোগ, ‘‘আইএসএফ জিতেছে। আমরা তৃণমূল করি বলে ওদের দলের বুথ সভাপতির নেতৃত্বে পঞ্চাশ জন লোক আমাদের উপর হামলা করেছে। দাদার মাথায় বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করেছে। আমার গায়ে ভোজালি দিয়ে আঘাত করেছে। বাবার অবস্থা খারাপ। বাবাকে কলকাতার এক হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে।’’

তৃণমূল কর্মী হাকিম আলি মোল্লা এবং তাঁর স্ত্রী আয়েশা বিবিকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আয়েশার পুত্র ফরিদ আলি মোল্লা এবং বৌমা রোজিনা বিবিকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

অন্য দিকে, ভাঙড়ের বেঁওতা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বাড়ির সিসি ক্যামেরা ভেঙে বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সেখানে অভিযোগ উঠেছে বিজেপির দিকে। তবে কোনও অভিযোগের প্রেক্ষিতেই প্রতিক্রিয়া দেয়নি বিজেপি এবং আইএসএফ।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
সর্বশেষ
১ মিনিট আগে
Bhangar TMC ISF BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy