ভোটের দায়িত্বে উত্তরপ্রদেশ থেকে তাঁকে এ রাজ্যে নিয়ে এসেছে নির্বাচন কমিশন। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় তাঁকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। আর দায়িত্ব নিয়েই গর্জন শুরু করে দিলেন উত্তরপ্রদেশের ‘সিংহম’ অজয়পাল শর্মা। ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে দিলেন হুঁশিয়ারি। ‘সতর্কবার্তা’ দিয়ে রাখলেন প্রার্থীর উদ্দেশেও। সোমবার এমনই একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে (যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই উত্তরপ্রদেশের পুলিশকর্তাকে পাল্টা নিশানা শানাল তৃণমূল। ‘দুর্নীতি’ এবং ‘প্রতারণা’র অভিযোগে অজয়পালকে আক্রমণ শানিয়েছে রাজ্যের শাসকদল।
সোমবার বিকেলে অজয়পালের ওই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। ফলতায় তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ‘ধমক’ দিচ্ছেন আশপাশের জনতাকে। তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও ছিলেন। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আশপাশে যারা আছেন, ভাল করে বুঝে নিন— কেউ কোনও বদমায়েশি করলে, তাদের ঠিকঠাক দাওয়াই দেওয়া হবে। যদি কোনও জায়গা থেকে খবর আসে যে কেউ গোলমাল পাকানোর বা কাউকে বিরক্ত করার চেষ্টা করছেন, তাঁর ভাল ভাবে খবর নেব আমরা।”
এখানেই থামেননি উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ওই পুলিশকর্তা। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীরের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশেও মন্তব্য করেন তিনি। অজয়পাল বলেন, “জাহাঙ্গিরের বাড়ির লোকেরাও দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁকে ভাল ভাবে বুঝিয়ে দেবেন। বার বার খবর আসছে, তাঁর লোকেরা হুমকি দিচ্ছেন। এমন হলে ভাল করে খবর নেব। তার পরে কান্নাকাটি করা বা পস্তানো যাবে না।”
এই হুঁশিয়ারির ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই অজয়পালের বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চ়ড়িয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের দাবি, অজয়পাল উত্তরপ্রদেশের এক ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’। তিনি উত্তরপ্রদেশে ‘সিংহম’ নামেও পরিচিত। কিন্তু ওই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
তৃণমূলের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে বলা হয়, “অজয়পাল শর্মা ডায়মন্ড হারবারের নিরীহ মানুষদের ধমকাচ্ছে, চমকাচ্ছে, রাতের অন্ধকারে মানুষের বাড়িতে হানা দিচ্ছে। রাতের অন্ধকারে তল্লাশির নাম করে বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের সঙ্গে অশ্লীল ব্যবহার করছে। মহিলাদের গায়ে হাত দিচ্ছে। এই অজয়পাল শর্মা একটা রঙিন চরিত্র। ২০২০ সালের মার্চে দু’টি তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। যেখানে প্রথম তদন্তটি ছিল দুর্নীতির। দ্বিতীয় তদন্তটি ছিল বিশ্বাসভঙ্গের। একজন মহিলার বিশ্বাস অর্জন করে তাঁর সঙ্গে চিটিংবাজি, ফেরেববাজি করা।”
আরও পড়ুন:
রাজ্যের শাসকদলের দাবি, এক মহিলা অভিযোগ করেছিলেন, অন্য মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা লুকিয়ে অজয়পাল তাঁকে বিয়ে করে প্রতারণা করেছিলেন। এমনকি ওই মহিলা যখন পুলিশের শীর্ কর্তাদের কাছে অভিযোগ জানান, তখন তাঁকেই মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওই মহিলার।
সাংবাদিক বৈঠক ডেকে অজয়পালের উদ্দেশে তৃণমূল হুঁশিয়ারি দেয়, “আপনি যদি মনে করেন ৪ মে-র পর আপনি আপনার রাজ্যে ফেরত চলে যাবেন এবং সেখানে বিজেপির মালিকেরা আপনাকে বাঁচিয়ে নেবে— তা হলে আপনি ভুল করছেন। আমাদের নজর আছে আপনার উপরে। আপনি পালিয়ে বাঁচতে পারবেন না। আপনি যে রাজ্যে চলে যান, যে বিজেপি নেতার হাত আপনার মাথার উপরে থাকুক না কেন, আপনার নামে এফআইআর হবে। আপনার নামে চার্জশিট হবে। আপনাকে ঘেঁটি ধরে এ রাজ্যের আদালতে নিয়ে আসা হবে। আইনের সামনে আপনাকে ফেলা হবে। আইনের কঠোর থেকে কঠোর ব্যবস্থা আপনার বিরুদ্ধে নেওয়া হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত