ইরান যুদ্ধ থামতেই ফের চাঙ্গা শেয়ার বাজার। ইতিমধ্যেই বম্বে ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে ফিরেছেন বিদেশি লগ্নিকারীদের একাংশ। পাশাপাশি, সেনসেক্স-নিফটি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় ঢালাও কাগুজে সোনা ও রুপো কিনতে দেখা যাচ্ছে খুচরো বিনিয়োগকারীদের। এই আবহে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডের (ইটিএফ) নিয়মে বড় বদল করল কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘সিকিউরিটিজ় অ্যান্ড এক্সচে়ঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া’ বা সেবি।
শেয়ার বাজারের ইটিএফে কাগুজে সোনা ও রুপো কেনার বেশ কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। কারণ, সেখানে প্রায়ই হলুদ ও সাদা ধাতুর দরের হেরফের লক্ষ করা যায়। সেনসেক্স-নিফটি অস্থির থাকাকালীন ইটিএফে বিনিয়োগ করলে বাজারের অভ্যন্তরীণ লেনদেনের সঙ্গে কাগুজে সোনা বা রুপোর খোলা বাজারের দামের সাদৃশ্য নাও থাকতে পারে। সেই পার্থক্য মেটাতেই এ বার পদক্ষেপ করছে সেবি।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ দিন ধরেই ভারতের ইটিএফ বাজার একটি মূল্যসীমার উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে। আর তাই কাগুজে সোনা-রুপোর লেনদেনের সময় দু’দিনের পুরনো দাম পেয়ে থাকেন খুচরো লগ্নিকারী। সেই কারণেই খোলা বাজারের দামের সঙ্গে বার বার হলুদ ও সাদা ধাতুর দরের পার্থক্য লক্ষ করা যায়। এতে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের।
এই পার্থক্য মিটিয়ে ফেলতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ইটিএফে নতুন নিয়ম চালু করছে সেবি। সেই মর্মে জারি হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। নতুন নিয়মে আগের দিনে বাজার বন্ধ হওয়ার দামের উপর ভিত্তি করে ঠিক হবে পরের দিনের দর। তা ছাড়া, সোনা-রুপোর ইটিএফে দৈনিক লেনদেনের সীমা (পড়ুন ডায়নামিক প্রাইস ব্যান্ড) এবং বাজার খোলার আগে লেনদেনের বিশেষ সুবিধা (প্রি-ওপেন অকশন) চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
সেবির এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছে দেশের তাবড় ব্রোকারেজ ফার্ম। তাদের দাবি, দু’দিন আগের দাম বা রেফারেন্স প্রাইসে কাগুজে সোনা ও রুপোর লেনদেনে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উদাহরণ হিসাবে এ বছরের জানুয়ারির কথা বলা যেতে পারে। ওই সময় ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ দাম চড়েছে মনে করে লগ্নিকারীদের অনেকেই তড়িঘড়ি একগুচ্ছ রুপোর ইটিএফ কিনে ফেলেন।
কিন্তু, বাস্তবে সেই দর ছিল দু’দিনের পুরনো। ফলে বিষয়টি জানাজানি হতেই সাদা ধাতুর লগ্নিতে নামে ধস। একদিনে দুই অঙ্কের বেশি সূচক নেমে যাওয়ায় বেশি অস্থির হয়ে ওঠে ইটিএফ বাজার। আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, নতুন নিয়ম চালু হলে অনেকটাই কমবে সেই ঝুঁকি। পাশাপাশি, মোটা মুনাফা করতে পারবেন খুচরো বিনিয়োগকারীরা।