Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘আপনি দালাল, তৃণমূলের বাবার টাকায় বেতন পান না’, কালীগঞ্জের পুলিশ আধিকারিককে আঙুল উঁচিয়ে তোপ সেলিম-শতরূপের

সোমবার কালীগঞ্জে দলীয় প্রার্থী সাবিনার সমর্থনে মিছিল করে সিপিএম। সেই মিছিলে ছিলেন সেলিম, শতরূপেরা। অভিযোগ, একই সময়ে ওই এলাকাতেই তৃণমূলের মিছিল বার হয়। দুই মিছিল মুখোমুখি এসে পড়ায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০০:১৮
Salim and Shatrup Ghosh got into an argument with the police in Kaliganj

কালীগঞ্জ থানার আধিকারিকের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ালেন সেলিম, শতরূপ। ছবি: সংগৃহীত।

ভোটপ্রচারের শেষ দিনে তৃণমূল এবং সিপিএমের দুই মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নদিয়ার কালীগঞ্জ। কেন একই জায়গায়, একই সময়ে দুই রাজনৈতিক দলকে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হল, তা নিয়ে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে বচসায় জড়ালেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। ওই আধিকারিককে আঙুল উঁচিয়ে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যায় দু’জনকে। ‘তৃণমূলের দালাল’ বলেও কটাক্ষ করেন তাঁরা। পুলিশের সঙ্গে সিপিএম নেতাদের বাক্যবিনিময়ের জেরে উত্তেজনা ছড়ায়।

সোমবার কালীগঞ্জে দলীয় প্রার্থী সাবিনার সমর্থনে মিছিল করে সিপিএম। সেই মিছিলে ছিলেন সেলিম, শতরূপেরা। অভিযোগ, একই সময়ে ওই এলাকাতেই তৃণমূলের মিছিল বার হয়। দুই মিছিল মুখোমুখি এসে পড়ায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। তবে কালীগঞ্জ থানার আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছোতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।

এক পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন সেলিম, শতরূপ। প্রথমেই সেলিম প্রশ্ন তোলেন, কেন একই সময়ে একই জায়গায় দুই রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হল? সেলিম ওই পুলিশ আধিকারিকের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আপনি তৃণমূলের দালালি করেছেন। আপনার লোক এসে মাইক বন্ধ করতে বলল। আপনারা অপদার্থ। আপনারা থামাতে পারতেন। আমাদের মিটিংটা ভেস্তে দিয়েছেন আপনি।’’

কী ভাবে সভার অনুমতি পাওয়া যায়, ওই পুলিশ আধিকারিককে ‘বোঝান’ শতরূপ। তিনি বলেন, ‘‘কোনও দলের তরফে কোনও কর্মসূচির অনুমতি যখন চাওয়া হয়, তখন স্থানীয় থানার কাছে আগে বিষয়টা পাঠানো হয়। ওই সময়ে কে আগে অনুমতি চেয়েছে, তা জানায় স্থানীয় থানা। থানার এনওসি পাওয়ার পরেই বিডিও অফিস থেকে অনুমতি দেওয়া হয়। আপনি স্থানীয় থানার আইসি হয়ে একই জায়গায়, একই সময়ে কী ভাবে দুই দলের কর্মসূচির অনুমতি দিলেন?’’ তার পরেই ওই আধিকারিকের উদ্দেশে শতরূপ বলেন, ‘‘আপনি তৃণমূলের বাবার মাইনে পান না।’’

অভিযোগ, বিতর্কের মাঝে বক্তৃতা করতে উঠে সেলিম পুলিশের উদ্দেশে বলেন, ‘‘বিনা অনুমতিতে যাঁরা মাইক লাগিয়েছে, তা খুলে ফেলুন। নয়তো আপনাদের উর্দি খুলে দেব।’’ সময় যত গড়িয়েছে পরিস্থিতি তত ঘোরালো হয়ে উঠেছে। দুই সিপিএম নেতার মন্তব্যে বিতর্কের সৃষ্টিও হয়েছে।

অন্য দিকে, সোমবারের এই বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে ‘ষড়যন্ত্র দেখছেন কালীগঞ্জের নিহত তমন্নার মা তথা সিপিএম প্রার্থী সাবিনা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘তমন্নাকে যারা ফোনে হুমকি দিয়েছিল, তারা এখনও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর এই অশান্তি করার জন্য মুর্শিদাবাদ থেকে গুন্ডা ভাড়া করে আনা হয়েছে।’’ সোমবার কালীগঞ্জে তারা কর্মসূচি করতে না-পারায় এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবনাচিন্তা করছে সিপিএম।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
২ মিনিট আগে
CPIM Md Salim Shatarup Ghosh
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy