মুর্শিদাবাদের বুথের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং ভোটারেরা। ছবি: পিটিআই।
প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার পরে তৃণমূলনেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, “এ বার প্রচুর ভোট পড়েছে। আসলে এত নাম এ বার বাদ গিয়েছিল। তাই এ বার কেউ রিস্ক নেননি। সকলে ভোট দিয়েছেন। এটা গুড সাইন। সকলে এসআইআর নিয়ে ভীত ছিলেন।’’
প্রথম দফার ভোটের পরে হেলিকপ্টার থেকে তোলা সূর্যাস্তের ছবি পোস্ট করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সঙ্গে লিখলেন, “তৃণমূলের দুর্নীতি এবং গুন্ডারাজের সূর্য অস্ত গিয়েছে।”
বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে প্রথম দফায় পড়ল ৮৯.৯৩ শতাংশ। এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোটদানের হার দক্ষিণ দিনাজপুরে— ৯৩.১২ শতাংশ। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে কালিম্পঙে— ৮১.৯৮ শতাংশ।
বিজেপি কর্মীকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল কোচবিহারের সিতাই বিধানসভা এলাকায়। সেখানে জাহানুর ইসলামকে ছুরি মারার অভিযোগ ওঠে দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই দুষ্কৃতী তৃণমূল আশ্রিত। বিজেপি কর্মীর হাতে ছুরির আঘাত লেগেছে। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রথম দফার ভোটগ্রহণ পর্বের শেষ দিকে উত্তেজনা ছড়াল বীরভূমের সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের সিউড়ি ২ ব্লকে। সেখানে তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই এলাকায় ২৮১ নম্বর বুথে বিজেপি একটি সহায়তাকেন্দ্র খুলেছিল। অভিযোগ, সেখানে হামলা করে তৃণমূল এবং ওই সহায়তাকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বীরভূমের সাঁইথিয়ায় তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে উত্তেজনার পরের পরিস্থিতি। —নিজস্ব চিত্র।
বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরীর পোলিং এজেন্টের পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠল। কংগ্রেসের অভিযোগ, বহরমপুরের পীরতলা (কান্তনগর) এলাকায় তাদের পোলিং এজেন্টের পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা হয়েছে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। হামলার অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন অধীরও। তৃণমূলকে বিঁধে তিনি বলেন, “ওদের টার্গেট শেষ বেলায় কিছু বুথ লুট করা। এমনিই ধীরে ভোট হচ্ছে, ফলে এখানে ভোটদানের হার কম। সকাল থেকে ধীরে ভোট করার পিছনে কী রহস্য, আমার জানা নেই। সব বুথে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখানে এখনও ৬০ শতাংশ পার করছে না। এত মানুষ ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। এমন কিছু বুথকে ওরা শেষ বেলায় দখল করার চেষ্টা করছে। তাই পরিকল্পিত ভাবে এজেন্টের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে।”
বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী। —নিজস্ব চিত্র।
চিত্রকর নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং তাঁর স্ত্রী দীপা সেন অবশেষে ভোটদান করলেন। সকালে বোলপুরের একটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন বৃদ্ধ দম্পতি। কিন্তু সেখানে প্রথমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি তাঁরা। অবশেষে ভোট দিলেন তাঁরা।
রাজনীতির সৌজন্যের ফের এক টুকরো ছবি ধরা পড়ল প্রথম দফার ভোটে। পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর সদরে বৃহস্পতিবার হঠাৎই মুখোমুখি হয়ে গেলেন দুই প্রার্থী। বিজেপির দিলীপ ঘোষ এবং তৃণমূলের প্রদীপ সরকার। দেখা হতেই হাসিমুখে হাত মেলালেন দুই প্রার্থী। প্রদীপকে পাশে নিয়ে দিলীপ বললেন, “এটাই আমাদের রাজনীতি। আর এটাই সারা পশ্চিমবঙ্গে হোক।” প্রদীপও বললেন, “মানুষ যাঁকে পছন্দ করবে, তাঁকে ভোট দেবে। পরিষ্কার কথা।” সেই কথার রেশ ধরেই বিজেপি প্রার্থী বললেন, “উনি ওঁর দল থেকে দাঁড়িয়েছেন। আমি আমার দল থেকে দাঁড়িয়েছি। খড়্গপুরবাসী ঠিক করবেন, কাকে ভোট দেবেন।”
খড়্গপুর সদরে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার। —নিজস্ব চিত্র।
মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ প্রীতম সিং প্রাথমিক স্কুলের ২৬ নম্বর বুথে সস্ত্রীক ভোট দিলেন সঙ্গীতশিল্পী অরিজিৎ সিংহ।
ভোট দিলেন সঙ্গীতশিল্পী অরিজিৎ সিংহ। —নিজস্ব চিত্র।
