‘মা’ যখন ঠা ঠা রোদে ময়ূরেশ্বরের গাঁ-ঘর ঘুরে ঘুরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসেছিল ছেলে!
দু’জনের পরীক্ষা শেষ। ইতিমধ্যে ছেলে প্রেমের রেজাল্ট বেরিয়ে গিয়েছে। আইসিএসসি পরীক্ষায় ৮৭ শতাংশ নম্বর নিয়ে সে পাশ করেছে! কিন্তু ‘মা’য়ের ফল ১৯ তারিখ! তাই অপেক্ষার শেষবেলায় চাপা টেনশনে ‘মা’— অর্থাৎ ময়ূরেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়।
ছেলের রেজাল্টে স্বভাবতই খুশির হাওয়া লকেটের নরেন্দ্রপুরের বাড়িতে। ছেলের ভাল ফলে চাপ মুক্ত হয়েছেন। কিন্তু নিজের ফলের চিন্তা আর রাতটুকু তাঁকে পোহাতেই হবে। মুখে অবশ্য বলছেন, ‘‘নো টেনশন! বরং ছেলের জন্যই কিছুটা চিন্তা ছিল। কারণ ওর পরীক্ষার সময়ই তো আমাকে ময়ূরেশ্বরে চলে যেতে হয়েছিল। একদম সময় দিতে পারিনি।’’
প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণার পর থেকেই ‘তোমাদেরই লোক’ হয়ে ওঠার চেষ্টায় ময়ূরেশ্বরের অলিতে গলিতে কার্যত চরকি পাকে ঘুরেছিলেন লকেট।
এখন টেনশন কাটাতে সেই সব লোকের কথা ভেবে টেনশন ভুলে থাকার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘‘পরীক্ষার ফল যাই হোক না কেন, তার প্রকাশ বিলম্বিত হলে চিন্তা তো হবেই। সেই চিন্তা দূর করতেই ময়ূরেশ্বরের মানুষের কথা ভাবছি। হারি জিতি যাই হোক না কেন, কীভাবে তাঁদের পাশে সবসময় থাকতে পারি সেই পরিকল্পনা করছি।’’
বাড়িতে চিন্তিত অভিজিৎ রায়।
লকেট টেনশন কাটাতে ময়ূরেশ্বরের কথা ভাবলেও, এই শেষবেলায় টেনশন কাটাতে স্ক্রুটিনিতে মজে রয়েছেন সিপিএমের প্রার্থী অরূপ বাগ।
একই অঙ্ক যে কতোবার করেছেন, তা তিনি নিজেও মনে করতে পারেন না!
ইতিমধ্যেই স্বামীর মঙ্গল কামনায় স্থানীয় মল্লেশ্বর শিবের পুজো দিয়ে এসেছেন স্ত্রী ভাগ্যবতী দেবী। তিনি বলেন, ‘‘যতই বলি মাথার উপর বাবার আর্শীবাদ রয়েছে, দেখো তুমি জিতবেই। তবু ওনার সংশয় যায় না। কেউ একটা ফোন করলেই হোল। রাত দুপুর পর্যন্ত কাগজ কলম নিয়ে কাঁটা-ছেড়া করতে বসে যান!’’
ভোট পরবর্তী সমীক্ষায় জোট এগিয়ে বিভিন্ন চ্যানেলে। তবু কেন এই টেনশন?
অরূপবাবু বলেছেন, ‘‘জানি এসবের কোনও মানে হয় না। তবু মন মানে না। কোথাও থেকে কোনও খারাপ খবর এলেই বারবার হিসাব মেলাতে বসি। এতে টেনশন ভুলে থাকি। মন কিছুটা ভুলে থাকে। ফলটা তাড়াতাড়ি বের হলে এতটা চাপ থাকত না!’’
অন্য দিকে টেনশন কাটাতে কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি সন্ধ্যেবেলায় পাড়ার ক্লাবে তাস-ক্যারম খেলে সময় কাটাচ্ছেন তৃণমূলের প্রার্থী অভিজিৎ রায়। তিনি বলেন, ‘‘স্কুল পড়ুয়ারা যেমন পরীক্ষার পর স্কুল না খোলা পর্যন্ত ছুটির আনন্দে থাকে আমিও তেমন ভাবেই ফল ঘোষণার জন্য দিন পার করছি। যে সব কর্মীরা এতদিন আমার জন্য খেটেছেন, তাঁদের সঙ্গে দেখা করছি। একসঙ্গে চা-তেলেভাজা মুড়ি খাচ্ছি আর সন্ধ্যার পর টেনশন ভুলতে ক্লাবে তাস-ক্যারম খেলছি।’’
নিজস্ব চিত্র