ভোটপ্রচারে বেরিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপি প্রার্থী। উদ্ধারে এগিয়ে গেলেন তৃণমূল প্রার্থী। যদিও বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, সবই পূর্বপরিকল্পিত এবং তৃণমূল প্রার্থীর নেতৃত্বেই হয়েছে। পাল্টা তোপ দাগেন তৃণমূল প্রার্থীও। সোমবার দুপুরে কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার ঘুঘুমারি মোড়ের ঘটনায় শোরগোল অব্যাহত।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া কোচবিহারের বাসিন্দাদের একাংশ সকাল থেকেই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। দিনহাটা-২ ব্লকের একাধিক জায়গায় পথ অবরোধ হয়। চৌধুরীহাট, বামনহাট, নয়ারহাট-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভে শামিল হন বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন:
তাঁদের অভিযোগ, শুনানিতে ডাক পাওয়ার পর যথাযথ নথি জমা দেওয়ার পরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। চতুর্থ অতিরিক্ত তালিকা বার হওয়ার পরেও অনেকের নাম ওঠেনি। এর প্রতিবাদে কোথাও টায়ার জ্বালিয়ে, কোথাও শুধু রাস্তায় বসে অবরোধ করেন বাসিন্দারা। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অবরোধে শামিল হন সকলে। সেখানেই বিজেপি প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ বসু ক্ষোভের মুখে পড়েন। তাঁর গাড়ি আটকে যায়। কালো পতাকা দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করে পুলিশ। তার মাঝে দেখা যায় রবীন্দ্রনাথের প্রতিদ্বন্দ্বী, তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে। ওই ভিড় কাটিয়ে তিনি বিজেপি প্রার্থীর গাড়িকে রাস্তা করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি বেরিয়ে গেলেও বিক্ষোভ-অবরোধ চলে। পরে অবশ্য তাঁর গাড়ি ঘেরাওয়ের জন্য তৃণমূল প্রার্থীকে একহাত নেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি বলেন, ‘‘ দুপুরে তোর্ষা ঘুঘুমারি ব্রিজ়ে আমাদের উপরে পরিকল্পিত ভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নেতৃত্ব দেন তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলার সভাপতি এবং কোচবিহার দক্ষিণের প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক। তিনি নিজে আক্রমণ করেন এবং অন্যদের দিয়েও করান। পুলিশের সামনেই ঘটনা ঘটে।’’ পাল্টা তৃণমূল প্রার্থী বলেন, ‘‘এসআইআর নিয়ে অবরোধ করেছিলেন সাধারণ মানুষ। আমার গাড়িও আটকে গিয়েছিল। পুলিশকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। সেই সময় দেখি, বিজেপি প্রার্থীও আটকে। তাঁকে বলতে শুনি, ‘এ বার আমরাও অবরোধ করব।’ আমি ভেবেছিলাম বিজেপির অবরোধ। সকলকে অনুরোধ করি রাস্তা ছাড়তে। কিন্তু সমাজমাধ্যমে দেখলাম বিজেপি প্রার্থী কুৎসা করছেন। অনভিপ্রেত। উনি শিক্ষিত মানুষ। এই ব্যবহার আশা করিনি।’’