পড়শিদের অনেকের নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। এমনটাই অভিযোগ মুর্শিদাবাদের সুতি বিধানসভা কেন্দ্রের দেবীপুরের জাগটাই এলাকার বাসিন্দাদের। পড়শিদের ‘নাম বাদ যাওয়ার’ প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ওই এলাকার ভোটারেরা জামায় কালো ব্যাজ এঁটে ভোট দিতে গেলেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর বিধানসভা এলাকায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল আরও এক জনের। মৃতের নাম শেখ বাবলু (৬৬)। বাড়ি উচাহার গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পর তিনি খাওয়াদাওয়া করেন। তার কিছু পরেই অসুস্থ হয়ে যান। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রথম দফার ভোটগ্রহণের শেষ পর্বে উত্তেজনা ছড়াল বীরভূমের দুবরাজপুর বিধানসভার খয়রাশোলে। সেখানে খয়রাশোল ব্লকের ৬৫ নম্বর বুথে ভোটারদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, ইভিএমে গোলমালের জেরে প্রায় আধ ঘণ্টা সেখানে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। তার জেরেই বিক্ষোভ এবং সেই বিক্ষোভ থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে ভোটারদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। উত্তেজিত জনতার একাংশ বাহিনীর দিকে তেড়ে যায়। বাহিনীর দিকে ইট ছু়ড়তেও উদ্যত হয় তারা। ঘটনায় জখম হয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েক জন জওয়ান। এক জওয়ানের গাল থেকে রক্তও বেরোতে দেখা যায়। পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি সামলাতে পিস্তলও বার করতে হয় পুলিশকে।
বীরভূমের খয়রাশোলে উত্তেজনার সময়ে পিস্তল হাতে পুলিশকর্মী। —নিজস্ব চিত্র।
বুথ ছেড়ে সকলে একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সারতে বেরিয়ে যান। বৃহস্পতিবার এমনটাই ঘটনা ঘটল পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা বিধানসভার ৯ নম্বর বুথে। অভিযোগ, সেখানে প্রিসাইডিং অফিসার-সহ সকল ভোটকর্মী মধ্যাহ্নভোজের জন্য একসঙ্গে বুথ ছেড়ে বেরিয়ে যান। বুথ থেকে নিরাপত্তাকর্মীরা ফোন করলে বলা হয়, “আমরা বাইরে আছি, পরে আসছি।”
সেক্টর অফিসারও সেই সময়ে বাইরে ছিলেন বলে খবর। এই খবর পাওয়ামাত্র পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই বুথের প্রিসাইডিং অফিসার-সহ সকল ভোটকর্মীকে নিলম্বিত করল কমিশন। রিজ়ার্ভ পোলিং পার্টি থেকে আপাতত কাজ চালানোর নির্দেশ দেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত।
দুপুর ৩টে পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়ল ৭৮.৭৭ শতাংশ। প্রথম দফায় দুপুর ৩টে পর্যন্ত ১৬টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরে— ৮১.৪৯ শতাংশ। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে কালিম্পঙে— ৭৪.০৭ শতাংশ।
পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে এক তৃণমূল কর্মীকে কেন্দ্রীয় বাহিনী ‘বিনা কারণে মারধর’ করছে বলে অভিযোগ উঠল। তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইয়ার দাবি, ‘আক্রান্ত’ ওই ব্যক্তি তৃণমূলের প্রাক্তন বুথ সভাপতি। দাবি করা হচ্ছে, সবংয়ের সাউতপাড়া এলাকার ১৪৫ নম্বর বুথে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন ওই ব্যক্তি। সেই সময়েই বিনা প্ররোচনায় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে বুথে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, কোচবিহারের ঘুঘুমারি এলাকায় ১৫৫ এবং ১৫৭ নম্বর বুথে তাঁকে বাধা দেন কর্তব্যরত জওয়ানেরা। এ নিয়ে কিছুটা বাগ্বিতণ্ডাতেও জড়িয়ে যান প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটের সকাল থেকে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় মুর্শিদাবাদের নওদায়। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর ঘটনাস্থলে পৌঁছোলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। তা থেকে পরিস্থিতি ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জানা যাচ্ছে, ওই ঘটনায় তিন জনকে আটক করা হয়েছে।
এ বার আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের উপর হামলার অভিযোগ। তাঁর গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোল দক্ষিণের হীরাপুর থানা এলাকায়। অগ্নিমিত্রার গাড়ির পিছনের দিকের কাচ বেশির ভাগটাই ভেঙে গিয়েছে। হীরাপুর থানায় গিয়ে ইতিমধ্যে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি।
হীরাপুর থানার বাইরে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর গাড়ির পিছনের কাচ পাথর ছুঁড়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। —নিজস্ব চিত্র।
অগ্নিমিত্রা জানান, তিনি বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন। রহমতনগর হাই স্কুলের বুথ পরিদর্শন করে বেরোন তিনি। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, সেই সময়েই চলন্ত গাড়িতে পিছন থেকে পাথর ছোড়া হয়েছে।
ভোট দিতে যাওয়ার পথে মৃত্যু হল আরও এক জনের। এ বার ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সিউড়ির ১০ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ৬৪ বছর বয়সি ওই বৃদ্ধের নাম অসীম রায়। তিনি সিউড়ির ডাঙ্গালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার ভোট দিতে যাওয়ার সময়ে মৃত্যু হল তাঁর।
দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছে ৬২.১৮ শতাংশ। দুপুর ১টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে— ৬৫.৭৭ শতাংশ। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে মালদহে— ৫৮.৪৫ শতাংশ।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy