এই বারে অধিকার রক্ষায় ভোট দিন, এমন আবেদনেই সোমবার ভোটের প্রচারে ইতি টানলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে ভাবে সভা, বক্তৃতা না-করলেও দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে ১২ কিলোমিটার পথ হেঁটে জনসংযোগ সেরেছেন শাসক শিবিরের প্রধান। তিন দফার পদযাত্রার প্রথমটি সুকান্ত সেতু থেকে শুরু করে সন্ধ্যায় শেষটি থেমেছে আলিপুরের গোপালনগরে এসে। এরই মধ্যে ৪ মে তারিখ ফলপ্রকাশের দিন জয় নিশ্চিত বলে ফের বার্তা দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের সবুজ আবির কিনে তা মজুত রাখার নিদান দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রায় এক মাস তিন দিন ধরে শিলিগুড়ি থেকে সাগর পর্যন্ত কম-বেশি ২০০টি কর্মসূচি ছিল তৃণমূল নেত্রীর। প্রথম দফার ভোটের আসনগুলির পরে, শেষ কয়েক দিন দ্বিতীয় দফার কেন্দ্রগুলি ঘুরে এ দিন দক্ষিণ কলকাতায় প্রচার শেষ করেছেন মমতা। সুকান্ত সেতু থেকে ঢাকুরিয়া, গোলপার্ক থেকে গড়িয়াহাট ও হাজরা থেকে গোপালনগর পর্যন্ত এ দিন তিন দফার পদযাত্রার ফাঁকে দু’বার স্কুটারেও চড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাস্তার দু’ধারে উৎসাহী জনতা, আশপাশের বাড়ি, দোকান, বাজারে দাঁড়িয়ে যাওয়া দলীয় কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নমস্কার বিনিময় করতে করতে এগিয়েছেন মমতা। শেষ দফার পদযাত্রায় দলের প্রার্থী, নেতা-মন্ত্রী ছাড়াও মমতার সঙ্গে ছিলেন আরজেডি প্রধান তেজস্বী যাদবও।
এরই মধ্যে অভিষেক বলেছেন, ‘যতটা সম্ভব সবুজ আবিরের প্রতিটি প্যাকেট কিনে নিন। মজুত করুন, জমা রাখুন। ৪ মে বড় ঘাটতি হবে (সবুজ আবিরের)। পুরো রাজ্য সবুজ রঙে রাঙানো হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘বাংলার প্রতিটি কোণে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজবে। আর হ্যাঁ, একটু ডিজেও বাজবে!’ তৃণমূল প্রার্থীদের পক্ষে এ দিন তিনি নদিয়া, হুগলি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দু’টি সভা ও দু’টি পদযাত্রা করেছেন। এ দিনই স্থানীয় তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের উপরে আক্রমণের অভিযোগ নিয়ে উত্তাপ বাড়ে অভিষেকের কর্মসূচিতে। আরামবাগ পৌঁছে চিকিৎসাধীন মিতালিকে দেখে এসে রোড-শো শুরু করে সেখান থেকেই ‘হামলাকারী’দের উদ্দেশে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, “৪ তারিখে আরামবাগের স্টিয়ারিং আমার হাতে থাকবে। ডিজে তো বাজবেই, এমন জোরে বাজবে যে কান ঝালাপালা করে দেব।” আরামবাগের কেন্দ্রগুলিতে জয় পেলে আগামী পাঁচ বছরে এখানে আলাদা জেলা গঠনের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
এর আগে ধনেখালি ও হরিণঘাটায় দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে সভা করেছেন অভিষেক। হরিণঘাটায় মতুয়াদের ভোটাধিকারের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “হরিণঘাটার বিজেপি প্রার্থী অসীম সরকার, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরেরা বলছেন নাম কাটা যাক, তাঁদের কিছু যায় আসে না, তারা মরুক।” মমতা সুপ্রিম কোর্টে না-গেলে সবার ডিটেনশন ক্যাম্পে ঠাঁই হত বলেও অভিষেকের দাবি। এই সূত্রেই তাঁর সংযোজন, “তৃণমূল জিতলে নো টেনশন, আর বিজেপি জিতলে ডিটেনশন।” তিনি আরও বলেছেন, “বাঙালিকে বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা বলে অসম্মান করার প্রতিবাদ জানানোর নির্বাচন এটা।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)