কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মাস মাইনেয় আসবে বড় বদল। সেই লক্ষ্যে কাজ করছে অষ্টম বেতন কমিশন। তাদের কাছে এ বার গ্র্যাচুইটির নিয়মে আমূল পরিবর্তনের দাবি জানাল কর্মরত এবং পেনশনভোগীদের একাধিক সংগঠন। ফলে বাড়তে পারে এর ঊর্ধ্বসীমা। পাশাপাশি, সংশোধিত গণনা পদ্ধতি এবং মৃত্যুকালীন সুবিধার নিয়ম বদলাতে চলেছে বলেও মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নিয়ম অনুযায়ী, কাজে যোগ দেওয়ার পর টানা পাঁচ বছর চাকরি করলে গ্র্যাচুইটি বা কৃতজ্ঞতা হিসাবে কিছু টাকা পেয়ে থাকেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারী। কর্মজীবনে অবশ্য এই অর্থ হাতে দেওয়া হয় না। অবসরের পর বা চাকরি ছেড়ে দিলে গ্র্যাচুইটির টাকা দিয়ে থাকে সরকার। তা ছাড়া কর্মরত অবস্থায় কেউ মারা গেলে তাঁর পরিবারও নির্ধারিত হারে কৃতজ্ঞতা অর্থ পাওয়ার যোগ্য।
কোনও ব্যক্তি গ্র্যাচুইটি বাবদ কত টাকা পাবেন, তার একটা সুনির্দিষ্ট হিসাব রয়েছে। সেটা হল, মূল বেতনের (বেসিক পে) এক চতুর্থাংশ এবং প্রতি ছ’মাসে প্রাপ্ত মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র (ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স) যোগফল। তবে এর ঊর্ধ্বসীমা রয়েছে। গ্র্যাচুইটির অর্থ কখনওই মূল বেতন ও ডিএ-র ১৬.৫ গুণের বেশি হবে না। ফলে কৃতজ্ঞতার অর্থ ২৫ লক্ষ টাকার বেশি দিতে পারে না কেন্দ্র।
এই নিয়মের বদল চেয়ে অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে সুপারিশ করেছে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন। তাদের দাবি, গ্র্যাচুইটির ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা করুক সরকার। পাশাপাশি, মূল বেতন ও ডিএ-র এক তৃতীয়াংশের সঙ্গে প্রতি ছ’মাসে প্রাপ্ত মহার্ঘ ভাতার গুণফলের হিসাবে এটা দেওয়ার কথা বলতে শোনা গিয়েছে তাদের।
কর্মরত অবস্থায় কোনও ব্যক্তির মৃত্যু হলে তাঁর গ্র্যাচুইটির হিসাব বদলের সুপারিশ করেছে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন। ওই ব্যক্তির চাকরি জীবনের মেয়াদ এক বছরের কম হলে মূল বেতনের চার গুণ গ্র্যাচুইটি দেওয়ার দাবি তুলেছে তারা। এ ছাড়া এক বছরের বেশি কিন্তু পাঁচ বছরের কম হলে মূল বেতনের ১২ গুণ, পাঁচ বছরের বেশি কিন্তু ১১ বছরের কম হলে ২৪ গুণ এবং ১১ বছরের বেশি কিন্তু ২০ বছরের কম হলে ৩০ গুণ ধার্য করতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি, ২০ বছর বা তার বেশিদিন চাকরি করার পর হঠাৎ মৃত্যু হলে গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ পরিমাণ আবার ৫০ গুণ পর্যন্ত করার সুপারিশ জানিয়েছে ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ টেকনিক্যাল সুপারভাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন। কৃতজ্ঞতার অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে কর্মদিবস হিসাব করে থাকে সরকার। বর্তমানে সেটা ৩০। যেটা কমিয়ে ২৫ করার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন।