দলে আলোচনা করে আরএসপি নেতৃত্বকে সবে সিপিএমের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী আসন পুরনো বাম শরিক দলকেই ছেড়ে দেওয়া হবে। কারণ, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে আগের রাতের বৈঠকে বাসন্তী ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিতই দিয়ে গিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) প্রতিনিধিরা। আরএসপি-কে আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে জানা গেল, বাসন্তীতে বুধবার প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে আইএসএফ!
এর পরে আর বিশেষ অপেক্ষা না-করে পাল্টা চাপের কৌশলে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিএম। সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার তিন আসন অশোকনগর, আমডাঙা ও বাদুড়িয়ায় আজ, বৃহস্পতিবারই প্রার্থী ঘোষণা করে দিতে পারেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তার মধ্যে আইএসএফ তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করলে ভাল। নচেৎ চাপ আরও বাড়িয়েই রাখবে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। প্রবল টানাপড়েনের মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় আরও পাঁচ আসন উলুবেড়িয়া পূর্ব, জগৎবল্লভপুর, বাসন্তী, মন্দিরবাজার ও মিনাখাঁয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে আইএসএফ। এর আগে আমডাঙা, অশোকনগর, বাদুড়িয়া, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, বসিরহাট উত্তরে তারা প্রার্থী দিয়েছিল। তার সঙ্গে মিনাখাঁ যোগ হওয়ায় উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিধানসভা ভোটে লাল ঝান্ডা থাকছে না! যা মেনে নিতে রাজি নয় সিপিএম। তা ছাড়া, বামেদের প্রার্থী ঘোষণার পরেও পাঁশকুড়া পশ্চিম, নন্দীগ্রাম ও মুরারইয়ে আইএসএফ প্রার্থী দিয়েছে।
আইএসএফের মনোভাবে ‘নমনীয়তা’র প্রেক্ষিতে কী করণীয়, সেই প্রশ্নে দীর্ঘ আলোচনা সেরে রেখেছেন সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, পরবর্তী পর্যায়ের প্রার্থী তালিকাও অনেকটাই তৈরি রাখা হয়েছে। সিপিএম নেতৃত্বের বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেসত্যাগী আরাবুল ইসলামকে ক্যানিং পূর্ব আসনে প্রার্থী করেছে আইএসএফ। ইতিহাস মনে রেখে আরাবুলের পক্ষে এখন জোটসঙ্গী দলের হয়ে প্রচার করা সিপিএমের জন্য প্রবল বিড়ম্বনা। তাই আইএসএফের সিদ্ধান্ত বদল না-হলে আরাবুলের কেন্দ্রে প্রার্থী দাঁড় করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সিপিএম।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের বক্তব্য, ‘‘বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জোট আমরা সব সময়েই চেয়েছি। কিন্তু তার জন্য সকলকেই বাস্তববাদী হতে হবে। বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বারবার অনুরোধ করেছেন আইএসএফ নেতৃত্বকে। একতরফা ভাবে কেউ সিদ্ধান্ত নিতে থাকলে আমাদেরও পদক্ষেপের কথা ভাবতেই হবে।’’ পক্ষাম্তরে, আইএসএফের চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকীর যুক্তি, বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোটের স্বার্থেই তাঁরা আসনের ক্ষেত্রে ‘সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার’ করেছেন। তবে গত দু’দিন সিপিএমের সঙ্গে আলোচনায় নওশাদ নিজে আসছেন না, প্রকাশ্যে সমঝোতা নিয়ে মুখও খুলছেন না।
বাম সূত্রের খবর, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাম শরিক আরএসপি-র তরফে সিপিএমের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য বোলপুর, বাসন্তী, নাকাশিপাড়া (রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের বদলে), ভগবানপুর (আলিপুরদুয়ারের বদলে) ও মিনাখাঁ কেন্দ্র ছেড়ে দেওয়া হোক। এর মধ্যে বোলপুর, বাসন্তী ও মিনাখাঁয় প্রার্থী দিয়ে রেখেছে আইএসএফ। তবে বোলপুরে আইএসএফ আগে প্রার্থী ঘোষণা করায় দোলাচলে পড়েছেন সিপিএম নেতৃত্ব।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)