Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভোটের পশ্চিমবঙ্গে গর্জন শুরু করলেন উত্তরপ্রদেশের ‘সিংহম’! তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ির সামনে হুঁশিয়ারি-ভিডিয়ো প্রকাশ‍্যে

সোমবার বিকেলে অজয়পালের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। ফলতায় তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ‘ধমক’ দিচ্ছেন আশপাশের জনতাকে। তৃণমূল প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশেও মন্তব্য করেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩৭
ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা।

ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। ছবি: সংগৃহীত।

ভোটের দায়িত্বে উত্তরপ্রদেশ থেকে তাঁকে এ রাজ্যে নিয়ে এসেছে নির্বাচন কমিশন। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় তাঁকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। আর দায়িত্ব নিয়েই গর্জন শুরু করে দিলেন উত্তরপ্রদেশের ‘সিংহম’ অজয়পাল শর্মা। ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে দিলেন হুঁশিয়ারি। ‘সতর্কবার্তা’ দিয়ে রাখলেন প্রার্থীর উদ্দেশেও। সোমবার এমনই একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে (যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই উত্তরপ্রদেশের পুলিশকর্তাকে পাল্টা নিশানা শানাল তৃণমূল। ‘দুর্নীতি’ এবং ‘প্রতারণা’র অভিযোগে অজয়পালকে আক্রমণ শানিয়েছে রাজ্যের শাসকদল।

সোমবার বিকেলে অজয়পালের ওই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। ফলতায় তৃণমূল প্রার্থীর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ‘ধমক’ দিচ্ছেন আশপাশের জনতাকে। তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও ছিলেন। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আশপাশে যারা আছেন, ভাল করে বুঝে নিন— কেউ কোনও বদমায়েশি করলে, তাদের ঠিকঠাক দাওয়াই দেওয়া হবে। যদি কোনও জায়গা থেকে খবর আসে যে কেউ গোলমাল পাকানোর বা কাউকে বিরক্ত করার চেষ্টা করছেন, তাঁর ভাল ভাবে খবর নেব আমরা।”

এখানেই থামেননি উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ওই পুলিশকর্তা। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীরের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশেও মন্তব্য করেন তিনি। অজয়পাল বলেন, “জাহাঙ্গিরের বাড়ির লোকেরাও দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁকে ভাল ভাবে বুঝিয়ে দেবেন। বার বার খবর আসছে, তাঁর লোকেরা হুমকি দিচ্ছেন। এমন হলে ভাল করে খবর নেব। তার পরে কান্নাকাটি করা বা পস্তানো যাবে না।”

এই হুঁশিয়ারির ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই অজয়পালের বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চ়ড়িয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের দাবি, অজয়পাল উত্তরপ্রদেশের এক ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’। তিনি উত্তরপ্রদেশে ‘সিংহম’ নামেও পরিচিত। কিন্তু ওই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

তৃণমূলের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে বলা হয়, “অজয়পাল শর্মা ডায়মন্ড হারবারের নিরীহ মানুষদের ধমকাচ্ছে, চমকাচ্ছে, রাতের অন্ধকারে মানুষের বাড়িতে হানা দিচ্ছে। রাতের অন্ধকারে তল্লাশির নাম করে বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের সঙ্গে অশ্লীল ব্যবহার করছে। মহিলাদের গায়ে হাত দিচ্ছে। এই অজয়পাল শর্মা একটা রঙিন চরিত্র। ২০২০ সালের মার্চে দু’টি তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। যেখানে প্রথম তদন্তটি ছিল দুর্নীতির। দ্বিতীয় তদন্তটি ছিল বিশ্বাসভঙ্গের। একজন মহিলার বিশ্বাস অর্জন করে তাঁর সঙ্গে চিটিংবাজি, ফেরেববাজি করা।”

রাজ্যের শাসকদলের দাবি, এক মহিলা অভিযোগ করেছিলেন, অন্য মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা লুকিয়ে অজয়পাল তাঁকে বিয়ে করে প্রতারণা করেছিলেন। এমনকি ওই মহিলা যখন পুলিশের শীর্ কর্তাদের কাছে অভিযোগ জানান, তখন তাঁকেই মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওই মহিলার।

সাংবাদিক বৈঠক ডেকে অজয়পালের উদ্দেশে তৃণমূল হুঁশিয়ারি দেয়, “আপনি যদি মনে করেন ৪ মে-র পর আপনি আপনার রাজ্যে ফেরত চলে যাবেন এবং সেখানে বিজেপির মালিকেরা আপনাকে বাঁচিয়ে নেবে— তা হলে আপনি ভুল করছেন। আমাদের নজর আছে আপনার উপরে। আপনি পালিয়ে বাঁচতে পারবেন না। আপনি যে রাজ্যে চলে যান, যে বিজেপি নেতার হাত আপনার মাথার উপরে থাকুক না কেন, আপনার নামে এফআইআর হবে। আপনার নামে চার্জশিট হবে। আপনাকে ঘেঁটি ধরে এ রাজ্যের আদালতে নিয়ে আসা হবে। আইনের সামনে আপনাকে ফেলা হবে। আইনের কঠোর থেকে কঠোর ব্যবস্থা আপনার বিরুদ্ধে নেওয়া হবে।”

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Police Observer
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy