শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ নিউ টাউন

দ্বিতীয় দফায় আগামী ২৯ এপ্রিল রাজারহাট-নিউ টাউন বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট। এই কেন্দ্রে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে জোর টক্কর হতে চলেছে বলে ইতিমধ্যেই হাওয়া উঠেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:৫১

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ভোট দিতে বেরিয়ে কেউ মার খান। কারও ভোটার, আধার কার্ড ছিনতাই হয়। কারও পেটে আগ্নেয়াস্ত্র ধরে রাস্তা থেকেই বাড়ি ফেরানো হয়। গত পঞ্চায়েত ভোটের আতঙ্কের স্মৃতি এখনও টাটকা। তাই এ বার শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ নিউ টাউনের বাসিন্দারা।

দ্বিতীয় দফায় আগামী ২৯ এপ্রিল রাজারহাট-নিউ টাউন বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট। এই কেন্দ্রে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে জোর টক্কর হতে চলেছে বলে ইতিমধ্যেই হাওয়া উঠেছে। কারণ, লোকসভা নির্বাচনে, বিশেষত নিউ টাউনের শহর এলাকায় তৃণমূলের ফল খারাপ হয়। এ ছাড়া রয়েছে তৃতীয় পক্ষ সিপিএম-আইএসএফ জোট। ফলে ভোটে অশান্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই। তাঁরা জানাচ্ছেন, পঞ্চায়েত ভোটে হেনস্থার মুখে পড়েছিলেন নিউ টাউনের অনেক প্রবীণ নাগরিক। নিউ টাউনের বাসিন্দাদের সংগঠন ‘নিউ টাউন সিটিজ়েন্স ওয়েলফেয়ার ফ্রেটার্নিটি’ জানাচ্ছে, এ বার নির্বাচন কমিশন নিউ টাউনের চারটি বড় আবাসনে বুথ করছে। তার বাইরেও বহু ভোটার রয়েছেন, যাঁদের ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছতে হবে। সংগঠনের সম্পাদক সমীর গুপ্তের কথায়, ‘‘নিউ টাউনে প্রবীণদের সংখ্যা বেশি। গত পঞ্চায়েত ভোটে তাঁদের কারও কারও ধাক্কাধাক্কি, গালিগালাজ শোনার অভিজ্ঞতা হয়েছে। রাস্তায় গার্ডরেল ফেলেও ভোটারদের আটকানো হয়। লোকসভা ভোটে সেই সমস্যা না হলেও পঞ্চায়েত ভোটের আতঙ্ক কাটেনি। ফলে নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছি।’’

গ্রাম ও শহর এলাকা মিলিয়ে এ বার রাজারহাট-নিউ টাউন কেন্দ্রে ৩২০টি বুথে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬১৮। পাঁচটি পঞ্চায়েত রয়েছে রাজারহাট-নিউ টাউনে। যার মধ্যে কয়েকটি সব সময়েই স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত হয়। এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা নিউ টাউনের সর্বত্র দেখা যাচ্ছে না।

বিরোধী দলের প্রার্থীর এজেন্ট হয়ে বসা এক ব্যক্তির অভিযোগ, ‘‘পঞ্চায়েত ভোটে আমার ভোটার ও আধার কার্ড ছিনতাই করা হয়। প্রার্থী সিওপিডি-তে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে মার খাই। ভোটার ও আধার কার্ড কেড়ে নিয়ে, পেটে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে, আমাকে টোটোয় চাপিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়।’’

যদিও বিধাননগর কমিশনারেটের দাবি, আদর্শ আচরণবিধি চালুর পর থেকেই কমিশনের নির্দেশ মতো আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কয়েক জনকে ধরা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে সম্প্রতি দত্তাবাদ থেকে তৃণমূল নেতা নির্মল দত্তকে গ্রেফতারও করেছে বিধাননগরের পুলিশ।

জেলাতেও পুলিশি সক্রিয়তা বেড়েছে। হাড়োয়া বিধানসভা কেন্দ্র হলেও রাজারহাটের পাশেই রয়েছে শাসন এলাকা। ১২ এপ্রিল সেখানে শাসকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করে আইএসএফ। সেই নেতার এক শাগরেদকে ধরে শাসন থানা। ওই নেতা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

New Town Rajarhat Newtown TMC-BJP Conflicts TMC BJP Election Violence

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy