E-Paper

ট্রেন ভাড়া করে পরিযায়ীদের ভোটে আনছে বিজেপি

কোনও মহলে এ প্রশ্নও উঠেছে, যাঁরা বিশেষ ট্রেনে আসছেন, তাঁরা সকলেই যোগ্য ভোটার তো? না কি যোগ্যদের সঙ্গে মিশে রয়েছে ভুয়ো ভোটারও?

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৩

—প্রতীকী চিত্র।

সুরাত থেকে ছাড়বে ৪ জোড়া ট্রেন। মুম্বই থেকেও ছাড়তে চলেছে অন্তত ৫-৬ জোড়া ট্রেন। সব মিলিয়ে রাজ্যে ভোটের ঠিক আগে অন্তত পনেরো জোড়া ভাড়া করা বিশেষ ট্রেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পৌঁছতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। যদিও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোটের আগে রাজ্যে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।

আবার কোনও কোনও মহলে এ প্রশ্নও উঠেছে, যাঁরা বিশেষ ট্রেনে আসছেন, তাঁরা সকলেই যোগ্য ভোটার তো? না কি যোগ্যদের সঙ্গে মিশে রয়েছে ভুয়ো ভোটারও? কারণ, বিহারে এবং হরিয়ানায় ভোটের আগে বিশেষ ট্রেনে অন্য রাজ্যের ভোটার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে আগেই বিতর্ক হয়েছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পরে এটিই প্রথম ভোট পশ্চিমবঙ্গে। যে সব পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম রাজ্যের ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছে, তাঁদের বড় অংশ চাইছেন এ বারে অন্তত রাজ্যে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে। কারণ, অনেকেরই আশঙ্কা রয়েছে, এসআইআরের পরে ভোট না দিলে ফের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ চলে যেতে পারে। তাই এক দিকে যেমন অরাজনৈতিক পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরার চাপ রয়েছে, তেমনি বিজেপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজ্যে কর্মরত বাঙালি শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে সংগঠনের আওতায় থাকা শ্রমিকদের রাজ্যে পাঠানোর তোড়জোড়শুরু হয়েছে।

বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের বড় ঠিকানা সুরাত। প্রায় দেড় লক্ষের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন সুরাত ও সংলগ্ন এলাকায়। বিজেপি সূত্রের খবর, সুরাত বেঙ্গলি সমাজ সংগঠন ছাড়াও অন্যান্য পরিযায়ী শ্রমিকদের সংগঠনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছে দল। সূত্রের মতে, প্রাথমিক ভাবে প্রায় হাজার পাঁচেক পরিযায়ী শ্রমিককে পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ ট্রেনে রাজ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজেপির এক নেতার কথায়, সুরাত থেকে এখনও পর্যন্ত চারটি বিশেষ ট্রেন ছাড়ার কথা হয়েছে। আরও ট্রেন যাতে পাওয়া যায় তার চেষ্টা চলছে। চারটি ট্রেনের মধ্যে প্রথমটি উত্তরবঙ্গের ভোটের কথা ভেবে ১৮ এপ্রিল সুরাত থেকে চালানো হবে। বাকি ট্রেনগুলি ২৪ এপ্রিল সুরাত থেকে ছাড়ার কথা রয়েছে। চেষ্টা চলছে মাঝখানে আরও কিছু ট্রেন চালানোর।

মুম্বইয়ের অলঙ্কার শিল্পেও বহু বাঙালি শ্রমিক কাজ করেন। বিজেপি সূত্রে বলা হয়েছে, মুম্বই ও কলকাতার মধ্যে ফি দিন সাতটি ট্রেন চলে। তাতে বহু আগেই সংরক্ষিত টিকিট শেষ হয়ে গিয়েছে। ভোটের আগে আরও পাঁচ-ছ’টি বিশেষ ট্রেন চালানোর বিষয়ে রেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। যদিও তা চাহিদার তুলনায় কম। বিজেপির এক নেতার কথায়, সব ঠিক থাকলে প্রয়োজনে এসি বাসে ভোটারদের রাজ্যে পাঠানো হবে। বিশেষ ট্রেনের চাহিদা রয়েছে হায়দরাবাদ, কেরলের বিভিন্ন অংশ থেকেও।

ভোটের সময়ে রাজ্যে এ ভাবে বাসে-ট্রেনে ভরে ভরে ভোটার পাঠানো নতুন নয়। দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে যে পরিযায়ী শ্রমিকেরা রয়েছেন তাঁদের অতীতে বাসে বা ট্রেনে ভোটের সময়ে রাজ্যে নিয়ে গিয়েছে তৃণমূল। এ বার নিজেদের সমর্থকদের বিনা খরচে রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে সংগঠিত ভাবে অনেক বেশি তৎপর গেরুয়া শিবির। অন্য দিকে, মালদহে নির্বাচনী প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘‘বাংলায় কথা বললে রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশে মারে। রাজস্থানে মালদহের ছেলেকে খুন করা হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের আসতে দেওয়া হচ্ছে না এখানে। ট্রেনের টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। বাস আটকে দেওয়া হচ্ছে। কোভিড, ইদ, রমজান, পুজোর সময়ে যেমন এসেছেন, তেমনই এখন আসুন। ওরা (বিজেপি) ক্যাশ দেয়। তার পরে দেবে গ্যাস। গ্যাস মানে গ্যাস সিলিন্ডার নয়!’’

বিহার বা হরিয়ানার ভোটেও বাস-ট্রেন ভর্তি করে ভোটারদের নিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। পরে অভিযোগ ওঠে, ওই ভোটারেরা অনেকেই ভিন রাজ্যের। ভুয়ো ভোট দিতেই তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সে কারণে, পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ ট্রেনে যে পরিযায়ীরা আসতে চলেছেন তাঁরা সকলেই রাজ্যের ভোটার কি না, সে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিজেপির অবশ্য পাল্টা দাবি, এসআইআর-এর ফলে ভুয়ো ভোটারদের দিয়ে তৃণমূলের ভোট করানোর কৌশল ভেস্তে যাওয়াতেই সম্ভবত যোগ্য ভোটারদের নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP Migrant Labours

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy