‘প্রভাবমুক্ত’ ভোটের আর্জি নানা পক্ষের, সরব কানহাইয়াও

প্রচারের শেষ দিনে শহর ও নানা জেলায় মিছিল, রোড-শো করেছেন বাম নেতারা। কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমার বলেছেন, কংগ্রেস ছাড়া বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই সম্ভব নয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:১৬
কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমার, এআইসিসি পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর, সুদীপ রায় বর্মণ প্রমুখ। কলকাতা প্রেস ক্লাবে।

কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমার, এআইসিসি পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর, সুদীপ রায় বর্মণ প্রমুখ। কলকাতা প্রেস ক্লাবে। — ফাইল চিত্র।

দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারের শেষ লগ্নে প্রভাবমুক্ত হয়ে ভোট দেওয়ার জন্য আম জনতার উদ্দেশে আবেদন জানাল বাম ও কংগ্রেস। সেই সঙ্গেই কলকাতায় এসে রাহুল গান্ধীর সুরেই কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমার বলেছেন, কংগ্রেস ছাড়া বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই সম্ভব নয়।

শেষ দফার নির্বাচন মূলত তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত এলাকায়। তার আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সমাজ মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন, ‘দিদির গুন্ডাদের নিয়ে চিন্তা করবেন না, নির্বাচন কমিশন প্রতিটি এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে। আমি বলে যাচ্ছি, নির্বাচনের পরে বিজেপি সরকার আসছে। তবুও ৬০ দিন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী এখানেই থাকবে’।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বাংলার পরে ‘টার্গেট দিল্লি’ বলছেন। কিন্তু কংগ্রেস ছাড়া মমতার এই দাবির বাস্তব ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন এআইসিসি-র তরফে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কানহাইয়া। বিজেপি ও তৃণমূলের রাজনীতির বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন তিনি। কলকাতা প্রেস ক্লাবে সোমবার কানহাইয়া বলেছেন, “উনি (মমতা) বলছেন, দিল্লিতে বিজেপিকে রুখবেন। কী ভাবে রুখবেন? কংগ্রেস ছাড়া বিজেপির সঙ্গে লড়াই আদৌ সম্ভব?” এই সূত্রেই বিজেপি, তৃণমূল, দু’পক্ষকেই নিশানা করে কানহাইয়ার সংযোজন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নৌকা-ভ্রমণ করার সময়ে আসলে দেখছিলেন, সরকারে এলে কোন কোন জমি তাঁর বন্ধুদের দেওয়া যায়! আর রাজ্য সরকারে যাঁরা আছেন, তাঁরা ছদ্ম-লড়াই লড়ছেন। দু’তরফেই ঘৃণার রাজনীতি হচ্ছে। তৃণমূল সরকারের শাসন রাজ্যের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছে।” রাজ্যের ‘বেহাল’ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থান, উন্নয়নের ‘অভাব’, এসআইআর-এ নাম বাদ নিয়েও সরব হয়েছেন কানহাইয়া। রাজ্যে কর্মসংস্থান, উন্নয়ন ও সম্প্রীতির প্রশ্নে বিকল্প হিসাবে কংগ্রেস কী কী করতে পারে, তা-ও এ দিন সবিস্তারে বলতে চেয়েছেন কানহাইয়া। রাজ্যে দলের পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীরের বক্তব্যে উঠে এসেছে রাজ্যে শিল্প ‘না-থাকায়’ শ্রমিকদের অন্য রাজ্যে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গ। একই বিষয়ে সরব হয়েছেন দলের নেতা সুদীপ রায় বর্মণ, রাজেশ ঠাকুর, অলকা লাম্বা, চরণ সিং সাপরা, সুজাতা পাল মালিয়া, মিতা চক্রবর্তীরাও।

প্রচারের শেষ দিনে শহর ও নানা জেলায় মিছিল, রোড-শো করেছেন বাম নেতারা। কলকাতার শ্যামপুকুর কেন্দ্রের ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী ঝুমা দাসের প্রচারে ছিলেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। বালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী আফরীন বেগমের (শিল্পী) রোড-শো’য় ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। শাসক দলের দিক থেকে বাধা-বিপত্তির অভিযোগ সত্ত্বেও শেষ দিন পর্যন্ত নানা মহল্লায় ঘুরে প্রচার চালিয়েছেন মানিকতলার কংগ্রেস প্রার্থী সুমন রায়চৌধুরী এবং সিপিআইয়ের মৌসুমী ঘোষ। পরে সুজনের আবেদন, ‘‘এক দিকে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, অন্য দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরা বলতে শুরু করেছেন, প্রথম দফাতেই তাঁদের সেঞ্চুরি পেরিয়ে গিয়েছে। মনস্তাত্ত্বিক ভাবে মানুষের উপরে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন ওঁরা। প্রভাবমুক্ত হয়ে দ্বিতীয় দফায় সকলকে ভোট দিতে আহ্বান জানাচ্ছি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজের দাবি নিয়ে তরুণ প্রজন্ম লড়াই করছে। বদলের নামে বদলার অভ্যাসও আমরা বদলাতে চাই। তৃণমূলের বিকল্প বিজেপি বা বিজেপির বিকল্প তৃণমূল নয়। বামেরা এ বার নির্ণায়ক শক্তি হবে।’’

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও নির্বাচকমণ্ডলীকে বার্তা দিয়েছেন। দলের বিধাননগর কার্যালয়ে এ দিন তিনি বলেছেন, ‘‘আকাশ নবান্নে নেমে আসতে পারে, গঙ্গার জল মহাকরণের দোতলায় পৌঁছাতে পারে, এমনকি একেনবাবুর মাথায় চুলও গজাতে পারে! কিন্তু তৃণমূল আর ক্ষমতায় ফিরবে না।” দ্বিতীয় দফার নির্বাচন প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “কোথাও কোথাও অশান্তির চেষ্টা হতে পারে, তবে আমরা সবাইকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা রক্তপাত চাই না। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং কমিশনের ভূমিকাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।” তাঁর সংযোজন, ‘‘সবাই সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে ভোট দিন। দেশের প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য একটি সুযোগ চেয়েছেন। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Congress Left

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy