পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার বিধানসভা ভোটের আগেই লোক ভবনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছিলেন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। এ বার সেই হেল্পলাইনের মেয়াদ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিল লোক ভবন। দ্বিতীয় দফার ভোটে তো বটেই, ভোটপরবর্তী পর্যায়েও পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য খোলা থাকবে লোক ভবনের হেল্পলাইন নম্বর। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য হিংসা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন বা অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও তার প্রতিকারের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে লোক ভবনের তরফে জানানো হয়, আগামী ১০ মে পর্যন্ত নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি ২৪x৭ হেল্পলাইন পরিষেবা চালু থাকবে। এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে যে কোনও ভোটার বা নাগরিক তাঁর অভিযোগ, আশঙ্কা বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিটি অভিযোগ সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের দিকেও নজর দেওয়া হবে। রাজ্যপাল রবির নির্দেশেই এই হেল্পলাইন চালু এবং তার মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ রয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
প্রাক্-নির্বাচন পর্ব থেকেই হিংসামুক্ত পরিবেশের পক্ষে সওয়াল করেছেন রাজ্যপাল। হেল্পলাইন চালুর উদ্যোগ তারই প্রতিফলন। ভয়-ভীতি ছাড়া সব নাগরিক যাতে সুষ্ঠু ভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। তবে শুধু নির্বাচন পর্বে নয়, ভোট মিটলেও এই পরিষেবা পাবেন রাজ্যবাসী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোটপরবর্তী হিংসার একাধিক ঘটনার সাক্ষী ছিল পশ্চিমবঙ্গ। সেই বিষয় মাথায় রেখেই এ বারের ভোট মেটার পরেও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিলেন রাজ্যপাল।
আরও পড়ুন:
লোক ভবনের তরফে জানানো হয়েছে, নাগরিকেরা একাধিক ফোন নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট ই-মেল আইডিতেও অভিযোগ বা তথ্য পাঠানো যাবে। হেল্পলাইন নম্বরগুলি হল: ০৩৩-২২০০ ১০২২, ০৩৩-২২০০ ১০২৩, ০৩৩-২২০০ ১০২৫, ০৩৩-২২০০ ১০২৬, ০৩৩-২২০০ ১০২৭, ০৩৩-২২০০ ১০২৮, ০৩৩-২২০০ ১০২৯, ০৩৩-২২০০ ১০৩২, ০৩৩-২২০০ ১০৩৬। ই-মেল: lokbhavanbengalhelpline@gmail.com।
লোক ভবনের এ ধরনের উদ্যোগ নতুন নয়। গত পঞ্চায়েত ভোটে হিংসা রুখতে এমনই একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৎকালীন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর নির্দেশে রাজভবনে (অধুনা লোক ভবন) চালু হয়েছিল শান্তিকক্ষ (পিস রুম)। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের সময়েও এই শান্তিকক্ষ চালু ছিল।